আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ

২২. অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার

হাদীস নং: ৪৪৬৫
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
সত্যাশ্রয়ের প্রতি অনুপ্রেরণা এবং মিথ্যাশ্রয়ের প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৪৪৬৫. হযরত আবদুল্লাহ্ ইবন উমর (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: যদি তোমার মধ্যে চারটি জিনিস পাওয়া যায, তবে দুনিয়ার সবকিছু ধ্বংস হলেও তোমার কোন ক্ষতি হবে না। তা হলঃ ১. আমানত রক্ষা করা ২. সচ্চরিত্রবান হওয়া ৩. সত্যবাদী হওয়া এবং ৪. হালাল খানা খাওয়া।
(আহমাদ, ইব্‌ন আবূদ দুনিয়া, তাবারানী এবং বায়হাকী কয়েকটি উত্তম সনদে বর্ণনা করেন।)
كتاب الأدب
التَّرْغِيب فِي الصدْق والترهيب من الْكَذِب
4465- وَعَن عبد الله بن عمر رَضِي الله عَنْهُمَا أَن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ أَربع إِذا كن فِيك فَلَا عَلَيْك مَا فاتك من الدُّنْيَا حفظ أَمَانَة وَصدق حَدِيث وَحسن خَلِيقَة وعفة فِي طعمة

رَوَاهُ أَحْمد وَابْن أبي الدُّنْيَا وَالطَّبَرَانِيّ وَالْبَيْهَقِيّ بأسانيد حَسَنَة

হাদীসের ব্যাখ্যা:

দুনিয়া ও আখিরাতের মঙ্গল চারটা জিনিসের মধ্যে রয়েছে। সারা দুনিয়ায় ধন-দৌলতের বিনিময়ে এ চারটা অমূল্য সম্পদ হাসিল করা অনেক শ্রেয়।

আমানতের হিফাযতকারী ব্যক্তি দুনিয়া ও আখিরাতে কখনো লজ্জিত হবে না। আল্লাহ তাকে দুনিয়া ও আখিরাতে সম্মান দান করবেন। আল্লাহ ও তাঁর বান্দাদের হক যথাযথভাবে আদায় করার অর্থ হল আমানতের হিফাযত করা। আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের সুন্নত মুসলিম উম্মতের নিকট এক বিশেষ আমানত। বিশ্ববাসীর কাছে তা পৌছে দেয়া প্রত্যেক মুসলমানের যিম্মাদারী। কিয়ামতের দিন যেভাবে বান্দার হক সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে, ঠিক সেভাবে এ যিম্মাদারী সম্পর্কেও মুসলমানদেরকে জিজ্ঞেস করা হবে।

সত্যবাদিতা মু'মিনের লেবাস। যেরূপ পোশাকের মধ্যে মানুষের সভ্যতার পরিচয় পাওয়া যায়, সেরূপ সত্যবাদিতার মধ্যে বান্দার ঈমানের চিহ্ন রয়েছে। সত্যবাদী ব্যক্তি কিয়ামতের দিন আম্বিয়া ও শহীদদের জামাআতে শামিল থাকবেন।

আখলাকের সৌন্দর্যের দ্বারা মানুষের প্রেম-প্রীতি ও সম্মান হাসিল করা যায়। যে বান্দা ঈমানদারকে ভালবাসেন, আল্লাহও তাকে ভালবাসেন। আখলাকের সৌন্দর্য তামাম মঙ্গল লুটে নিয়েছে বলে নবী করীম ﷺ অপর এক হাদীসে উল্লেখ করেছেন।

খাদ্যের ব্যাপারে সাবধানতা ও সতর্কতা অবলম্বনকারী ব্যক্তির মর্যাদাও খুব বেশি। হারাম খাদ্য গ্রহণকারী ইবাদত-বন্দেগীতে মনোযোগী হতে পারে না। যাদের দু'আ কবুল হয় না তাদের মধ্যে হারাম খাদ্য গ্রহণকারী শামিল রয়েছে। হালাল খাদ্যের অভাব হলে হারাম খাদ্যের দ্বারা পেট ভরা উচিত নয়। কারণ খাদ্যের বিশুদ্ধতার উপর বান্দার ইবাদতের বিশুদ্ধতা নির্ভর করে এবং ইবাদত বিশুদ্ধ না হলে বিশুদ্ধতার উপর বান্দার ইবাদতের বিশুদ্ধতা নির্ভর করে এবং ইবাদত বিশুদ্ধ না হলে আখিরাতের যিন্দেগী বিলকুল বরবাদ ও বিনষ্ট হবে। খাদ্যের ব্যাপারে লক্ষণীয় বিষয় হল, খাদ্য হালাল উপায়ে অর্জন করতে হবে, খাদ্য বস্তু হালাল হতে হবে, হালাল খাদ্যবস্তু যথা পশুপাখি হালাল পদ্ধতিতে যবেহ করতে হবে, গায়রুল্লাহর নামে যবেহকৃত পশুর গোশত কোনভাবে খাওয়া যাবে না। অনেকে অজ্ঞতার কারণে মনে করে, এ ধরনের গোশত বিসমিল্লাহ বলে খেয়ে নিলে বৈধ হবে। এটা ঠিক নয়। সন্দেহযুক্ত খাদ্য থেকে দূরে থাকতে হবে। খাদ্যের ব্যাপারে যিনি এসব মেনে চলেন, তিনি প্রকৃত সতর্কতা অবলম্বনকারী এবং তিনি প্রকৃত সম্মানের অধিকারীও বটে। আশা করা যায়, কিয়ামতের দিন তিনি খাদ্যের ব্যাপারে কোন প্রশ্নের সম্মুখীন হবেন না।

উপরে আলোচিত চারটা জিনিসের অধিকারী ব্যক্তি দুনিয়ার ধন-দৌলত থেকে বঞ্চিত হলেও দুর্ভাগ্যবান নন। দুনিয়ায় যিন্দেগীতে ধন-দৌলতের দ্বারা যে সম্মান হাসিল করা যায় না, তিনি যে সম্মান হাসিল করেন এবং আখিরাতের যিন্দেগীতে তিনি এমন নিয়ামত লাভ করেন যার সামান্য অংশও দুনিয়ার তামাম সম্পদের দ্বারা হাসিল করা যাবে না। তাই দুনিয়ার যিন্দেগীতে সারা দুনিয়ার ধন-দৌলত থেকে বঞ্চিত হলেও তিনি দুনিয়া ও আখিরাতে সফলকাম।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান