আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ

২৩. অধ্যায়ঃ তাওবা ও যুহদ

হাদীস নং: ৫০৮৩
অধ্যায়ঃ তাওবা ও যুহদ
মৃত্যুর স্মরণ, উচ্চাভিলাষ নিয়ন্ত্রণ ও আমলের প্রতি ধাবিত হওয়ার জন্য উৎসাহ প্রদান, নেক আমলকারীর দীঘায়ুর ফযীলত এবং মৃত্যু কামনার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা
৫০৮৩. হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবন মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, তোমরা আল্লাহ তা'আলাকে যথোচিত সমীহ কর। তিনি বলেন, আমরা বললাম, হে আল্লাহর নবী! আল-হামদুলিল্লাহ্! আমরা তো (আল্লাহ্ তা'আলাকে) অবশ্যই সমীহ করে থাকি। তিনি বললেন, তা নয়; বরং আল্লাহ তা'আলাকে যথোচিত সমীহ করার অর্থ এই যে, তুমি মাথা ও মাথার সংশ্লিষ্ট অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে সংযত রাখবে, পেট ও পেটের সংশ্লিষ্ট অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযত রাখবে এবং মৃত্যু ও ধ্বংসের কথা স্বরণ করবে। যে ব্যক্তি পরকাল কামনা করে সে দুনিয়ার চাক-চিক্য পরিহার করে। যে একাজগুলো করল, সেই আল্লাহ্ তা'আলাকে যথোচিত সমীহ করল।
(তিরমিযী (র) হাদীসটি বর্ণনা করে বলেন, হাদীসটি গরীব। হাদীসটি আবান ইবন ইসহাক-এর সূত্রে সাবাহ ইবন মুহাম্মদ থেকে বর্ণিত বলে আমরা জানি।
[সংকলক) হাফিয (র) বলেনঃ] আবান ও সাবাহ দু'জনই বিতর্কিত রাবী। কারও কারও মতে, সাবাহ হাদীসটি ভ্রমবশত মারফূ' হাদীসরূপে বর্ণনা করেছেন। তাঁর এরূপ বর্ণনার কারণে হাদীসটি দুর্বল বলে গণ্য হয়েছে। সঠিক মতে হাদীসটি মাওকূফ।)
كتاب التوبة والزهد
التَّرْغِيب فِي ذكر الْمَوْت وَقصر الأمل والمبادرة بِالْعَمَلِ وَفضل طول الْعُمر لمن حسن عمله وَالنَّهْي عَن تمني الْمَوْت
5083- وَعَن عبد الله بن مَسْعُود رَضِي الله عَنهُ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم اسْتَحْيوا من الله حق الْحيَاء قَالَ قُلْنَا يَا نَبِي الله إِنَّا لنستحيي وَالْحَمْد لله قَالَ لَيْسَ ذَلِك وَلَكِن الاستحياء من الله حق الْحيَاء أَن تحفظ الرَّأْس وَمَا وعى وَتحفظ الْبَطن وَمَا حوى ولتذكر الْمَوْت والبلى وَمن أَرَادَ الْآخِرَة ترك زِينَة الدُّنْيَا فَمن فعل ذَلِك فقد استحيا من الله حق الْحيَاء

رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَقَالَ حَدِيث غَرِيب إِنَّمَا نعرفه من حَدِيث أبان بن إِسْحَاق عَن الصَّباح بن مُحَمَّد
قَالَ الْحَافِظ أبان والصباح مُخْتَلف فيهمَا وَقد قيل إِن الصَّباح إِنَّمَا رفع هَذَا الحَدِيث وهما مِنْهُ وَضعف بِرَفْعِهِ وَصَوَابه مَوْقُوف وَالله أعلم

হাদীসের ব্যাখ্যা:

আল্লাহকে কিভাবে হায়া করা উচিত তার এক পরিপূর্ণ নকশা আল্লাহর রাসূল ﷺ আলোচ্য হাদীসে অংকন করেছেন। মাথা ও তার মধ্যে যা রয়েছে তার হিফাযত করার অর্থ হল চিন্তাকে গলদ খাতে প্রবাহিত হতে না দেয়া। সহীহ ও গলদ রাস্তার পার্থক্য অনুধাবন করা, হালাল-হারাম সম্পর্কে কোনরূপ সন্দেহ পোষণ না করা, দীন ইসলামকে একমাত্র দীন হিসেবে চিন্তা করা, যাবতীয় বাতিল মতাদর্শকে চিন্তার বহির্ভূত রাখা এবং মানুষের গড়া তামাম মতাদর্শকে সর্বদা বাতিল মনে করা। এ ছাড়াও কোনরূপ অশ্লীল কাজ করা বা মানুষের অনিষ্ট করার চিন্তা না করা। কোন কোন ক্ষেত্রে মন্দ চিন্তাধারা মানুষের ঈমান বিনষ্ট করে।

পেটের এবং পেটের ভিতরে যা জমা করা হয়, তার অর্থ হল হারাম রোযগার বা হারাম জিনিসের দ্বারা পেট না ভরা। হালাল বস্তু ও হালাল রোযগারের মাধ্যমে উপার্জিত বস্তুর দ্বারা ক্ষুধা-পিপাসা দূর না করলে বান্দার ইবাদত কবুল হয় না।

আল্লাহকে হায়া করার অর্থ হল দুনিয়ার যিন্দেগীর পরিবর্তে আখিরাতের যিন্দেগীকে প্রাধান্য দান করা এবং দুনিয়ার তথাকথিত কোন মূল্যবান জিনিসের লোভে আখিরাতের সামান্যতম লোকসান না করা। আখিরাতের স্থায়ী গৃহ ও তার অমূল্য নিয়ামত লাভ করার জন্য প্রয়োজনবোধে দুনিয়ার আরাম-আয়েশ কুরবান করা। আখিরাতের যিন্দেগীতে শুধু সুখ-শান্তি নয়, বরং দুঃখ-অশান্তিও রয়েছে। বান্দা মৃত্যুর কঠিন দরজা পার হয়ে আখিরাতের যিন্দেগীতে কদম রাখে। মৃত্যু তার যাবতীয় ভয়াবহতা নিয়ে আখিরাতের যাত্রীর সামনে উপস্থিত হয়। বান্দার ঈমান ও আমল মৃত্যুর পর থেকে শুরু করে আখিরাতের প্রত্যেক মনযিলে বান্দাকে সাহায্য করে। বান্দা দুনিয়াতে মন্দ আমল করলে তামাম মন্দ আমল কিম্ভুতকিমাকার মূর্তি নিয়ে তার সামনে হাযির হবে এবং তার মনের যাবতীয় শান্তি অপহরণ করবে। মন্দ মানুষের জন্য আখিরাতের প্রত্যেকটি মনযিল খুবই কঠিন হবে।

যে ব্যক্তি নিজের চিন্তাধারাকে গলদ রাস্তায় প্রবাহিত করে না, গলদ জিনিসের দ্বারা ক্ষুধা নিবারণ করে না, মৃত্যু ও তার পরবর্তী মনযিলসমূহের কথা চিন্তা করে এবং আখিরাতের জন্য দুনিয়াকে কুরবান করে, সে প্রকৃতপক্ষে আল্লাহকে হায়া করার হক আদায় করে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান