আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ

২৩. অধ্যায়ঃ তাওবা ও যুহদ

হাদীস নং: ৫১০০
অধ্যায়ঃ তাওবা ও যুহদ
মৃত্যুর স্মরণ, উচ্চাভিলাষ নিয়ন্ত্রণ ও আমলের প্রতি ধাবিত হওয়ার জন্য উৎসাহ প্রদান, নেক আমলকারীর দীঘায়ুর ফযীলত এবং মৃত্যু কামনার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা
৫১০০. হযরত আব্দুল্লাহ্ (রা) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: জান্নাত তোমাদের প্রত্যেকের জুতোর ফিতার চেয়েও অধিকতর নিকটবর্তী। জাহান্নামও তদ্রূপ।
(বুখারী প্রমুখ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
كتاب التوبة والزهد
التَّرْغِيب فِي ذكر الْمَوْت وَقصر الأمل والمبادرة بِالْعَمَلِ وَفضل طول الْعُمر لمن حسن عمله وَالنَّهْي عَن تمني الْمَوْت
5100- وَعَن عبد الله عَن النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ الْجنَّة أقرب إِلَى أحدكُم من شِرَاك نَعله وَالنَّار مثل ذَلِك

رَوَاهُ البُخَارِيّ وَغَيره

হাদীসের ব্যাখ্যা:

জান্নাত-জাহান্নাম অতি নিকটবর্তী হওয়ার অর্থ- অতি অল্প আমলই তাতে যাওয়ার কারণ হতে পারে। অর্থাৎ একজন লোক অল্প ‘ইবাদত-বন্দেগী দ্বারা জান্নাতে পৌঁছে যেতে পারে। অনুরূপ কোনও ব্যক্তির অল্প নাফরমানীও জাহান্নামে যাওয়ার কারণ হতে পারে। ইবন বাত্তাল রহ. এ হাদীছের ব্যাখ্যায় বলেন, 'ইবাদত-বন্দেগী মানুষকে জান্নাতে পৌঁছায় আর পাপকর্ম মানুষকে জাহান্নামের নিকটবর্তী করে দেয়। আর উভয় ক্ষেত্রেই কখনও কখনও অল্প আমলও যথেষ্ট হয়ে যায়। যেমন, এক হাদীছে আছে-

إِنَّ الرَّجُلَ لَيَتَكَلَّمُ بِالْكَلِمَةِ مَا يُلْقِي لَهَا بَالاً يَهْوِي بِهَا فِي نَارِ جَهَنَّمَ. وَإِنَّ الرَّجُلَ لَيَتَكَلَّمُ بِالْكَلِمَةِ مَا يُلْقِي لَهَا بَالاً يَرْفَعُهُ اللهُ بِهَا فِي الْجَنَّةِ

“কোনও কোনও লোক এমন এমন কথা বলে ফেলে, যাকে সে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ মনে করে না। অথচ সে এর ফলে জাহান্নামের তলদেশে নিক্ষিপ্ত হয়। এমনিভাবে কোনও কোনও লোক এমন এমন কথা বলে ফেলে, যাকে সে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ মনে করে না। অথচ সে কারণে আল্লাহ তাকে জান্নাতে তুলে নেন।মুআত্তা মালিক, হাদীছ নং ৩৬১২

এছাড়া আরও বিভিন্ন হাদীছ দ্বারা সহজ সহজ আমলের বিনিময়ে জান্নাত লাভ আবার তুচ্ছ তুচ্ছ আমলের কারণে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হওয়ার কথা জানা যায়। যেমন, পূর্বের যমানার জনৈক পাপী ব্যক্তি কুকুরকে পানি পান করানোর কারণে জান্নাত লাভের উপযুক্ত হয়েছিল। আবার জনৈকা মহিলা একটি বিড়ালকে বেধে রেখে না খাইয়ে মারার কারণে জাহান্নামী হয়েছিল। কারও জানা নেই আল্লাহর কাছে কখন কোন নেক আমল কবুল হয়ে যায়। আবার এটাও জানা নেই কোন্ পাপ আল্লাহর এমন ক্রোধের কারণ হয়ে দাঁড়ায়, যা মানুষকে জাহান্নামে পৌঁছে দেয়। এ কারণেই নবী কারীম সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিভিন্ন হাদীছে সতর্ক করেছেন, কেউ যেন কোনও নেক আমলকে তুচ্ছ মনে না করে এবং কোনও পাপকর্মকে অবহেলা না করে।

ইবনুল জাওযী রহ. বলেন, জান্নাতলাভ অতি সহজ, যদি সহীহ নিয়তের সঙ্গে নেক আমল করা যায়। অনুরূপ জাহান্নামে যাওয়াটাও অতি সহজ, যদি খেয়ালখুশিমত চলা হয় ও নাফরমানী করা হয়।

হাদীস থেকে শিক্ষণীয়ঃ

ক. মূলত এ হাদীছেও মুজাহাদার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। অনেক সময় নফস নেক আমল করতে প্রস্তুত হয় না। তখন যদি নফসের সঙ্গে লড়াই করে নেক আমল করা যায়, তবে হতে পারে সে আমলটি আল্লাহর কাছে এমন কবুল হবে, যদ্দরুন আল্লাহ নিজ রহমতে তাকে জান্নাত দান করবেন।
অনুরূপ অনেক সময় নফস গুনাহের দিকে ধাবিত হয়। তখন কর্তব্য নফসের সঙ্গে লড়াই করে সে গুনাহ থেকে বিরত থাকা। অন্যথায় হতে পারে সেই গুনাহে লিপ্ত হওয়ার কারণে আল্লাহ তা'আলা নারাজ হবেন, পরিণামে তাকে জাহান্নামে যেতে হবে। তাই প্রত্যেকের কর্তব্য, নেক আমলে লিপ্ত হওয়া ও বদ আমল থেকে বাঁচার জন্য নফসের বিরুদ্ধে সার্বক্ষণিক জিহাদে লিপ্ত থাকা।

খ. এ হাদীছ দ্বারা নেক আমলের প্রতি উৎসাহ পাওয়া যায়। কেননা জান্নাত যখন অতি কাছে, অর্থাৎ অতি সহজ আমল দ্বারাই তা লাভ করা যায়, যদি তা আল্লাহর কাছে কবুল হয়, তখন কেন আমরা নেক আমলে পিছিয়ে থাকব?

গ. অনুরূপ এর দ্বারা যে-কোনও পাপকর্ম সম্পর্কে সচেতন থাকার শিক্ষা লাভ হয়, যেহেতু জাহান্নাম অতি কাছে, অর্থাৎ যে-কোনও পাপকর্মই তাতে নিক্ষিপ্ত হওয়ার কারণ হয়ে যেতে পারে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ রিয়াযুস সালিহীন (অনুবাদ- মাওলানা আবুল বাশার মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম হাফি.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান