আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ
২৩. অধ্যায়ঃ তাওবা ও যুহদ
হাদীস নং: ৪৯৭৩
অধ্যায়ঃ তাওবা ও যুহদ
দুনিয়ার প্রতি অনাসক্তি ও দুনিয়ার স্বল্পতায় তুষ্ট থাকার জন্য উৎসাহ দান এবং দুনিয়ার প্রতি ভালবাসা ও তজ্জন্য প্রতিযোগিতা-প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ব্যাপারে সতর্কীকরণ এবং পানাহার ও লেবাস পোষাক ইত্যাদিতে নবী (ﷺ)-এর জীবন-যাপন পদ্ধতি সম্পর্কিত কতিপয় হাদীস
৪৯৭৩. হযরত আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত আছে যে, একদা তিনি কিছু লোকের পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছিলেন, তাদের সামনে ছিল একটি ভুনা ছাগল। তারা তাঁকে (খেতে) ডাকলেন। কিন্তু তিনি তা' খেতে অসম্মতি জানালেন এবং বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়ে গেছেন, অথচ যবের রুটিও তৃপ্তি সহকারে খেতে পাননি।
(বুখারী ও তিরমিযী (র) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
(বুখারী ও তিরমিযী (র) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
كتاب التوبة والزهد
التَّرْغِيب فِي الزّهْد فِي الدُّنْيَا والاكتفاء مِنْهَا بِالْقَلِيلِ والترهيب من حبها وَالتَّكَاثُر فِيهَا والتنافس وَبَعض مَا جَاءَ فِي عَيْش النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فِي المأكل والملبس وَالْمشْرَب وَنَحْو ذَلِك
4973- وَعَن أبي هُرَيْرَة رَضِي الله عَنهُ أَنه مر بِقوم بَين أَيْديهم شَاة مصلية فَدَعوهُ فَأبى أَن يَأْكُل وَقَالَ خرج رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم من الدُّنْيَا وَلم يشْبع من خبز الشّعير
رَوَاهُ البُخَارِيّ وَالتِّرْمِذِيّ
مصلية أَي مشوية
رَوَاهُ البُخَارِيّ وَالتِّرْمِذِيّ
مصلية أَي مشوية
হাদীসের ব্যাখ্যা:
হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. ভুনা ছাগল খেতে অস্বীকার করেছেন নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথা মনে পড়ে যাওয়ায়। হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. নিজেও নিতান্ত গরীব ছিলেন। মসজিদে নববীর সুফ্ফায় অবস্থান করতেন। কোনও খাবার আসলে খেতেন, নয়তো অভুক্তই থাকতেন। তিনি দেখেছেন নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিবারাত্র কেমন অনাহারে অর্ধাহারে কাটত। সব সাহাবীই প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আশেক ছিলেন। প্রাণের চেয়েও বেশি তাঁকে ভালোবাসতেন। আমৃত্যু সে ভালোবাসা বুকে লালন করেছেন। তাঁদের পরবর্তী জীবনে সচ্ছলতা আসলেও বিলাসিতায় তাঁরা গা ভাসাননি।
হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. তো সেই আশেকদেরই একজন। কাজেই তাঁকে যখন ভুনা ছাগল খেতে আহ্বান জানানো হল, তাঁর নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খাদ্যাভাবের কথা মনে পড়ে গেল। কোন আশেকের পক্ষে তার মা'শুকের খাদ্যকষ্টের কথা ভোলা সম্ভব? সম্ভব কি সে কথা স্মরণ থাকা সত্ত্বেও কোনও আয়েশী খাবারের স্বাদ গ্রহণ করা? সুতরাং হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. তা খেতে অস্বীকার করলেন। আর তার কারণ বর্ণনা করলেন যে- (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুনিয়া থেকে চলে গেছেন, অথচ তিনি কখনও পেট ভরে যবের রুটিও খেতে পারেননি)। যবের রুটি অতি সাধারণ খাবার। গমের রুটির মত তা মসৃণ হয় না। সেই সাধারণ খাবারও যখন তিনি পেট ভরে খেয়ে যেতে পারেননি, তখন আমি আবূ হুরায়রার পক্ষে কিভাবে আজ ভুনা গোশত খাওয়া সম্ভব?
প্রকাশ থাকে যে, আস্ত ছাগল ভুনা করে খাওয়া নাজায়েয নয়। নাজায়েয হলে হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. নিজে না খেয়েই ক্ষান্ত হতেন না; বরং তাদেরও নিষেধ করতেন। তাঁর নিজের না খাওয়াটা ছিল কেবলই নবীপ্রেমের অভিব্যক্তি। নাজায়েয ছিল এরকম নয়।
হাদীস থেকে শিক্ষণীয়ঃ
ক. সচ্ছল ব্যক্তির জন্য উপাদেয় ও দামি খাবার খাওয়াতে কোনও দোষ নেই।
খ. খাবার খাওয়ার সময় কোনও আগুন্তুকের দেখা পেলে তাকে শরীক হতে অনুরোধ জানানো চাই।
গ. বিশেষ কারণে দাওয়াত গ্রহণ না করার অবকাশ আছে।
ঘ. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কখনও পেট ভরে না খাওয়ার ভেতর অভাবগ্রস্তের জন্য সান্ত্বনা ও সচ্ছলদের জন্য শোকরগুযারীর শিক্ষা রয়েছে।
হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. তো সেই আশেকদেরই একজন। কাজেই তাঁকে যখন ভুনা ছাগল খেতে আহ্বান জানানো হল, তাঁর নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খাদ্যাভাবের কথা মনে পড়ে গেল। কোন আশেকের পক্ষে তার মা'শুকের খাদ্যকষ্টের কথা ভোলা সম্ভব? সম্ভব কি সে কথা স্মরণ থাকা সত্ত্বেও কোনও আয়েশী খাবারের স্বাদ গ্রহণ করা? সুতরাং হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. তা খেতে অস্বীকার করলেন। আর তার কারণ বর্ণনা করলেন যে- (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুনিয়া থেকে চলে গেছেন, অথচ তিনি কখনও পেট ভরে যবের রুটিও খেতে পারেননি)। যবের রুটি অতি সাধারণ খাবার। গমের রুটির মত তা মসৃণ হয় না। সেই সাধারণ খাবারও যখন তিনি পেট ভরে খেয়ে যেতে পারেননি, তখন আমি আবূ হুরায়রার পক্ষে কিভাবে আজ ভুনা গোশত খাওয়া সম্ভব?
প্রকাশ থাকে যে, আস্ত ছাগল ভুনা করে খাওয়া নাজায়েয নয়। নাজায়েয হলে হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. নিজে না খেয়েই ক্ষান্ত হতেন না; বরং তাদেরও নিষেধ করতেন। তাঁর নিজের না খাওয়াটা ছিল কেবলই নবীপ্রেমের অভিব্যক্তি। নাজায়েয ছিল এরকম নয়।
হাদীস থেকে শিক্ষণীয়ঃ
ক. সচ্ছল ব্যক্তির জন্য উপাদেয় ও দামি খাবার খাওয়াতে কোনও দোষ নেই।
খ. খাবার খাওয়ার সময় কোনও আগুন্তুকের দেখা পেলে তাকে শরীক হতে অনুরোধ জানানো চাই।
গ. বিশেষ কারণে দাওয়াত গ্রহণ না করার অবকাশ আছে।
ঘ. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কখনও পেট ভরে না খাওয়ার ভেতর অভাবগ্রস্তের জন্য সান্ত্বনা ও সচ্ছলদের জন্য শোকরগুযারীর শিক্ষা রয়েছে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ রিয়াযুস সালিহীন (অনুবাদ- মাওলানা আবুল বাশার মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম হাফি.)