আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ
২৩. অধ্যায়ঃ তাওবা ও যুহদ
হাদীস নং: ৪৮৪২
অধ্যায়ঃ তাওবা ও যুহদ
দারিদ্র্যও স্বল্পসামগ্রীর প্রতি উৎসাহ প্রদান এবং ফকীর-মিসকীন ও দুর্বলদের মর্যাদা এবং তাদেরকে ভালবাসা ও তাদের সাথে উঠাবসা করা
৪৮৪২. হযরত আবদুল্লাহ ইবন উমর (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) -কে বলতে শুনেছি, আমার দরিদ্র উম্মাতগণ ধনী উন্মাতগণের চল্লিশ বছর পূর্বে জান্নাতে প্রবেশ করবে। বলা হল, আমাদেরকে তাদের পরিচয় দিন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তাদের কাপড় অপরিচ্ছন্ন, তাদের মাথার চুল উস্কো খুস্কো,
তাদেরকে দরজাসমূহে প্রবেশ করার অনুমতি দেওয়া হয় না, তারা স্বাচ্ছন্দ্য শালিনী নারীদেরকে বিবাহ করে না, পূর্ব থেকে পশ্চিম পর্যন্ত সমগ্র দেশ তাদের সাহায্যে রক্ষিত হয়, তাদের কাছে প্রাপ্য তারা পুরোপুরি আদায় করে, অথচ তাদের প্রাপ্য তাদেরকে প্রদান করা হয় না।
(তাবারানী 'আল-কাবীর' ও 'আল-আওসাতে' হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। এর সকল রাবী নির্ভরযোগ্য। মুসলিম (র) হাদীসটি সংক্ষিপ্তকারে বর্ণনা করেছেন, (তাতে বলা হয়েছে) "আমি রাসূলাল্লাহ্ (ﷺ) -কে বলতে শুনেছি, আমার দরিদ্র মুহাজির উম্মাতগণ কিয়ামতের দিন ধনীদের চেয়ে চল্লিশ বছর আগে থাকবে।" ইবন হিব্বানও তাঁর সহীহ-এ হাদীসটি সংক্ষিপ্তাকারে বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি ) باربعين خريفا পরিবর্তে( باربعين عاما বলেছেন।)
তাদেরকে দরজাসমূহে প্রবেশ করার অনুমতি দেওয়া হয় না, তারা স্বাচ্ছন্দ্য শালিনী নারীদেরকে বিবাহ করে না, পূর্ব থেকে পশ্চিম পর্যন্ত সমগ্র দেশ তাদের সাহায্যে রক্ষিত হয়, তাদের কাছে প্রাপ্য তারা পুরোপুরি আদায় করে, অথচ তাদের প্রাপ্য তাদেরকে প্রদান করা হয় না।
(তাবারানী 'আল-কাবীর' ও 'আল-আওসাতে' হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। এর সকল রাবী নির্ভরযোগ্য। মুসলিম (র) হাদীসটি সংক্ষিপ্তকারে বর্ণনা করেছেন, (তাতে বলা হয়েছে) "আমি রাসূলাল্লাহ্ (ﷺ) -কে বলতে শুনেছি, আমার দরিদ্র মুহাজির উম্মাতগণ কিয়ামতের দিন ধনীদের চেয়ে চল্লিশ বছর আগে থাকবে।" ইবন হিব্বানও তাঁর সহীহ-এ হাদীসটি সংক্ষিপ্তাকারে বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি ) باربعين خريفا পরিবর্তে( باربعين عاما বলেছেন।)
كتاب التوبة والزهد
التَّرْغِيب فِي الْفقر وَقلة ذَات الْيَد وَمَا جَاءَ فِي فضل الْفُقَرَاء وَالْمَسَاكِين وَالْمُسْتَضْعَفِينَ وحبهم ومجالستهم
4842- وَعَن عبد الله بن عمر رَضِي الله عَنْهُمَا قَالَ سَمِعت رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم يَقُول يدْخل فُقَرَاء أمتِي الْجنَّة قبل أغنيائهم بِأَرْبَعِينَ خَرِيفًا فَقيل صفهم لنا قَالَ الدنسة ثِيَابهمْ الشعثة رؤوسهم الَّذين لَا يُؤذن لَهُم على السدات وَلَا ينْكحُونَ الْمُنَعَّمَاتِ توكل بهم مَشَارِق الأَرْض وَمَغَارِبهَا يُعْطون كل الَّذِي عَلَيْهِم وَلَا يُعْطون كل الَّذِي لَهُم
رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ فِي الْكَبِير والأوسط وَرُوَاته ثِقَات
وَرَوَاهُ مُسلم مُخْتَصرا سَمِعت رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم يَقُول إِن فُقَرَاء أمتِي الْمُهَاجِرين يسبقون الْأَغْنِيَاء يَوْم الْقِيَامَة بِأَرْبَعِينَ خَرِيفًا
وَرَوَاهُ ابْن حبَان فِي صَحِيحه مُخْتَصرا أَيْضا وَقَالَ بِأَرْبَعِينَ عَاما
رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ فِي الْكَبِير والأوسط وَرُوَاته ثِقَات
وَرَوَاهُ مُسلم مُخْتَصرا سَمِعت رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم يَقُول إِن فُقَرَاء أمتِي الْمُهَاجِرين يسبقون الْأَغْنِيَاء يَوْم الْقِيَامَة بِأَرْبَعِينَ خَرِيفًا
وَرَوَاهُ ابْن حبَان فِي صَحِيحه مُخْتَصرا أَيْضا وَقَالَ بِأَرْبَعِينَ عَاما
হাদীসের ব্যাখ্যা:
হাদীছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানিয়েছেন যে, গরীবেরা ধনীদের চল্লিশ বৎসর আগে জান্নাতে প্রবেশ করবে। এর কারণ, হিসাব-নিকাশের জন্য ধনীদের আটকে রাখা হবে। তারা কোন পথে সম্পদ অর্জন করেছিল এবং কোন কোন খাতে ব্যয় করেছিল সে সম্পর্কে তাদেরকে জিজ্ঞেস করা হবে। গরীবদের তো সে বালাই নেই।
হযরত মালিক ইবন দীনার রহ. এক সফরে নদীর এক পার থেকে অপর পারে গেলেন। ওপারে যেতেই কর আদায়কারীগণ ধরল। তোমার মালামালের কর দিয়ে যাও। তিনি দু'হাত উঁচু করে বললেন, দেখ কী আছে, নিয়ে নাও। তারা দেখল সঙ্গে মালামাল বলতে কিছুই নেই। তাদের তো ব্যস্ততা। শুধু শুধু কথা বলে সময় নষ্ট করার অবকাশ নেই। তাড়া দিয়ে বলল, যাও যাও! তিনি কতদূর এগিয়ে গিয়ে দাঁড়ালেন। তারপর নিজেকে সম্বোধন করে বললেন, ওহে দীনারের পুত্র মালিক। আখিরাতের বিষয়টি তো এমনই হবে। অর্থাৎ মাল নেই তো হিসাবও নেই। মাল থাকলে হিসাব দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে থাকো।
এর দ্বারা বোঝা গেল ধনী দীনদার অপেক্ষা গরীব দীনদারের আখিরাতে পার হওয়া সহজ হবে। দীনদার ব্যক্তি ধনী হলে তার সম্পদের হিসাব দেওয়ার একটা ব্যাপার যেহেতু আছে, তাই তার কিছু না কিছু বিলম্ব অবশ্যই হবে। হাঁ, আল্লাহ তা'আলা যাদেরকে বিনা হিসেবে পার করে দেবেন তাদের কথা আলাদা।
হাদীস থেকে শিক্ষণীয়ঃ
ক. গরীবানা অবস্থা বাহ্যদৃষ্টিতে কষ্টকর হলেও আখিরাতের পক্ষে কল্যাণকর। তাই গরীবদের উচিত অভাব-অনটনের জন্য আক্ষেপ না করে ধৈর্য ও সহ্যের সঙ্গে দুনিয়ার জীবন পার করা।
খ. বিষয়টা যেহেতু জান্নাতে প্রবেশের, তাই দীনদারীর শর্ত অবশ্যই আছে। সুতরাং কেবল গরীবানা অবস্থার উপর নির্ভর করার সুযোগ নেই। নিজ দীন ও ঈমানেরও যত্ন নিতে হবে।
গ. বিলম্বে হলেও দীনদার ধনী ব্যক্তি অবশ্যই জান্নাতে যাবে। তাই ধনী ব্যক্তিরও নিজ দ্বীনদারীর পরিচর্যা করা অবশ্যকর্তব্য।
হযরত মালিক ইবন দীনার রহ. এক সফরে নদীর এক পার থেকে অপর পারে গেলেন। ওপারে যেতেই কর আদায়কারীগণ ধরল। তোমার মালামালের কর দিয়ে যাও। তিনি দু'হাত উঁচু করে বললেন, দেখ কী আছে, নিয়ে নাও। তারা দেখল সঙ্গে মালামাল বলতে কিছুই নেই। তাদের তো ব্যস্ততা। শুধু শুধু কথা বলে সময় নষ্ট করার অবকাশ নেই। তাড়া দিয়ে বলল, যাও যাও! তিনি কতদূর এগিয়ে গিয়ে দাঁড়ালেন। তারপর নিজেকে সম্বোধন করে বললেন, ওহে দীনারের পুত্র মালিক। আখিরাতের বিষয়টি তো এমনই হবে। অর্থাৎ মাল নেই তো হিসাবও নেই। মাল থাকলে হিসাব দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে থাকো।
এর দ্বারা বোঝা গেল ধনী দীনদার অপেক্ষা গরীব দীনদারের আখিরাতে পার হওয়া সহজ হবে। দীনদার ব্যক্তি ধনী হলে তার সম্পদের হিসাব দেওয়ার একটা ব্যাপার যেহেতু আছে, তাই তার কিছু না কিছু বিলম্ব অবশ্যই হবে। হাঁ, আল্লাহ তা'আলা যাদেরকে বিনা হিসেবে পার করে দেবেন তাদের কথা আলাদা।
হাদীস থেকে শিক্ষণীয়ঃ
ক. গরীবানা অবস্থা বাহ্যদৃষ্টিতে কষ্টকর হলেও আখিরাতের পক্ষে কল্যাণকর। তাই গরীবদের উচিত অভাব-অনটনের জন্য আক্ষেপ না করে ধৈর্য ও সহ্যের সঙ্গে দুনিয়ার জীবন পার করা।
খ. বিষয়টা যেহেতু জান্নাতে প্রবেশের, তাই দীনদারীর শর্ত অবশ্যই আছে। সুতরাং কেবল গরীবানা অবস্থার উপর নির্ভর করার সুযোগ নেই। নিজ দীন ও ঈমানেরও যত্ন নিতে হবে।
গ. বিলম্বে হলেও দীনদার ধনী ব্যক্তি অবশ্যই জান্নাতে যাবে। তাই ধনী ব্যক্তিরও নিজ দ্বীনদারীর পরিচর্যা করা অবশ্যকর্তব্য।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ রিয়াযুস সালিহীন (অনুবাদ- মাওলানা আবুল বাশার মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম হাফি.)