আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ

২৪. অধ্যায়ঃ জানাযা

হাদীস নং: ৫৩০৮
অধ্যায়ঃ জানাযা
এমন কিছু বাক্য পাঠে উৎসাহ দান, যেগুলো দ্বারা অসুস্থ ব্যক্তির জন্য দু'আ করা হয় এবং এমন কিছু বাক্য পাঠে উদ্বুদ্ধকরণ, যেগুলো অসুস্থ ব্যক্তি পড়বে
৫৩০৮. হযরত ইবন আববাস (রা)-এর সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি এমন অসুস্থ লোককে দেখতে যায়, যার মৃত্যুর সময় উপস্থিত হয়নি, সে তার কাছে সাতবার বলবে।
أَسْأَلُ اللهَ العَظيمَ رَبَّ العَرْشِ العَظِيمِ أَنْ يَشْفِيَكَ আল্লাহ্ তা'আলা তাকে সে রোগ থেকে সুস্থ করে দেবেন।
(আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ ও ইবন হিব্বান (র) স্বীয় 'সহীহ' কিতাব হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান আখ্যায়িত করেছেন। হাকিম হাদীসটি বর্ণনা করে বলেন, হাদীসটি বুখারীর শর্ত অনুযায়ী সহীহ।)
[হাফিয (র) বলেনঃ] নবী (ﷺ) অসুস্থ ব্যক্তির জন্য যেসব দু'আ করেছেন, অথবা করতে বলেছেন, তৎপ্রসঙ্গে বহু মাশাহুর হাদীস রয়েছে, যেগুলো আমার এ কিতাবের শর্ত অনুযায়ী নয়। তাই আমি সেগুলো উল্লেখ করা থেকে বিরত রইলাম।)
كتاب الجنائز
التَّرْغِيب فِي كَلِمَات يدعى بِهن للْمَرِيض وكلمات يقولهن الْمَرِيض
5308- عَن ابْن عَبَّاس رَضِي الله عَنْهُمَا عَن النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ من عَاد مَرِيضا لم يحضر أَجله فَقَالَ عِنْده سبع مَرَّات أسأَل الله الْعَظِيم رب الْعَرْش الْعَظِيم أَن يشفيك إِلَّا عافاه الله من ذَلِك الْمَرَض

رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَالتِّرْمِذِيّ وَحسنه وَالنَّسَائِيّ وَابْن حبَان فِي صَحِيحه وَالْحَاكِم وَقَالَ صَحِيح على شَرط البُخَارِيّ
قَالَ الْحَافِظ فِيمَا دَعَا بِهِ النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم للْمَرِيض أَو أَمر بِهِ أَحَادِيث مَشْهُورَة لَيست من شَرط كتَابنَا أضربنا عَن ذكرهَا

হাদীসের ব্যাখ্যা:

হাদীছটির সারমর্ম হল, যে রোগীর আয়ু ফুরিয়ে যায়নি, তার কাছে গিয়ে যদি বর্ণিত দু'আটি সাতবার পড়া হয়, তবে সে অবশ্যই আরোগ্য লাভ করবে, সে রোগী নারী হোক বা পুরুষ এবং তার রোগ যাই হোক না কেন। আয়ু ফুরিয়ে গেলে তখন আর কোনও দু'আ-দাওয়াই কাজে আসে না। কারও যখন মৃত্যুর সময় এসে যায়, তখন কোনও উপায়েই তা টলানো যায় না। এক মুহূর্ত আগেও হয় না, পরেও নয়। অবশ্য কার মৃত্যু কখন তা কারও জানা নেই। রোগী যেই রোগে আক্রান্ত, সেই রোগে তার মৃত্যু হবে কি না, তা কেউ বলতে পারে না। কাজেই যে-কোনও রোগীর কাছেই দু'আটি পড়া চাই। মৃত্যু এসে গেলে তা ঠেকানো যাবে না বটে, কিন্তু দু'আ পড়া বৃথা যাবে না। দু'আ করা ইবাদত। তা কবুল হবেই। অর্থাৎ আল্লাহ তা'আলার কাছে অবশ্যই ছাওয়াব পাওয়া যাবে। আর যদি আয়ু ফুরিয়ে না গিয়ে থাকে, তবে আল্লাহ চাহেন তো রোগ থেকে নিরাময় লাভ হবে। হাদীছের দু'আটি হল-
أسأل الله العظيم رب العرش العظيم أن يشفيك ( প্রার্থনা করছি মহান আল্লাহর কাছে, মহান আরশের অধিপতির কাছে, যেন তোমাকে আরোগ্য দান করেন)। এতে প্রথমে আল্লাহ তা'আলার প্রশংসা করা হয়েছে যে, তিনি নিজে মহান এবং মহা আরশের অধিপতি । আরশ আল্লাহ তা’আলার বিশাল সৃষ্টি। তা সারা আসমান-যমীন ঘিরে রেখেছে। এর উল্লেখ দ্বারা আল্লাহ তা'আলার বড়ত্ব ও তাঁর অসীম কুদরতের গুণগাণ করা হয়েছে। দু'আর শুরুতে আল্লাহ তা'আলার প্রশংসা করা দু'আ কবুলের পক্ষে সহায়ক হয়। সুতরাং হাদীছে দু'আটি যেভাবে বলা হয়েছে সেভাবেই পড়তে হবে। এটি পড়তে হবে সাতবার। 'সাত' সংখ্যার বিশেষ আছর আছে। বিভিন্ন হাদীছ দ্বারা এটা জানা যায়। তাই সাতবার পড়লেই দু'আটির যথাযথ সুফল পাওয়ার আশা থাকে।

প্রকাশ থাকে যে, যে-কোনও দু'আ কবুল হওয়ার জন্য কিছু শর্ত আছে। যেমন কবুলের প্রবল আশা রাখা, গভীর মনোযোগ ও দৃঢ় বিশ্বাসের সঙ্গে দু'আ করা, দু'আ কবুলের পক্ষে যা অন্তরায় তা দূর করা ইত্যাদি। হারাম খাদ্য দু'আ কবুলের পক্ষে অনেক বড় বাধা। সুতরাং দু'আ কবুলের আশাবাদীকে অবশ্যই হারাম খাদ্য ও হারাম উপার্জন থেকে বেঁচে থাকতে হবে। হারাম উপার্জন কেবল দু'আ কবুলের জন্যই বাধা নয়, জান্নাতপ্রাপ্তির পথেও অন্তরায়।

হাদীস থেকে শিক্ষণীয়ঃ

ক. আয়ু ফুরিয়ে গেলে মৃত্যু অবধারিত। চিকিৎসা বা অন্য কোনও ব্যবস্থা দ্বারা তা রোধ করা যায় না।

খ. কার মৃত্যু কখন তা কারও জানা নেই। তাই রোগীর চিকিৎসা ও তার সুস্থতার জন্য দু'আ অব্যাহত রাখা চাই।

গ. রোগী দেখতে গিয়ে হাদীছে বর্ণিত দু'আটি পড়া উচিত।

ঘ. দু'আর ক্ষেত্রে হাদীছে বর্ণিত সংখ্যার বিশেষ আছর রয়েছে। তাই দু'আটি নির্দিষ্ট সংখ্যায়ই পড়া উচিত।

ঙ. আরশ আল্লাহর মাখলুক। সেটি সুবিশাল। এর প্রতি বিশ্বাস রাখতে হবে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ রিয়াযুস সালিহীন (অনুবাদ- মাওলানা আবুল বাশার মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম হাফি.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান