আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ
২৩. অধ্যায়ঃ তাওবা ও যুহদ
হাদীস নং: ৪৮৭৪
অধ্যায়ঃ তাওবা ও যুহদ
দারিদ্র্যও স্বল্পসামগ্রীর প্রতি উৎসাহ প্রদান এবং ফকীর-মিসকীন ও দুর্বলদের মর্যাদা এবং তাদেরকে ভালবাসা ও তাদের সাথে উঠাবসা করা
৪৮৭৪. হযরত মাহমূদ ইবন লাবীদ (রা) থেকে বর্ণিত আছে যে, নবী (ﷺ) বলেনঃ দু'টি বস্তু মানুষ অপসন্দ করে, (এক) মৃত্যু, অথচ মৃত্যু ফিতনার চেয়ে উত্তম। (দুই) স্বল্প সম্পদকে অপসন্দ করে, অথচ স্বল্প সম্পদ (পরকালের) হিসাব-নিকাশের জন্য লঘুতর।
(আহমাদ (র) দুই সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তন্মধ্যে একটির সকল বর্ণনাকারী সহীহ্ হাদীসের ক্ষেত্রে নির্ভযোগ্য। মাহমূদ (ইবন লাবীদ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর দর্শন লাভ করেছিলেন, তবে আমার মতে, তার হাদীস শ্রবণের বিষয়টি সঠিক নয়। রিয়া ইত্যাদি অধ্যায়ে তাঁর সাহাবী হওয়ার ব্যাপারে মতভেদ বর্ণিত হয়েছে। আল্লাহই ভাল জানেন।)
(আহমাদ (র) দুই সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তন্মধ্যে একটির সকল বর্ণনাকারী সহীহ্ হাদীসের ক্ষেত্রে নির্ভযোগ্য। মাহমূদ (ইবন লাবীদ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর দর্শন লাভ করেছিলেন, তবে আমার মতে, তার হাদীস শ্রবণের বিষয়টি সঠিক নয়। রিয়া ইত্যাদি অধ্যায়ে তাঁর সাহাবী হওয়ার ব্যাপারে মতভেদ বর্ণিত হয়েছে। আল্লাহই ভাল জানেন।)
كتاب التوبة والزهد
التَّرْغِيب فِي الْفقر وَقلة ذَات الْيَد وَمَا جَاءَ فِي فضل الْفُقَرَاء وَالْمَسَاكِين وَالْمُسْتَضْعَفِينَ وحبهم ومجالستهم
4874- وَعَن مَحْمُود بن لبيد رَضِي الله عَنهُ أَن النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ اثْنَتَانِ يكرههما ابْن آدم الْمَوْت وَالْمَوْت خير من الْفِتْنَة وَيكرهُ قلَّة المَال وَقلة المَال أقل لِلْحسابِ
رَوَاهُ أَحْمد بِإِسْنَادَيْنِ رُوَاة أَحدهمَا مُحْتَج بهم فِي الصَّحِيح ومحمود لَهُ رُؤْيَة وَلم يَصح لَهُ سَماع فِيمَا أرى وَتقدم الْخلاف فِي صحبته فِي بَاب الرِّيَاء وَغَيره وَالله أعلم
رَوَاهُ أَحْمد بِإِسْنَادَيْنِ رُوَاة أَحدهمَا مُحْتَج بهم فِي الصَّحِيح ومحمود لَهُ رُؤْيَة وَلم يَصح لَهُ سَماع فِيمَا أرى وَتقدم الْخلاف فِي صحبته فِي بَاب الرِّيَاء وَغَيره وَالله أعلم
হাদীসের ব্যাখ্যা:
দীর্ঘ জীবন ও সম্পদের প্রাচুর্যকে মানুষ দুনিয়ার জীবনের সাফল্য জ্ঞান করলেও এ দুটো জিনিস আখিরাতের সাফল্যের পথে বাধা সৃষ্টিকারী। দীর্ঘায়ু দুনিয়া ও আখিরাতের জন্য উত্তম, যদি তা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নির্দেশিত পথে ব্যয়িত হয়। অন্যথায় আখিরাতের ময়দানে দীর্ঘ জীবনের ভারী বোঝা মানুষকে দোযখে নিক্ষেপ করবে। অনুরূপভাবে সম্পদ দুনিয়ার সাফল্যের প্রতীক। যদি সম্পদ নেক ও বৈধ পথে উপার্জিত এবং ব্যয়িত হয়, তাহলে তা আখিরাতে মানুষের মর্যাদা বৃদ্ধি করতে পারে। তা না হলে সম্পদের হিসাব দিতে গিয়ে মানুষ হিমশিম খেয়ে যাবে। আল্লাহর রাস্তায়, দুঃস্থ মানবতার সেবায় ও যাবতীয় বৈধ কাজে সম্পদ ব্যবহার না করলে বা অন্যায় অসংগত উপায়ে তা উপার্জন করলে ধনীদেরকে সোনা-রূপা গরম করে দাগ দেয়া হবে। সম্পদ তার অধিকারীকে জাহান্নামে নিয়ে যেতে পারে। তাই দীর্ঘ জীবন ও প্রাচুর্যকে আখিরাতের সাফল্যের অন্তরায় গণ্য করা হয়েছে:
اللَّهُمَّ اجْعَلِ المَوْتَ رَاحَةً لي مِن كُلِّ شَرٍّ.
-"হে আল্লাহ! মৃত্যুকে আমাদের সকল অমঙ্গল থেকে বাঁচবার উপায় বানিয়ে দিন।"
اللَّهُمَّ اجْعَلِ المَوْتَ رَاحَةً لي مِن كُلِّ شَرٍّ.
-"হে আল্লাহ! মৃত্যুকে আমাদের সকল অমঙ্গল থেকে বাঁচবার উপায় বানিয়ে দিন।"
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)