আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ
২৬. অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
হাদীস নং: ৫৬৯৪
অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদ: জান্নাতের নহরসমূহের বর্ণনা
৫৬৯৪. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, একদা আমি জান্নাতে বিচরণ করছি, দেখি, আমার সামনে একটি নহর। তার দুই কেনারা ঠোঁলো মুক্তার ঢিবি। আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে জিবরীল! এটা কি? তিনি বললেন, এটা কাওসার। আপনার রব আপনাকে এটা দান করেছেন। তিনি বলেন, অতঃপর ফিরিশতা তার হাতে তুলে দেখলেন যে, তার কাদা হচ্ছে উন্নতমানের মেশক।
(বুখারী (র) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
(বুখারী (র) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
كتاب صفة الجنة والنار
فصل فِي أَنهَار الْجنَّة
5694- وَعَن أنس رَضِي الله عَنهُ أَن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ بَينا أَنا أَسِير فِي الْجنَّة إِذا أَنا بنهر حافتاه قباب اللُّؤْلُؤ المجوف فَقلت مَا هَذَا يَا جِبْرِيل قَالَ هَذَا الْكَوْثَر الَّذِي أَعْطَاك رَبك قَالَ فَضرب الْملك بِيَدِهِ فَإِذا طينه مسك أذفر
رَوَاهُ البُخَارِيّ
رَوَاهُ البُخَارِيّ
হাদীসের ব্যাখ্যা:
জান্নাত ভ্রমণকালে হাওযে কাওসারের নিকট উপস্থিত হওয়ার যে বিষয় নবী করীম (ﷺ) আলোচ্য হাদীসে উল্লেখ করেছেন তা সম্ভবতঃ শবে মে'রাজের ঘটনা। নবী করীম (ﷺ) -এর প্রশ্নের জবাবে জিবরাঈল (আ)-এর উক্তি এটা হাওযে কাওসার যা আপনার রব আপনাকে দান করেছেন তা কুরআন শরীফের আয়াত - إِنَّا أَعْطَيْنَكَ الْكَوْثَرُ এর দিকে ইঙ্গিত প্রদান করে। এ আয়াতে বলা হয়েছে যে, আমি আপনাকে কাওসার প্রদান করেছি কাওসারের অর্থ হল প্রচুর কল্যাণ। আল্লাহ তা'আলা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে কল্যাণের যে ভাণ্ডার প্রদান করেছেন তা হল, কুরআন, শরীয়াত, উচ্চ রূহানী সিফাত, দুনিয়া এবং আখিরাতে উচ্চ মর্যাদা প্রদান প্রভৃতি। যদিও এসব বিষয় কাওসারের অন্তর্ভুক্ত তবুও 'কাওসার' শব্দের খাস মিসদাক হল জান্নাতের প্রস্রবণ। এটা মনে রাখা দরকার যে দীন ও ঈমানের যে নি'আমত আল্লাহ তার রাসূল (ﷺ)-কে দান করেছেন এবং তার মাধ্যমে আল্লাহর বেশুমার বান্দাহর নিকট পৌঁছেছে আখিরাতে হাওযে কাওসার এবং নহরে কাওসারের রূপ নিয়ে তার প্রকাশ ঘটবে এবং তা থেকে আল্লাহর বেশুমার বান্দাহ কল্যাণ লাভ করবে এবং তৃষ্ণা নিবারণ করবে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)