আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ

২৩. অধ্যায়ঃ তাওবা ও যুহদ

হাদীস নং: ৪৯৭৯
অধ্যায়ঃ তাওবা ও যুহদ
দুনিয়ার প্রতি অনাসক্তি ও দুনিয়ার স্বল্পতায় তুষ্ট থাকার জন্য উৎসাহ দান এবং দুনিয়ার প্রতি ভালবাসা ও তজ্জন্য প্রতিযোগিতা-প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ব্যাপারে সতর্কীকরণ এবং পানাহার ও লেবাস পোষাক ইত্যাদিতে নবী (ﷺ)-এর জীবন-যাপন পদ্ধতি সম্পর্কিত কতিপয় হাদীস
৪৯৭৯. হযরত কা'ব ইবন উজরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ)-এর কাছে গেলাম। তখন তাঁকে ম্রিয়মান অবস্থায় দেখতে পেলাম। আমি বললাম, আপনার প্রতি আমার পিতা কুরবান! আমি আপনাকে ম্রিয়মান অবস্থায় দেখছি কেন? তিনি বললেনঃ কোন হৃৎপিণ্ডধারী প্রাণীর পেটে যা প্রবেশ করে, আমার পেটে তিনদিন যাবৎ তা প্রবেশ করে নি। কা'ব (রা) বলেন, আমি (সেখান থেকে) চলে গেলাম। দেখি, এক ইয়াহুদী তার উটকে পানি পান করাচ্ছে। তখন আমি প্রতি বালতির বিনিময়ে একটি খেজুর হিসাবে তার উটকে পানি পান করালাম এবং কিছু খেজুর জমা করলাম। তারপর তা নিয়ে নবী-এর কাছে গেলাম। তখন তিনি জিজ্ঞেস করলেন, হে কা'ব, এগুলো কোথায় পেলে? আমি তাঁকে বিষয়টি জানালাম। তখন নবী- বললেন, হে কা'ব তুমি কি আমাকে ভালোবাস? আমি বললাম, আমার পিতা আপনার প্রতি কুরবান। জ্বী হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ সুড়ঙ্গ পথে ঢলের পানি যে গতিতে যায়, আমাকে যে ভালবাসে তার দিকে দারিদ্র্য তার চেয়ে দ্রুত গতিতে ধাবিত হবে। নিশ্চয় তুমি অনতিবিলম্বে পরীক্ষার সম্মুখীন হবে। সুতরাং তজ্জন্য আসবাবপত্র জোগাড় কর। রাবী বলেন : এরপর কিছুদিন কা'বের সাথে নবী-এর সাক্ষাৎ হয়নি। তখন তিনি জিজ্ঞেস করলেন, কা'বের কি হয়েছে। (তাকে দেখিনা কেন)? সাহাবায়ে কিরাম বললেনঃ যে অসুস্থ। তখন তিনি বেরিয়ে হাঁটতে হাঁটতে কা'বের কাছে গেলেন এবং তাঁকে বললেনঃ হে কা'ব, তোমার জন্য জান্নাত শুভ হোক। তারপর নবী জিজ্ঞেস করলেন, আল্লাহ্ তা'আলা সম্পর্কে দৃঢ় সিদ্ধান্ত ব্যক্তকারী এ মহিলাটি কে? আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! তিনি আমার আম্মাজান। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, হে কাবের মা। তুমি কিভাবে জানলে (যে কা'ব জান্নাতী)। হয়ত কা'ব এমন কথা বলে ফেলবে, যা তার উপকারে আসবে না অথবা এমন জিনিস নিষেধ করে বসবে, যা তার কাজে আসবে না।
(তাবারানী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। এ পর্যন্ত এর সনদ আমার কাছে আসে নি, তবে আমার উস্তাদ আবুল হাসান (র) বলতেন, এর সনদ উত্তম।)
كتاب التوبة والزهد
التَّرْغِيب فِي الزّهْد فِي الدُّنْيَا والاكتفاء مِنْهَا بِالْقَلِيلِ والترهيب من حبها وَالتَّكَاثُر فِيهَا والتنافس وَبَعض مَا جَاءَ فِي عَيْش النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فِي المأكل والملبس وَالْمشْرَب وَنَحْو ذَلِك
4979- وَعَن كَعْب بن عجْرَة رَضِي الله عَنهُ قَالَ أتيت النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فرأيته متغيرا فَقلت بِأبي أَنْت مَا لي أَرَاك متغيرا قَالَ مَا دخل جوفي مَا يدْخل جَوف ذَات كبد مُنْذُ ثَلَاث
قَالَ فَذَهَبت فَإِذا يَهُودِيّ يسْقِي إبِلا لَهُ فسقيت لَهُ على كل دلو بتمرة فَجمعت تَمرا فَأتيت بِهِ النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فَقَالَ من أَيْن لَك يَا كَعْب فَأَخْبَرته فَقَالَ النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم أتحبني يَا كَعْب قلت بِأبي أَنْت نعم
قَالَ إِن الْفقر أسْرع إِلَى من يحبني من السَّيْل إِلَى معادنه وَإنَّهُ سيصيبك بلَاء فأعد لَهُ تجفافا
قَالَ فَفَقدهُ النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فَقَالَ مَا فعل كَعْب قَالُوا مَرِيض فَخرج يمشي حَتَّى دخل عَلَيْهِ فَقَالَ لَهُ أبشر يَا كَعْب فَقَالَت أمه هَنِيئًا لَك الْجنَّة يَا كَعْب فَقَالَ النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم من هَذِه المتألية على الله عز وَجل قلت هِيَ أُمِّي يَا رَسُول الله
قَالَ مَا يدْريك يَا أم كَعْب لَعَلَّ كَعْبًا قَالَ مَا لَا يَنْفَعهُ وَمنع مَا لَا يُغْنِيه

رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ وَلَا يحضرني الْآن إِسْنَاده إِلَّا أَن شَيخنَا الْحَافِظ أَبَا الْحسن رَحمَه الله كَانَ يَقُول إِسْنَاده جيد
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান