মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)

৭. নামাযের অধ্যায়

হাদীস নং: ১৩৪১
নামাযের অধ্যায়
(২) অনুচ্ছেদ: ফিতনার আশংকা থাকলে নারীদেরকে জামাআতে যেতে বাধা প্রদান প্রসঙ্গে অধ্যায় (এবং তাদের গৃহে সালাত আদায়ের ফযীলত)
(১৩৩৭) আবু হুমাইদ আস-সায়িদী-এর স্ত্রী উম্মে হুমাইদ (রা) থেকে বর্ণিত, একদা তিনি নবী (ﷺ)-এর কাছে আসলেন বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ, আমি আপনার সাথে (মসজিদে) সালাত আদায় করতে পছন্দ করি। রাসূল (সা বললেন, আমি জানি যে, তুমি আমার সাথে সালাত আদায় করতে পছন্দ কর, কিন্তু তোমার ঘরের কোণের সালাত অভ্যর্থনা কক্ষের সালাত অপেক্ষা উত্তম এবং তোমার বারান্দার সালাত তোমার হুজরার সালাত অপেক্ষা উত্তম তোমার হুজরার সালাত তোমার গৃহের সালাত অপেক্ষা উত্তম, তোমার গৃহের সালাত তোমার কাওমের মসজিদের সালাত অপেক্ষা উত্তম, তোমার কাওমের মসজিদের সালাত আমার মসজিদের (মসজিদে নববী) সালাত অপেক্ষা উত্তম। রাবী বলেন, এরপর তিনি নির্দেশ দিলেন, ফলে তাঁর জন্য তাঁর বাড়ির একেবারে অভ্যন্তরে অন্ধকার স্থানে। একটি নামাযের স্থান তৈরী করা হল। তিনি আল্লাহর সাথে সাক্ষাতের পূর্ব পর্যন্ত ঐ স্থানেই সালাত আদায় করতেন।
(তবারানী, ইবনে খুযাইমা ও ইবনে হিব্বান।)
كتاب الصلاة
(2) باب منعهن من الخروج اذا خشى منه الفتنة (وفضل صلاتهن فى بيوتهن)
(1341) عن عبد الله بن سويد الأنصارىَّ عن عمَّته أمِّ حميدٍ امرأة أبى حميدٍ السَّاعدىِّ رضى الله عنهما أنَّها جاءت النَّبيَّ صلَّى الله عليه وآله وسلَّم فقالت يا رسول الله إنَّى أحبُّ الصَّلاة معك، قال قد علمت أنَّك تحبِّين الصَّلاة معى، وصلاتك فى بيتك خيرٌ لك من صلاتك في حجرتك، وصلاتك في حجرتك خيرٌ لك من صلاتك فى دارك، وصلاتك فى دارك خيرٌ لك من صلاتك فى مسجد قومك، وصلاتك فى مسجد قومك خيرٌ لك من صلاتك فى مسجدى، قال فأمرت فبنى لها مسجدٌ فى أقصى شئ من بيتها وأظلمه فكانت تصلِّى فيه حتَّى لقيت الله عزَّ وجلَّ

হাদীসের ব্যাখ্যা:

রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর জীবনকালে যখন মসজিদে নববীতে দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের ইমামতি করতেন, তখন তিনি একথা পরিষ্কার করে বলেছেন: মহিলাদের নিজ ঘরে সালাত আদায় করা উত্তম এবং তাতে অনেক সাওয়াব রয়েছে। বহু সংখ্যক সতী সাধবী নারী একান্তভাবেই আগ্রহী ছিলেন যে, তাঁরা কমপক্ষে তাঁর পিছনে এশা ও ফজরের সালাত জামা'আতের সাথে আদায় করবেন। কিন্তু কিছু সংখ্যক লোক তাদের স্ত্রীদের অনুমতি দিচ্ছিলেন না। তবে তাঁদের অনুমতি না দেওয়ার পেছন কোন ফিতনা কিংবা কু-ধারণা নিহিত ছিল না। কারণ তখন পুরো সমাজ ইসলামী ভাবধারা অবগাহিত ছিল। বরং শরী'আত পরিপন্থী একটি চেতনাই নিষেধের ভিত্তি ছিল। তাই রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে যারা রাতের সালাত জামা'আতের সাথে আদায়ে আগ্রহী, তোমরা তাদের অনুমতি দিবে। কিন্তু তিনি নারীদের সর্বদা একথা বুঝাতে চেষ্টা করেছেন যে, নিজ ঘরে সালাত আদায়ে তোমাদের জন্য রয়েছে অনেক সাওয়াব।

মহিলাদের মসজিদের সালাত আদায়ের ব্যাপারে বিভিন্ন পর্যায়ে রাসূলুল্লাহ ﷺ বাণী প্রদান করেছেন। কিন্তু মহিলাদের মনে ঘরে সালাত আদায়ে অনেক সাওয়াব হওয়ার বিষয়টি স্থান পেলেও তাঁরা এতটুকু আবেগপ্রবণ হয়েছিলেন যে, কমপক্ষে তাঁরা রাতে মসজিদে গিয়ে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর পেছনে সালাত আদায় করবেন।

এ আবেগের মূলে ছিল রাসূলুল্লাহ ﷺ এর প্রতি তাদের ঈমানী ভালবাসা। কারণ সে যুগে কোন ধরনের ফিতনার আশংকা ছিল না। তাই রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: তোমাদের স্ত্রীরা রাতের সালাত আদায়ের লক্ষ্যে মসজিদে যাবার অনুমতি চাইলে তোমরা তাদের অনুমতি দিবে। বলাবাহুল্য, মহিলাদের মসজিদে যাবার অনুমতি তখন কার্যকর ছিল, যখন কোন প্রকার ফিতনার আশংকা ছিল না। কোন কোন সাহাবী নিজ চিন্তা-চেতনার বশবর্তী হয়ে নিজ স্ত্রীদের মসজিদে যেতে বারণ করতেন। তারপর নারী পুরুষ উভয় মহলে যখন দ্রুত অবস্থার পরিবর্তন ঘটে এবং ফিতনার তীব্র আশংকা সৃষ্টি হয় তখন হযরত আয়েশা (রা) (যিনি মহিলাদের ভেতর-বাইর সর্ববিধ বিষয়ে এবং রাসূলুল্লাহ ﷺ এর মেযাজ মরযি সম্পর্কে সর্বাধিক জ্ঞাত ছিলেন) বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ যদি বর্তমানকালের মহিলাদের দেখতেন, তবে তিনি স্বয়ং তাদের মসজিদে আসতে নিষেধ করতেন, যেমনিভাবে-বনী ইসরাঈলের মহিলাদের (এসব কারণে) মসজিদে আসতে বারণ করা হয়েছিল। (বুখারী ও মুসলিম)

এ ভাষ্য হযরত আয়েশা (রা) এর। তিনি অধিকাংশ সাহাবীর বরাতে বলেন, বর্তমান যুগে মহিলাদের মসজিদে না যাওয়া উচিত। এরপর সমাজ ব্যবস্থায় যে আমূল পরিবর্তন ঘটেছে তাতে একথা স্পষ্ট যে, বর্তমান যুগে মহিলাদেরকে মসজিদে যাওয়ার অনুমতি দানের প্রশ্নই উঠে না।

(আলোচ্য হাদীসসমূহের ব্যাখ্যায় যা লেখা হয়েছে তা মূলত হযরত শাহ ওয়ালী উল্লাহ্ (র) প্রণীত হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগা থেকে সংগৃহীত। (২য় খণ্ড, পৃ. ২৬))
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান