আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ

২৩. অধ্যায়ঃ তাওবা ও যুহদ

হাদীস নং: ৫০১৭
অধ্যায়ঃ তাওবা ও যুহদ
দুনিয়ার প্রতি অনাসক্তি ও দুনিয়ার স্বল্পতায় তুষ্ট থাকার জন্য উৎসাহ দান এবং দুনিয়ার প্রতি ভালবাসা ও তজ্জন্য প্রতিযোগিতা-প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ব্যাপারে সতর্কীকরণ এবং পানাহার ও লেবাস পোষাক ইত্যাদিতে নবী (ﷺ)-এর জীবন-যাপন পদ্ধতি সম্পর্কিত কতিপয় হাদীস
৫০১৭. হযরত যায়িদ ইবন আরকাম (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন আমি আবু বকর (রা)-এর সাথে ছিলাম। তিনি পানি পান করতে চাইলেন। তাঁর সামনে পানি ও মধু পেশ করা হল। অতঃপর যখন তিনি তা নিজ হাতে তুলে নিলেন তখন তিনি কেঁদে ফেললেন এবং শব্দ করে কাঁদতে লাগলেন। এমনটি আমরা ধারণা করলাম যে, তাঁর শরীরে হয়ত কোন যন্ত্রণা আছে। তাই আমরা তাঁকে তখন কিছু জিজ্ঞেস করলাম না। অতঃপর যখন তাঁর কান্না থেমে গেল, তখন আমরা জিজ্ঞেস করলাম, হে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর খলীফা! আপনাকে কিসে এরূপ কাঁদালো? তিনি বললেন, একদা আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) -এর নিকটে ছিলাম। হঠাৎ তাঁকে দেখলাম যে, তিনি তাঁর কাছ থেকে যা দূর করে দিতে দেখছি, তা-কি অথচ আমি তো কিছু দেখতে পাচ্ছি না। তিনি বললেন, দুনিয়া আমার সামনে বিশাল আকারে হাযির হয়েছে। তাই বললাম, তুমি আমার
কাছ থেকে দূর হও।” তখন সে বলল, আপনি অবশ্যি আমাকে পাবেন না। আবু বকর (রা) বললেন, এ বিষয়টিই আজ আমার জন্য দুঃসহ হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর আদর্শ লংঘনকারী হয়ে যাওয়ার এবং দুনিয়ার সাথে জড়িয়ে পড়ার আশংকাবোধ করছি।
(ইবন আবিদ-দুনিয়া ও বাযযার হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। আব্দুল ওয়াহিদ ইবন যায়িদ ব্যতীত এর সকল বর্ণনাকারী নির্ভরযোগ্য। ইবন হিব্বান বলেছেন, যদি তার উর্ধ্বতন ও অধঃস্তন রাবী নির্ভরযোগ্য হয়, তবে তাঁর হাদীস গ্রহণযোগ্য। উল্লিখিত সনদে তাই হয়েছে।)
كتاب التوبة والزهد
التَّرْغِيب فِي الزّهْد فِي الدُّنْيَا والاكتفاء مِنْهَا بِالْقَلِيلِ والترهيب من حبها وَالتَّكَاثُر فِيهَا والتنافس وَبَعض مَا جَاءَ فِي عَيْش النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فِي المأكل والملبس وَالْمشْرَب وَنَحْو ذَلِك
5017 - وَعَن زيد بن أَرقم رَضِي الله عَنهُ قَالَ كُنَّا مَعَ أبي بكر رَضِي الله عَنهُ فَاسْتَسْقَى فَأتي بِمَاء وَعسل فَلَمَّا وَضعه على يَده بَكَى وانتحب حَتَّى ظننا أَن بِهِ شَيْئا وَلَا نَسْأَلهُ عَن شَيْء فَلَمَّا فرغ قُلْنَا يَا خَليفَة رَسُول الله مَا حملك على هَذَا الْبكاء قَالَ بَيْنَمَا أَنا مَعَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم إِذْ رَأَيْته يدْفع عَن نَفسه شَيْئا وَلَا أرى شَيْئا فَقلت يَا رَسُول الله مَا الَّذِي أَرَاك تدفع عَن نَفسك وَلَا أرى شَيْئا قَالَ الدُّنْيَا تطولت لي فَقلت إِلَيْك عني فَقَالَت أما إِنَّك لست بمدركي
قَالَ أَبُو بكر فشق ذَلِك عَليّ وَخفت أَن أكون قد خَالَفت أَمر رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم ولحقتني الدُّنْيَا

رَوَاهُ ابْن أبي الدُّنْيَا وَالْبَزَّار وَرُوَاته ثِقَات إِلَّا عبد الْوَاحِد بن زيد وَقد قَالَ ابْن حبَان يعْتَبر حَدِيثه إِذا كَانَ فَوْقه ثِقَة ودونه ثِقَة وَهُوَ هُنَا كَذَلِك
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান
আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব - হাদীস নং ৫০১৭ | মুসলিম বাংলা