আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ
২৩. অধ্যায়ঃ তাওবা ও যুহদ
হাদীস নং: ৪৮৫৩
অধ্যায়ঃ তাওবা ও যুহদ
দারিদ্র্যও স্বল্পসামগ্রীর প্রতি উৎসাহ প্রদান এবং ফকীর-মিসকীন ও দুর্বলদের মর্যাদা এবং তাদেরকে ভালবাসা ও তাদের সাথে উঠাবসা করা
৪৮৫৩. হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি, হে আল্লাহ্! তুমি আমাকে নিঃস্ব অবস্থায় জীবিত রাখ, নিঃস্বরূপে মৃত্যু দান কর এবং নিঃস্বদের দলে তুমি আমাকে পুনরুত্থিত কর। নিশ্চয় নিকৃষ্টদের মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট ব্যক্তি হচ্ছে সে-ই, যে দুনিয়ার দারিদ্র ও পরকালের আযাবের শিকার হয়।
(ইবন মাজাহ হাদীসটি المساكين পর্যন্ত এবং হাকিম সম্পূর্ণ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। হাকিম বলেনঃ এর সনদ সহীহ। আবূ শায়খ ও বায়হাকী হাদীসটি আতা ইব্ন আবি রাবাহ-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তিনি আবু সাঈদ (খুদরী রা)-কে বলতে শুনেছেন: হে মানবমণ্ডলী! অভাব-অনটন যেন তোমাদেরকে অবৈধভাবে জীবিকা অন্বেষণে উদ্বুদ্ধ না করে। কেননা, আমি রাসূলুল্লাহ-কে বলতে শুনেছি, হে আল্লাহ! তুমি আমাকে নিঃস্ব অবস্থায় মৃত্যু দান করো- ধনী অবস্থায় মৃত্যু দান করো না এবং তুমি আমাকে নিঃস্বদের দলে পুনরুত্থিত করো। নিশ্চয় নিকৃষ্টদের মধ্যে সবচেয়ে নিঃকৃষ্টতম ব্যক্তি হচ্ছে সেই, যে দুনিয়ার দরিদ্র ও পরকালের আযাবের শিকার হয়।
আবু শায়খ বলেনঃ আবু যুর'আ ব্যতীত অন্যান্যরা সুলায়মান ইবন আব্দুর রহমান-এর সূত্রে এতটুকু বেশি বর্ণনা করেছেনঃ "এবং তুমি আমাকে ধনীদের দলে পুনরুত্থিত করো না।")
(ইবন মাজাহ হাদীসটি المساكين পর্যন্ত এবং হাকিম সম্পূর্ণ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। হাকিম বলেনঃ এর সনদ সহীহ। আবূ শায়খ ও বায়হাকী হাদীসটি আতা ইব্ন আবি রাবাহ-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তিনি আবু সাঈদ (খুদরী রা)-কে বলতে শুনেছেন: হে মানবমণ্ডলী! অভাব-অনটন যেন তোমাদেরকে অবৈধভাবে জীবিকা অন্বেষণে উদ্বুদ্ধ না করে। কেননা, আমি রাসূলুল্লাহ-কে বলতে শুনেছি, হে আল্লাহ! তুমি আমাকে নিঃস্ব অবস্থায় মৃত্যু দান করো- ধনী অবস্থায় মৃত্যু দান করো না এবং তুমি আমাকে নিঃস্বদের দলে পুনরুত্থিত করো। নিশ্চয় নিকৃষ্টদের মধ্যে সবচেয়ে নিঃকৃষ্টতম ব্যক্তি হচ্ছে সেই, যে দুনিয়ার দরিদ্র ও পরকালের আযাবের শিকার হয়।
আবু শায়খ বলেনঃ আবু যুর'আ ব্যতীত অন্যান্যরা সুলায়মান ইবন আব্দুর রহমান-এর সূত্রে এতটুকু বেশি বর্ণনা করেছেনঃ "এবং তুমি আমাকে ধনীদের দলে পুনরুত্থিত করো না।")
كتاب التوبة والزهد
التَّرْغِيب فِي الْفقر وَقلة ذَات الْيَد وَمَا جَاءَ فِي فضل الْفُقَرَاء وَالْمَسَاكِين وَالْمُسْتَضْعَفِينَ وحبهم ومجالستهم
4853- وَعَن أبي سعيد الْخُدْرِيّ رَضِي الله عَنهُ قَالَ سَمِعت رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم يَقُول اللَّهُمَّ أحيني مِسْكينا وتوفني مِسْكينا واحشرني فِي زمرة الْمَسَاكِين وَإِن أَشْقَى الأشقياء من اجْتمع عَلَيْهِ فقر الدُّنْيَا وَعَذَاب الْآخِرَة
رَوَاهُ ابْن مَاجَه إِلَى قَوْله الْمَسَاكِين وَالْحَاكِم بِتَمَامِهِ وَقَالَ صَحِيح الْإِسْنَاد
وَرَوَاهُ أَبُو الشَّيْخ وَالْبَيْهَقِيّ عَن عَطاء بن أبي رَبَاح سمع أَبَا سعيد يَقُول يَا أَيهَا النَّاس لَا تحملنكم الْعسرَة على طلب الرزق من غير حلّه فَإِنِّي سَمِعت رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم يَقُول اللَّهُمَّ توفني فَقِيرا وَلَا توفني غَنِيا واحشرني فِي زمرة الْمَسَاكِين فَإِن أَشْقَى الأشقياء من اجْتمع عَلَيْهِ فقر الدُّنْيَا وَعَذَاب الْآخِرَة
قَالَ أَبُو الشَّيْخ زَاد فِيهِ غير أبي زرْعَة عَن سُلَيْمَان بن عبد الرَّحْمَن وَلَا تحشرني فِي زمرة الْأَغْنِيَاء
رَوَاهُ ابْن مَاجَه إِلَى قَوْله الْمَسَاكِين وَالْحَاكِم بِتَمَامِهِ وَقَالَ صَحِيح الْإِسْنَاد
وَرَوَاهُ أَبُو الشَّيْخ وَالْبَيْهَقِيّ عَن عَطاء بن أبي رَبَاح سمع أَبَا سعيد يَقُول يَا أَيهَا النَّاس لَا تحملنكم الْعسرَة على طلب الرزق من غير حلّه فَإِنِّي سَمِعت رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم يَقُول اللَّهُمَّ توفني فَقِيرا وَلَا توفني غَنِيا واحشرني فِي زمرة الْمَسَاكِين فَإِن أَشْقَى الأشقياء من اجْتمع عَلَيْهِ فقر الدُّنْيَا وَعَذَاب الْآخِرَة
قَالَ أَبُو الشَّيْخ زَاد فِيهِ غير أبي زرْعَة عَن سُلَيْمَان بن عبد الرَّحْمَن وَلَا تحشرني فِي زمرة الْأَغْنِيَاء
হাদীসের ব্যাখ্যা:
নবী করীম ﷺ আমরণ মিসকীনের যিন্দেগী যাপন করেছেন। তিনি যেমন মিসকীনি যিন্দেগী পসন্দ করতেন, তেমনি মিসকীনদেরকে অন্তর দিয়ে ভালবাসতেন। তাঁর আসহাব অধিক সংখ্যক মিসকীন ছিলেন। তিনি তাদের খুব মহব্বতের সংগে তালিম-তারবিয়াত দিতেন, আর এসব গরীব-মিসকীন সাহাবীর দ্বারাই তিনি বাতিলের মোকাবিলা করেছেন। যাদের বিত্ত ও সহায়-সম্বল বেশি, তাদের দ্বারা সমাজ সংস্কার এবং তাবলীগের কাজ খুব কম হয়। ধন-দৌলতের রক্ষণাবেক্ষণে তাদের অধিকাংশ সময় ব্যয় হয়ে যায়। কিয়ামতের দিন সফলকামদের অধিকাংশ হবেন গরীব-মিসকীন। আল্লাহর ধনী নেক বান্দাগণ গরীব নেক বান্দাদের মত সহজে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবেন না। সম্পদের হিসাব তাদের দিতে হবে। তাই নবী করীম ﷺ মিসকীনের যিন্দেগী চেয়েছেন, আজীবন মিসকীন হিসেবে ও মিসকীনদের সাথে বসবাস করেছেন এবং আখিরাতের যিন্দেগীতেও তাঁর হাশর মিসকীনদের সাথে চেয়েছেন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)