আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ

২৬. অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা

হাদীস নং: ৫৭৮৯
অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
পূর্বে উল্লিখিত যেসব সুন্দর বিবরণ অন্তরে কল্পিত হয় অথবা বিবেক যার স্বীকৃতি দেয় জান্নাত ও জান্নাতবাসীগণ তার সর্বোচ্চ বিবরণেরও উর্ধ্বে এ প্রসঙ্গে বর্ণনা
৫৭৮৯. হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, জান্নাতে তোমাদের
যে কোন ব্যক্তির চাবুকের সমপরিমাণ জায়গা দুনিয়া ও তার সাথে তার সমপরিমাণ সম্পদ থেকে উত্তম।
জান্নাতে তোমাদের কারও ধনুক পরিমাণ জায়গা দুনিয়া ও তার সাথে তার সমপরিমাণ সম্পদ থেকে উত্তম এবং জান্নাতের কোন রমণীর ওড়না দুনিয়া ও তার সাথে সাথে সমপরিমাণ সম্পদ থেকে উত্তম। (বর্ণনাকারী বলেন,) আমি বললাম, হে আবূ হুরায়রা ওড়না কি? তিনি বললেন, মস্তকাবরণ।
(আহমাদ উৎকৃষ্ট সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। বুখারীও এ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তার বর্ণিত রিওয়ায়েতের পাঠ এরূপ: রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, জান্নাতে এক ধনুকের জায়গা তার চেয়ে উত্তম, যার উপর সূর্য উদিত হয়। তিনি বলেন, আল্লাহর পথের এক সকাল অথবা এক বিকাল তার চেয়ে উত্তম, যার উপর সূর্য উদিত হয় অথবা অস্তমিত হয়।
তিরমিযী ও হাদীসটি বর্ণনা করে একে সহীহ সাব্যস্ত করেছেন। তার বর্ণিত রিওয়ায়েতের পাঠ এরূপঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, "জান্নাতে একটি চাবুকের জায়গা দুনিয়া ও তার সবকিছু থেকে উত্তম। যদি তোমরা চাও পড়ঃ "যাকে অগ্নি থেকে দূরে রাখা হবে এবং জান্নাতে দাখিল করা হবে সেই সফলকাম। এবং পার্থিব জীবন ছলনাময় ভোগ ব্যতীত কিছু নয়" (৩: ১৮৫)।
তাবারানী 'আল-আওসাতে' এমন এক সনদে সংক্ষিপ্তাকারে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন, যার বর্ণনাকারীগণ সহীহ হাদীসের রাবী। তাঁর বর্ণিত রিওয়ায়েতের পাঠ এরূপঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, জান্নাতে একটি চাবুকের জায়গা আকাশ ও পৃথিবীর মধ্যবর্তী স্থানের চেয়ে উত্তম। ইবন হিব্বান তাঁর 'সহীহ' কিতাবে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তাঁর বর্ণিত রিওয়ায়েতের পাঠ এরকম। তিনি বলেনঃ আল্লাহর পথের এক সকাল অথবা এক বিকাল দুনিয়া ও দুনিয়ার মধ্যে যা কিছু রয়েছে, তা থেকে উত্তম এবং জান্নাতে তোমাদের কারও ধনুকের সমপরিমাণ জায়গা অথবা একটি কদমের জায়গা দুনিয়া ও দুনিয়ার মধ্যে যা কিছু রয়েছে তা থেকে উত্তম। যদি জান্নাতবাসীদের স্ত্রীদের থেকে কোন মহিলা পৃথিবীর প্রতি উকি মারে তবে আকাশ ও পৃথিবীর মধ্যবর্তী স্থান আলোকিত করে দেবে এবং উভয়ের মধ্যবর্তী স্থান ঘ্রাণে ভরে দেবে। তার মাথার ওড়না দুনিয়া ও দুনিয়ার মধ্যে যা কিছু রয়েছে, তা থেকে উত্তম।)
كتاب صفة الجنة والنار
فصل فِي أَن أَعلَى مَا يخْطر على البال أَو يجوزه الْعقل من حسن الصِّفَات الْمُتَقَدّمَة فالجنة وَأَهْلهَا فَوق ذَلِك
5789- وَعَن أبي هُرَيْرَة رَضِي الله عَنهُ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قيد سَوط أحدكُم فِي الْجنَّة خير من الدُّنْيَا وَمثلهَا مَعهَا وَلَقَاب قَوس أحدكُم من الْجنَّة خير من الدُّنْيَا وَمثلهَا مَعهَا ولنصيف امْرَأَة من الْجنَّة خير من الدُّنْيَا وَمثلهَا مَعهَا قلت يَا أَبَا هُرَيْرَة مَا النصيف قَالَ الْخمار

رَوَاهُ أَحْمد بِإِسْنَاد جيد وَالْبُخَارِيّ وَلَفظه أَن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ لَقَاب قَوس فِي الْجنَّة خير مِمَّا تطلع عَلَيْهِ الشَّمْس وَقَالَ لغدوة
وَرَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَصَححهُ وَلَفظه قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم وَمَوْضِع سَوط فِي الْجنَّة خير من الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا واقرؤوا إِن شِئْتُم فَمن زحزح عَن النَّار وَأدْخل الْجنَّة فقد فَازَ وَمَا الْحَيَاة الدُّنْيَا إِلَّا مَتَاع الْغرُور أَو رَوْحَة فِي سَبِيل
الله خير مِمَّا تطلع عَلَيْهِ الشَّمْس أَو تغرب آل عمرَان 581
رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ فِي الْأَوْسَط مُخْتَصرا بِإِسْنَاد رُوَاته رُوَاة الصَّحِيح وَلَفظه قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم لموْضِع سَوط فِي الْجنَّة خير مِمَّا بَين السَّمَاء وَالْأَرْض
وَابْن حبَان فِي صَحِيحه وَلَفظه قَالَ غدْوَة فِي سَبِيل الله أَو رَوْحَة خير من الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا وَلَقَاب قَوس أحدكُم أَو مَوضِع قدم من الْجنَّة خير من الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا وَلَو أَن امْرَأَة اطَّلَعت إِلَى الأَرْض من نسَاء أهل الْجنَّة لَأَضَاءَتْ مَا بَينهمَا ولملأت مَا بَينهمَا ريحًا وَلنَصِيفهَا على رَأسهَا خير من الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا

হাদীসের ব্যাখ্যা:

ধনুক রাখার স্থান চাবুক রাখার স্থানের মত এবং তার দ্বারা এমন ক্ষুদ্রতম স্থান বুঝান হয়েছে যা একজন মুসাফিরের বিশ্রাম করার জন্য প্রয়োজন হয়। কিন্তু জান্নাতের এমন ক্ষুদ্রতম স্থানও সারা দুনিয়ার চেয়ে উত্তম। কিয়ামতের দিন জান্নাতী ও জাহান্নামী উপলব্ধি করতে পারবে যে, জান্নাতের সামান্যতম স্থানের মূল্য ও গুরুত্ব কত বেশী। অপরাধী উপলব্ধি করবে যে, দুনিয়ার যিন্দেগীতে যত ধনদৌলত উপার্জন করে থাকুক না কেন তা তার জন্য নিষ্ফল হয়ে গেছে এবং গোটা দুনিয়ার ধনদৌলতও তার কোন কাজে আসবে না।

জান্নাতের এক টুকরার মধ্যে যে অগণিত নি'আমত এবং সাজসরঞ্জাম রয়েছে তা দেখে জান্নাতী ব্যক্তি উৎফুল্ল ও আনন্দিত হবে। দুনিয়ার জীবনে সে যে দুনিয়াকে অকিঞ্চিতকর মনে করত তার বাস্তব প্রমাণ সে আখিরাতে পাবে এবং তার মনে হবে যে, আল্লাহর দীনকে কায়েম করার জন্য আরও বেশী চেষ্টা সাধনা করলে সে আরও উচ্চ মর্যাদার অধিকারী হত।

আখিরাতের জীবন লাভে যারা চেষ্টা সাধনা করে আল্লাহ্ তা'আলা তাদেরকে দুনিয়া এবং আখিরাত উভয়ই দান করেন। কিন্তু যারা শুধুমাত্র দুনিয়া হাসিল করতে চায় তারা আখিরাত থেকে বঞ্চিত হবে এবং দুনিয়ার আরাম-আয়েশ ততটুকু হাসিল করতে সক্ষম হবে যতটুকু আল্লাহ তাদের জন্যে লিখে রেখেছেন। তারা আখিরাতের সাফল্যের জন্য আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে থাকলে দুনিয়ার জীবনের হিসসা যা লাভ করেছে তা থেকে একবিন্দু পরিমাণও কম পেত না।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান