আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ
২২. অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
হাদীস নং: ৪৬৩৪
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
যাদু-টোনা করা, বালি-কংকর ইত্যাদির সাহায্য গ্রহণকারী গণক জ্যোতিষীর কাছে গমন ও
তাদেরকে বিশ্বাস করার ব্যাপারে সতর্কীকরণ
তাদেরকে বিশ্বাস করার ব্যাপারে সতর্কীকরণ
৪৬৩৪. উবায়দ ইবন উমায়ের লায়সী (র)-এর সূত্রে তাঁর পিতা থেকে বর্ণিত আছে যে, এক ব্যক্তি বলল: ইয়া
রাসূলাল্লাহ্ (ﷺ)। কবীরা গুণাহ কয়টি? উত্তরে তিনি বললেন, নয়টি। তন্মধ্যে সবচেয়ে বড় হল আল্লাহর সাথে শরীক স্থাপন করা। (তাছাড়া) মু'মিনকে অন্যায়ভাবে হত্যা করা, জিহাদ থেকে পলায়ন করা, সতী-সাধ্বী নারীর প্রতি অপবাদ দেওয়া, যাদু-টোনা করা, ইয়াতীমের সম্পদ আত্মসাৎ করা এবং সুদ খাওয়া...........।*
(তাবারানী পূর্বে উল্লিখিত 'জিহাদ থেকে পলায়ন' সম্পর্কিত একটি হাদীসের অংশ হিসেবে এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। ইবন হিব্বান ইয়ামানবাসীর প্রতি ফরয, সুন্নাত, দিয়াত ও যাকাত সম্পর্কে লিখিত নবী (ﷺ) -এর পত্র সম্বলিত আবূ বকর ইবন মুহাম্মদ ইবন আমর ইবন হাযম (র)-এর বর্ণিত হাদীসটি তাঁর পিতার মধ্যস্থতায় তাঁর পিতামহ থেকে নিজ সহীহ-তে বর্ণনা করেছেন। তাতে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, কিয়ামতের দিন আল্লাহর কাছে সবচেয়ে জঘন্য কবীরা গুণাহরূপে সাব্যস্ত হবে, আল্লাহর সাথে শরীক স্থাপন করা, (তাছাড়া) মু'মিন ব্যক্তিকে অন্যায়ভাবে হত্যা করা, যুদ্ধের দিন জিহাদ থেকে পলায়ন করা, পিতামাতার অবাধ্য হওয়া, সতী- সাধ্বী নারীর প্রতি অপবাদ দেওয়া, যাদুটোনা শিক্ষা করা, সুদ খাওয়া এবং ইয়াতীমের সম্পদ আত্মসাৎ করা।)
*হাদীসের এ অংশে সাতটি কবীরা গুণাহের উল্লেখ করা হয়েছে। অবশিষ্ট দু'টি এই- ১. মুসলমান পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া, ২. হারাম শরীফকে শিকার, হত্যা ও বৃক্ষকর্তন ইত্যাদি নিষিদ্ধ কাজের জন্য হালাল মনে করা।
রাসূলাল্লাহ্ (ﷺ)। কবীরা গুণাহ কয়টি? উত্তরে তিনি বললেন, নয়টি। তন্মধ্যে সবচেয়ে বড় হল আল্লাহর সাথে শরীক স্থাপন করা। (তাছাড়া) মু'মিনকে অন্যায়ভাবে হত্যা করা, জিহাদ থেকে পলায়ন করা, সতী-সাধ্বী নারীর প্রতি অপবাদ দেওয়া, যাদু-টোনা করা, ইয়াতীমের সম্পদ আত্মসাৎ করা এবং সুদ খাওয়া...........।*
(তাবারানী পূর্বে উল্লিখিত 'জিহাদ থেকে পলায়ন' সম্পর্কিত একটি হাদীসের অংশ হিসেবে এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। ইবন হিব্বান ইয়ামানবাসীর প্রতি ফরয, সুন্নাত, দিয়াত ও যাকাত সম্পর্কে লিখিত নবী (ﷺ) -এর পত্র সম্বলিত আবূ বকর ইবন মুহাম্মদ ইবন আমর ইবন হাযম (র)-এর বর্ণিত হাদীসটি তাঁর পিতার মধ্যস্থতায় তাঁর পিতামহ থেকে নিজ সহীহ-তে বর্ণনা করেছেন। তাতে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, কিয়ামতের দিন আল্লাহর কাছে সবচেয়ে জঘন্য কবীরা গুণাহরূপে সাব্যস্ত হবে, আল্লাহর সাথে শরীক স্থাপন করা, (তাছাড়া) মু'মিন ব্যক্তিকে অন্যায়ভাবে হত্যা করা, যুদ্ধের দিন জিহাদ থেকে পলায়ন করা, পিতামাতার অবাধ্য হওয়া, সতী- সাধ্বী নারীর প্রতি অপবাদ দেওয়া, যাদুটোনা শিক্ষা করা, সুদ খাওয়া এবং ইয়াতীমের সম্পদ আত্মসাৎ করা।)
*হাদীসের এ অংশে সাতটি কবীরা গুণাহের উল্লেখ করা হয়েছে। অবশিষ্ট দু'টি এই- ১. মুসলমান পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া, ২. হারাম শরীফকে শিকার, হত্যা ও বৃক্ষকর্তন ইত্যাদি নিষিদ্ধ কাজের জন্য হালাল মনে করা।
كتاب الأدب
التَّرْهِيب من السحر وإتيان الْكُهَّان والعرافين والمنجمين بالرمل والحصى أَو نَحْو ذَلِك وتصديقهم
4634- وَعَن عبيد بن عُمَيْر اللَّيْثِيّ عَن أَبِيه أَن رجلا قَالَ يَا رَسُول الله وَكم الْكَبَائِر قَالَ تسع أعظمهن الْإِشْرَاك بِاللَّه وَقتل الْمُؤمن بِغَيْر حق والفرار من الزَّحْف وَقذف المحصنة وَالسحر وَأكل مَال الْيَتِيم وَأكل الرِّبَا الحَدِيث
رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ فِي حَدِيث تقدم فِي الْفِرَار من الزَّحْف
وروى ابْن حبَان فِي صَحِيحه حَدِيث أبي بكر بن مُحَمَّد بن عَمْرو بن حزم عَن أَبِيه عَن جده فِي كتاب النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم الَّذِي كتبه إِلَى أهل الْيمن فِي الْفَرَائِض وَالسّنَن والديات وَالزَّكَاة فَذكر فِيهِ وَإِن أكبر الْكَبَائِر عِنْد الله يَوْم الْقِيَامَة الْإِشْرَاك بِاللَّه وَقتل النَّفس المؤمنة بِغَيْر حق والفرار فِي سَبِيل الله يَوْم الزَّحْف وعقوق الْوَالِدين وَرمي المحصنة وَتعلم السحر وَأكل الرِّبَا وَأكل مَال الْيَتِيم
رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ فِي حَدِيث تقدم فِي الْفِرَار من الزَّحْف
وروى ابْن حبَان فِي صَحِيحه حَدِيث أبي بكر بن مُحَمَّد بن عَمْرو بن حزم عَن أَبِيه عَن جده فِي كتاب النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم الَّذِي كتبه إِلَى أهل الْيمن فِي الْفَرَائِض وَالسّنَن والديات وَالزَّكَاة فَذكر فِيهِ وَإِن أكبر الْكَبَائِر عِنْد الله يَوْم الْقِيَامَة الْإِشْرَاك بِاللَّه وَقتل النَّفس المؤمنة بِغَيْر حق والفرار فِي سَبِيل الله يَوْم الزَّحْف وعقوق الْوَالِدين وَرمي المحصنة وَتعلم السحر وَأكل الرِّبَا وَأكل مَال الْيَتِيم
হাদীসের ব্যাখ্যা:
এ হাদীছে যেগুলো বেশি বড় গুনাহ, সেরকম কয়েকটি গুনাহ উল্লেখ করা হয়েছে। বোঝা গেল মৌলিকভাবে গুনাহ দুই প্রকার- সগীরা গুনাহ (ছোট গুনাহ) ও কবীরা গুনাহ (বড় গুনাহ)। আবার বড় গুনাহের মধ্যেও কিছু আছে অধিকতর বড়।
কেউ কেউ সগীরা গুনাহ'র অস্তিত্ব অস্বীকার করেছেন। তাদের মতে সব গুনাহই কবীরা। কিন্তু কুরআন-হাদীছের ভাষ্যের প্রতি লক্ষ করলে তা সঠিক মনে হয় না। কেননা কুরআন মাজীদে আল্লাহ তাআলা স্পষ্টভাবেই কবীরা গুনাহ'র উল্লেখ করেছেন। যেমন ইরশাদ হয়েছে-
إِنْ تَجْتَنِبُوا كَبَائِرَ مَا تُنْهَوْنَ عَنْهُ نُكَفِّرْ عَنْكُمْ سَيِّئَاتِكُمْ وَنُدْخِلْكُمْ مُدْخَلًا كَرِيمًا
‘তোমাদেরকে যেই বড় বড় গুনাহ করতে নিষেধ করা হয়েছে, তোমরা যদি তা পরিহার করে চল, তবে আমি নিজেই তোমাদের ছোট ছোট গুনাহ তোমাদের থেকে মিটিয়ে দেব এবং তোমাদেরকে এক মর্যাদাপূর্ণ স্থানে দাখিল করব।১২৪
আরও ইরশাদ হয়েছে الَّذِينَ يَجْتَنِبُونَ كَبَائِرَ الْإِثْمِ وَالْفَوَاحِشَ إِلَّا اللَّمَمَ إِنَّ رَبَّكَ وَاسِعُ الْمَغْفِرَةِ “সেইসব লোককে, যারা বড়-বড় গুনাহ ও অশ্লীল কাজ থেকে বেঁচে থাকে, অবশ্য কদাচিৎ পিছলে পড়লে সেটা ভিন্ন কথা। নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালক প্রশস্ত ক্ষমাশীল।
এর দ্বারা স্পষ্ট হয়ে যায় কতক গুনাহ ছোটও আছে। তবে এ কথা সত্য যে, ছোট গুনাহকে তাচ্ছিল্য করলে তখন আর তা ছোট থাকে না। কেননা এটা আল্লাহ তাআলার প্রতি ধৃষ্টতা প্রদর্শনের নামান্তর।
কবীরা গুনাহ কাকে বলে, উলামায়ে কেরাম তা বিভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। তবে সব ব্যাখ্যারই সারকথা একই। তা এই যে, কুরআন ও হাদীছে যেসকল গুনাহকে কবীরা গুনাহ, জুলুম, ধ্বংসাত্মক ইত্যাদি গুরুতরতাজ্ঞাপক বিশেষণে বিশেষিত করা হয়েছে কিংবা যেসব অপরাধ সম্পর্কে কঠিন শাস্তির সতর্কবাণী ঘোষিত হয়েছে সেগুলো কবীরা গুনাহ।
ইমামুল হারামায়ন রহ. বলেন, যেসকল অপরাধ দীনের প্রতি ব্যক্তির বিশেষ তোয়াক্কা না থাকা এবং দীনদারীতে তার ঘাটতি থাকার ইঙ্গিত বহন করে সেগুলোই কবীরা গুনাহ।
কোন্ কোন্ অপরাধ কবীরা গুনাহ এ সম্পর্কে উলামায়ে কেরামের অনেকেই পৃথক কিতাব লিখেছেন। তার মধ্যে সর্বাপেক্ষা সুন্দর ও পূর্ণাঙ্গ হলো মুহাক্কিক শিহাবুদ্দীন আহমাদ ইবন হাজার হায়তামী রহ.-এর লেখা আয-যাওয়াজির ‘আন ইকতিরাফিল কাবাইর।
আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরীক করা
সর্বপ্রথম বলা হয়েছে— (আল্লাহর সঙ্গে শরীক করা)। এর দ্বারা বোঝানে উদ্দেশ্য সর্বপ্রকার কুফরী কর্ম। যেমন আল্লাহ তাআলার অস্তিত্ব অস্বীকার করা, দেব-দেবীর পূজা করা, আল্লাহর দেওয়া দীন প্রত্যাখ্যান করা, নবী-রাসূলকে অমান্য করা, কুরআন মাজীদকে আল্লাহ তাআলার কালাম বলে স্বীকার না করা ইত্যাদি।
যে ব্যক্তি শিরকে লিপ্ত হয় এবং মুশরিক অবস্থায় মারা যায়, তার পরিণাম স্থায়ী জাহান্নামবাস। তাকে কখনও ক্ষমা করা হবে না। আল্লাহ তাআলা বলেন إِنَّ اللَّهَ لَا يَغْفِرُ أَنْ يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَلِكَ لِمَنْ يَشَاءُ وَمَنْ يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدِ افْتَرَى إِثْمًا عَظِيمًا ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ এ বিষয়কে ক্ষমা করেন না যে, তার সঙ্গে কাউকে শরীক করা হবে। এর চেয়ে নিচের যে-কোনও বিষয়ে যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন। যে ব্যক্তি আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরীক করে, সে এক গুরুতর পাপে লিপ্ত হলো।
আরও ইরশাদ হয়েছে إِنَّهُ مَنْ يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدْ حَرَّمَ اللَّهُ عَلَيْهِ الْجَنَّةَ وَمَأْوَاهُ النَّارُ 'নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি আল্লাহর সঙ্গে (কাউকে) শরীক করে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাত হারাম করে দিয়েছেন। তার ঠিকানা জাহান্নাম।
বিভিন্ন হাদীছে আরও কিছু গুনাহকে কবীরা গুনাহ সাব্যস্ত করা হয়েছে। বোঝা যাচ্ছে কবীরা গুনাহ অনেকগুলোই আছে। তা সত্ত্বেও এ হাদীছে কেবল এগুলোই উল্লেখ করা হয়েছে। এটা ইসলামী শিক্ষার একটি পদ্ধতি যে, কোনও বিষয়েরই সবগুলো কথা একসঙ্গে বলা হয় না, যাতে শ্রোতার কাছে চাপবোধ না হয়। বরং ব্যক্তি ও স্থান অনুযায়ী যখন যা প্রয়োজন বোধ হত, তখন সে সম্পর্কে শিক্ষাদান করতেন।
উল্লেখ্য, বড় গুনাহগুলো পৃথকভাবে উল্লেখ করে দেওয়ার উদ্দেশ্য এছাড়া আর কিছুই নয় যে, আমরা যেন সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে এগুলো থেকে বেঁচে থাকার চেষ্টা করি। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে তাওফীক দান করুন।
হাদীস থেকে শিক্ষণীয়ঃ
ক. এ হাদীছে সর্বাপেক্ষা বড় যে গুনাহগুলো উল্লেখ করা হলো, আমাদেরকে অবশ্যই তা থেকে বেঁচে থাকতে হবে।
কেউ কেউ সগীরা গুনাহ'র অস্তিত্ব অস্বীকার করেছেন। তাদের মতে সব গুনাহই কবীরা। কিন্তু কুরআন-হাদীছের ভাষ্যের প্রতি লক্ষ করলে তা সঠিক মনে হয় না। কেননা কুরআন মাজীদে আল্লাহ তাআলা স্পষ্টভাবেই কবীরা গুনাহ'র উল্লেখ করেছেন। যেমন ইরশাদ হয়েছে-
إِنْ تَجْتَنِبُوا كَبَائِرَ مَا تُنْهَوْنَ عَنْهُ نُكَفِّرْ عَنْكُمْ سَيِّئَاتِكُمْ وَنُدْخِلْكُمْ مُدْخَلًا كَرِيمًا
‘তোমাদেরকে যেই বড় বড় গুনাহ করতে নিষেধ করা হয়েছে, তোমরা যদি তা পরিহার করে চল, তবে আমি নিজেই তোমাদের ছোট ছোট গুনাহ তোমাদের থেকে মিটিয়ে দেব এবং তোমাদেরকে এক মর্যাদাপূর্ণ স্থানে দাখিল করব।১২৪
আরও ইরশাদ হয়েছে الَّذِينَ يَجْتَنِبُونَ كَبَائِرَ الْإِثْمِ وَالْفَوَاحِشَ إِلَّا اللَّمَمَ إِنَّ رَبَّكَ وَاسِعُ الْمَغْفِرَةِ “সেইসব লোককে, যারা বড়-বড় গুনাহ ও অশ্লীল কাজ থেকে বেঁচে থাকে, অবশ্য কদাচিৎ পিছলে পড়লে সেটা ভিন্ন কথা। নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালক প্রশস্ত ক্ষমাশীল।
এর দ্বারা স্পষ্ট হয়ে যায় কতক গুনাহ ছোটও আছে। তবে এ কথা সত্য যে, ছোট গুনাহকে তাচ্ছিল্য করলে তখন আর তা ছোট থাকে না। কেননা এটা আল্লাহ তাআলার প্রতি ধৃষ্টতা প্রদর্শনের নামান্তর।
কবীরা গুনাহ কাকে বলে, উলামায়ে কেরাম তা বিভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। তবে সব ব্যাখ্যারই সারকথা একই। তা এই যে, কুরআন ও হাদীছে যেসকল গুনাহকে কবীরা গুনাহ, জুলুম, ধ্বংসাত্মক ইত্যাদি গুরুতরতাজ্ঞাপক বিশেষণে বিশেষিত করা হয়েছে কিংবা যেসব অপরাধ সম্পর্কে কঠিন শাস্তির সতর্কবাণী ঘোষিত হয়েছে সেগুলো কবীরা গুনাহ।
ইমামুল হারামায়ন রহ. বলেন, যেসকল অপরাধ দীনের প্রতি ব্যক্তির বিশেষ তোয়াক্কা না থাকা এবং দীনদারীতে তার ঘাটতি থাকার ইঙ্গিত বহন করে সেগুলোই কবীরা গুনাহ।
কোন্ কোন্ অপরাধ কবীরা গুনাহ এ সম্পর্কে উলামায়ে কেরামের অনেকেই পৃথক কিতাব লিখেছেন। তার মধ্যে সর্বাপেক্ষা সুন্দর ও পূর্ণাঙ্গ হলো মুহাক্কিক শিহাবুদ্দীন আহমাদ ইবন হাজার হায়তামী রহ.-এর লেখা আয-যাওয়াজির ‘আন ইকতিরাফিল কাবাইর।
আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরীক করা
সর্বপ্রথম বলা হয়েছে— (আল্লাহর সঙ্গে শরীক করা)। এর দ্বারা বোঝানে উদ্দেশ্য সর্বপ্রকার কুফরী কর্ম। যেমন আল্লাহ তাআলার অস্তিত্ব অস্বীকার করা, দেব-দেবীর পূজা করা, আল্লাহর দেওয়া দীন প্রত্যাখ্যান করা, নবী-রাসূলকে অমান্য করা, কুরআন মাজীদকে আল্লাহ তাআলার কালাম বলে স্বীকার না করা ইত্যাদি।
যে ব্যক্তি শিরকে লিপ্ত হয় এবং মুশরিক অবস্থায় মারা যায়, তার পরিণাম স্থায়ী জাহান্নামবাস। তাকে কখনও ক্ষমা করা হবে না। আল্লাহ তাআলা বলেন إِنَّ اللَّهَ لَا يَغْفِرُ أَنْ يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَلِكَ لِمَنْ يَشَاءُ وَمَنْ يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدِ افْتَرَى إِثْمًا عَظِيمًا ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ এ বিষয়কে ক্ষমা করেন না যে, তার সঙ্গে কাউকে শরীক করা হবে। এর চেয়ে নিচের যে-কোনও বিষয়ে যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন। যে ব্যক্তি আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরীক করে, সে এক গুরুতর পাপে লিপ্ত হলো।
আরও ইরশাদ হয়েছে إِنَّهُ مَنْ يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدْ حَرَّمَ اللَّهُ عَلَيْهِ الْجَنَّةَ وَمَأْوَاهُ النَّارُ 'নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি আল্লাহর সঙ্গে (কাউকে) শরীক করে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাত হারাম করে দিয়েছেন। তার ঠিকানা জাহান্নাম।
বিভিন্ন হাদীছে আরও কিছু গুনাহকে কবীরা গুনাহ সাব্যস্ত করা হয়েছে। বোঝা যাচ্ছে কবীরা গুনাহ অনেকগুলোই আছে। তা সত্ত্বেও এ হাদীছে কেবল এগুলোই উল্লেখ করা হয়েছে। এটা ইসলামী শিক্ষার একটি পদ্ধতি যে, কোনও বিষয়েরই সবগুলো কথা একসঙ্গে বলা হয় না, যাতে শ্রোতার কাছে চাপবোধ না হয়। বরং ব্যক্তি ও স্থান অনুযায়ী যখন যা প্রয়োজন বোধ হত, তখন সে সম্পর্কে শিক্ষাদান করতেন।
উল্লেখ্য, বড় গুনাহগুলো পৃথকভাবে উল্লেখ করে দেওয়ার উদ্দেশ্য এছাড়া আর কিছুই নয় যে, আমরা যেন সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে এগুলো থেকে বেঁচে থাকার চেষ্টা করি। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে তাওফীক দান করুন।
হাদীস থেকে শিক্ষণীয়ঃ
ক. এ হাদীছে সর্বাপেক্ষা বড় যে গুনাহগুলো উল্লেখ করা হলো, আমাদেরকে অবশ্যই তা থেকে বেঁচে থাকতে হবে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ রিয়াযুস সালিহীন (অনুবাদ- মাওলানা আবুল বাশার মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম হাফি.)