আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ

২৬. অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা

হাদীস নং: ৫৭৩৮
অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ জান্নাতবাসীদের স্ত্রীদের বর্ণনা

হাফিয (র) বলেন, সর্বনিম্ন জান্নাতী সম্পর্কে ইবন উমর (রা)-এর হাদীসটি পূর্বে উল্লিখিত হয়েছে। তাতে
তখন সে তাকিয়ে দেখবে যে, আয়তলোচনা হুরদের থেকে একজন গৌরী রমনী তার রাজত্বের সিংহাসনের উপর বসে আছে। তার পরণে থাকবে সত্তরটি পোষাক। তন্মধ্যে একটি পোষাক অপর পোষাকের সমজাতীয় নয়। তার মাংস, রক্ত, হাঁড়, তদুপরি কাপড়ের উপর থেকে তার পায়ের গোছার মগজ দেখা যাবে। সে তার (গৌরী রমণীটির) দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করবে, তুমি কে হে? সে বলবে, আমি সেসব আয়তলোচনা হুরদের একজন যাদেরকে তোমার জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। এরপর সে তার প্রতি চল্লিশ বছর অবধি তাকিয়ে থাকবে। তার থেকে যেন ব্যক্তি তার দৃষ্টি ফেরাবে না। এরপর সে কামরার প্রতি দৃষ্টি তুলে দেখবে যে, সেখানে এর চেয়ে অধিক সুন্দরী আরেকজন রয়েছে। সে (সুন্দরী রমনী) বলবে, তোমার থেকে আমাদের অংশ পাওয়ার সময় তোমার এখনও হলো না বুঝি? সুতরাং সে চল্লিশ বছর যাবৎ তার পানে আবলোকন করতে থাকবে, তার থেকে জান্নাতী ব্যক্তি তার দৃষ্টি ফেরাবে না।
৫৭৩৮. হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, নিশ্চয় মর্যাদার দিক থেকে সর্বনিম্ন জান্নাতীর জন্য সাততলা বিশিষ্ট প্রাসাদ রয়েছে, সে ষষ্ঠ তলার উপর থাকবে এবং তার উপর থাকবে সপ্তম তলা। তার জন্য রয়েছে তিনশ' খেদমতগার। প্রতিদিন সকালে ও বিকালে তিনশ' খাঞ্চা তার
সামনে পেশ করা হবে এবং আমার জানা মতে, একমাত্র তিনি বলেছেন, 'সোনার তৈরী'। প্রতিটি খাঞ্চায় এমন খাবার থাকবে, যা অপরটিতে থাকবে না। সে প্রথম খাঞ্চার খাবার থেকে এভাবে স্বাদ পাবে, যেমন সে সর্বশেষ খাঞ্চা থেকে পাবে। এবং পানীয় থাকবে তিনশ' পাত্র। প্রতিটি পাত্রে এমন পানীয় থাকবে, যা অপরটিতে থাকবে না। সে প্রথম পাত্র থেকে এভাবে স্বাদ পাবে, যেমন সর্বশেষ পাত্র থেকে পাবে এবং সে বলবে, হে আমার প্রতিপালক। যদি আপনি আমাকে অনুমতি দেন, তবে আমি জান্নাতবাসীদেরকে খাওয়াব ও পান করাব। অথচ আমার কাছে যা কিছু রয়েছে, তা থেকে কিছু কমবে না। তার দুনিয়ার স্ত্রীগণ ব্যতীত তার জন্য রয়েছে বাহাত্তর জন আয়তলোচনা হুর স্ত্রী। তাদের মধ্য থেকে এক একজনের উপবেশন স্থল হবে এক মাইল পরিমাণ জায়গা নিয়ে।
(আহমাদ শাহর সূত্রে আবূ হুরায়রা (রা) থেকে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
كتاب صفة الجنة والنار
فصل فِي وصف نسَاء أهل الْجنَّة
قَالَ الْحَافِظ تقدم حَدِيث ابْن عمر فِي أَسْفَل أهل الْجنَّة وَفِيه فَينْظر فَإِذا حوراء من الْحور الْعين جالسة على سَرِير ملكهَا عَلَيْهَا سَبْعُونَ حلَّة لَيْسَ مِنْهَا حلَّة من لون صاحبتها فَيرى مخ سَاقهَا من وَرَاء اللَّحْم وَالدَّم والعظم وَالْكِسْوَة فَوق ذَلِك فَينْظر إِلَيْهَا فَيَقُول من أَنْت فَتَقول أَنا من الْحور الْعين من اللَّاتِي خبئن لَك فَينْظر إِلَيْهَا أَرْبَعِينَ سنة لَا يصرف بَصَره عَنْهَا ثمَّ يرفع بَصَره إِلَى الغرفة فَإِذا أُخْرَى أجمل مِنْهَا فَتَقول مَا آن لَك أَن يكون لنا مِنْك نصيب فيرتقي إِلَيْهَا أَرْبَعِينَ سنة لَا يصرف بَصَره عَنْهَا الحَدِيث
5738- وَعَن أبي هُرَيْرَة رَضِي الله عَنهُ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم إِن أدنى أهل الْجنَّة منزلَة إِن لَهُ لسبع دَرَجَات وَهُوَ على السَّادِسَة وفوقه السَّابِعَة وَإِن لَهُ لثلاثمائة خَادِم وَيغدى عَلَيْهِ كل يَوْم وَيرَاح بثلاثمائة صَحْفَة وَلَا أعلمهُ إِلَّا قَالَ من ذهب فِي كل صَحْفَة لون لَيْسَ فِي الْأُخْرَى وَإنَّهُ ليلذ أَوله كم يلذ آخِره وَإنَّهُ ليقول يَا رب لَو أَذِنت لي لأطعمت أهل الْجنَّة وسقيتهم لم ينقص مِمَّا عِنْدِي شَيْء وَإِن لَهُ من الْحور الْعين لاثْنَتَيْنِ وَسبعين زَوْجَة سوى أَزوَاجه من الدُّنْيَا وَإِن الْوَاحِدَة مِنْهُنَّ لتأْخذ مقعدتها قدر ميل من الأَرْض

رَوَاهُ أَحْمد عَن شهر عَنهُ
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান