আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ

২৬. অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা

হাদীস নং: ৫৭৬৪
অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
পরিচ্ছেদঃ জান্নাতীদের পারস্পরিক দেখা-সাক্ষাৎ ও তাদের বাহন জন্তুর বর্ণনা
৫৭৬৪. হয়রত মুফাই ইবন মাতি' (রা) থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, জান্নাতীদের নিয়ামতসমূহ থেকে অন্যতম নিয়ামত এই যে, তারা বাহণজন্তু ও উন্নতজাতের উট-অশ্বের উপর আরোহণ করে একে অপরের সাথে সাক্ষাৎ করবে। তারা জান্নাতে জীন ও লাগাম লাগানো এমন অশ্বে আরোহণ করে বিচরণ করবে, যারা মলমূত্র ত্যাগ করবে না। তারা সেগুলোতে আরোহণ করে যেখানে আল্লাহ তা'আলার ইচ্ছা হয় সেখানে নিয়ে পৌঁছবে। এরপর তাদের কাছে মেঘের আকারে কিছু আসবে। তাতে এমন নিয়ামত থাকতে, যা কোন চোখ দেখে নি এবং কোন কান শুনিনি। তারা বলবে, (হে মেঘ।) আমাদের উপর বৃষ্টি বর্ষণ কর। তখন তাদের উপর এমন মুষলধারে বৃষ্টি বর্ষিত হতে থাকবে যে, এটা তাদের আশার সীমা ছাড়িয়ে যাবে। এরপর আল্লাহ্ তা'আলা এরুপ বায়ু প্রেরণ করবেন, যা কষ্টদায়ক নয়। সে বায়ু তাদের ডান দিক থেকে তাদের বাম দিক থেকে মেশকের ডিবি উড়িয়ে আনবে। ফলে তারা সে মেশক তাদের ঘোড়ার কপালে ঘাড়ে ও তাদের মাথায় ধারণ করবে। তাদের প্রত্যেকের মনের ইচ্ছা মাফিক মাথায় লম্বা চুল থাকবে। সুতরাং সে মেশক সেসব লম্বা চুলে, ঘোড়ায় এবং কাপড়ে লাগবে। এরপর তারা অগ্রসর হয়ে যেখানে আল্লাহর ইচ্ছা হয়, সেখানে গিয়ে পৌছবে। দেখা যাবে যে, একজন রমণী তাদের একজনকে ডেকে বলবে, হে আল্লাহর বান্দা। তোমার কি আমাদের কোন প্রয়োজন নেই? উত্তরে সে বলবে তুমি কি এবং কে হে? জবাবে সে বলবে, আমি তোমার স্ত্রী ও তোমার বান্ধবী। সে বলবে, আমি তোমার অস্তিত্ব সম্পর্কে জ্ঞত ছিলাম না। রমনীটি তখন বলবে, তুমি কি জানতে না যে, আল্লাহ্ তা'আলা বলেছেন, তাদের কৃতকর্মের পুরস্কার স্বরূপ তাদের চোখ জুড়ানোর উপাদান স্বরূপ যা গোপন রাখা হয়েছে, তা কেউ জানে না।" (৩২ঃ ১৭) সে বলবে: হ্যাঁ। আমার রবের কসম। এ দাঁড়ানোর পর সম্ভবত রমণীটির ব্যাপারে তাকে চল্লিশ বছর উদাসীন করে রাখা হবে। সে তাকাবে না এবং ফিরেও আসবে না। তাতে বিদ্যমান নিয়ামত ও উচ্চমর্যাদাই তাকে সে রমণীটির ব্যাপারে উদাসীন করে রাখবে।
(ইবন আবিদ-দুনিয়া ইসমাঈল ইবন আয়্যাশের রিওয়ায়েতে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন)
[হাফিয (র) বলেন], বুখারী ও ইবন হিব্বান শুফাইকে তাবিঈনের মধ্যে গণ্য করেছেন। তাঁর সাহাবী হওয়ার ব্যাপারটি প্রমাণিত নয়। আবু নু'আয়ম বলেন, তাঁর ব্যাপারে বিতর্ক রয়েছে। কারও মতে, তিনি সাহাবী হওয়ায় সৌভাগ্য অর্জন করেছিলেন। আল্লাহই অধিকতর জ্ঞাত।)
كتاب صفة الجنة والنار
فصل فِي تزاورهم ومراكبهم
5764- عَن شفي بن ماتع أَن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ إِن من نعيم أهل الْجنَّة أَنهم يتزاورون على المطايا والنجب وَإِنَّهُم يُؤْتونَ فِي الْجنَّة بخيل مسرجة ملجمة لَا تروث وَلَا تبول فيركبونها حَتَّى ينْتَهوا حَيْثُ شَاءَ الله عز وَجل فيأتيهم مثل السحابة فِيهَا مَا لَا عين رَأَتْ وَلَا أذن سَمِعت فَيَقُولُونَ امطري علينا فَمَا يزَال الْمَطَر عَلَيْهِم حَتَّى يَنْتَهِي ذَلِك فَوق أمانيهم ثمَّ يبْعَث الله ريحًا غير مؤذية فتنسف كثبانا من مسك عَن أَيْمَانهم وَعَن شمائلهم فَيَأْخُذُونَ ذَلِك الْمسك فِي نواصي خيولهم وَفِي معارفها وَفِي رؤوسهم وَلكُل رجل مِنْهُم جمة على مَا اشتهت نَفسه فَيتَعَلَّق ذَلِك الْمسك فِي تِلْكَ الجمام وَفِي الْخَيل وَفِيمَا سوى ذَلِك من الثِّيَاب ثمَّ يقبلُونَ حَتَّى ينْتَهوا إِلَى مَا شَاءَ الله فَإِذا الْمَرْأَة تنادي بعض أُولَئِكَ يَا عبد الله أما لَك فِينَا حَاجَة فَيَقُول مَا أَنْت وَمن أَنْت فَتَقول أَنا زَوجتك وحبك فَيَقُول مَا كنت علمت بمكانك فَتَقول الْمَرْأَة أَو مَا تعلم أَن الله تَعَالَى قَالَ فَلَا تعلم نفس مَا أُخْفِي لَهُم من قُرَّة أعين جَزَاء بِمَا كَانُوا يعْملُونَ السَّجْدَة 71 فَيَقُول بلَى وربي
فَلَعَلَّهُ يشغل عَنْهَا بعد ذَلِك الْموقف أَرْبَعِينَ خَرِيفًا لَا يلْتَفت وَلَا يعود وَمَا يشْغلهُ عَنْهَا
إِلَّا مَا هُوَ فِيهِ من النَّعيم والكرامة

رَوَاهُ ابْن أبي الدُّنْيَا من رِوَايَة إِسْمَاعِيل بن عَيَّاش
قَالَ الْحَافِظ وشفي ذكره البُخَارِيّ وَابْن حبَان فِي التَّابِعين وَلَا تثبت لَهُ صُحْبَة وَقَالَ أَبُو نعيم مُخْتَلف فِيهِ فَقيل لَهُ صُحْبَة كَذَا وَالله أعلم
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান