আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ
২৬. অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
হাদীস নং: ৫৭৯৮
অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
জান্নাতীদের জান্নাতে ও জাহান্নামীগণের জাহান্নামে চিরকাল থাকার বর্ণনা এবং মৃত্যুকে যবাই করা সম্পর্কে বর্ণিত হাদীসসমূহ
৫৭৯৮. অপর এক রিওয়ায়েতে আছে যে, নবী (ﷺ) জাহান্নামীদেরকে জাহান্নামে প্রবেশ করাবেন। এরপর তাদের মাঝে একজন ঘোষণাকারী দাঁড়িয়ে বলবে, হে জান্নাতীগণ। কোন মৃত্যু নেই, হে জাহান্নামীগণ কোন মৃত্যু নেই। প্রত্যেকেই যে যে অবস্থায় আছে সে সে অবস্থায় চিরকাল থাকবে।
(বুখারী ও মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
বুখারী (র) তাঁর গ্রন্থখানি যে হাদীসের মাধ্যমে সমাপ্ত করেছেন, আমি ও এ গ্রন্থখানি সে হাদীসের মাধ্যমে
সমাপ্ত করছি। তা হচ্ছে আবু হুরায়রা (রা)-এর হাদীস,
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, দু'টি বাক্য পরম দয়ালু আল্লাহর কাছে প্রিয়, রসনায় উচ্চারণে সহজ,পাল্লায় ভারী। (সে দু'টি বাক্য হচ্ছে ( سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ، سُبْحَانَ اللَّهِ الْعَظِيمِ "আমরা আল্লাহ্ তা'আলা সপ্রশংসা তাসবীহ পাঠ করছি, আমরা মহান আল্লাহর তাসবীহ পাঠ করছি।"
এ গ্রন্থের যিনি শ্রুতলিখন করেছেন সেই আব্দুল আযীম (র) বলেন, আল্লাহ্ তা'আলা আমাদেরকে হাদীস লিপিবদ্ধ করার যে তাওফীক দিয়েছেন, তা পূর্ণ হয়েছে, আমরা আল্লাহর কাছে মুখের ত্রুটি-বিচ্যুতি, মেধার দুর্বলতা ও ভুল-ভ্রান্তি থেকে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। কেননা শান্তি, স্থিরতা, গভীর দৃষ্টি ও দীর্ঘ চিন্তা ভাবনা সত্ত্বেও যে কোন লেখক এ সবকিছু থেকে কমই মুক্ত হতে পারে। সুতরাং এ গ্রন্থকারের সময়ের স্বল্পতা একের পর এক এক দুঃখ-চিন্তা, মানসিক ব্যস্ততা, প্রবাস জীবন ও গ্রন্থমালার অনুপস্থিতির মাঝে কি অবস্থা হবে? ঘটনাক্রমে এ গ্রন্থের কিছু অধ্যায় এমন স্থানে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে, যেখানে লিপিবদ্ধ না করে অন্যত্র লিপিবদ্ধ করা উচিত ছিল। কিন্তু এরূপ করার কারণ, সেগুলো যথাস্থানে স্মরণে পড়েনি। কিন্তু সেগুলো অন্যত্র স্মরণে পড়ায়, যেখানেই সুযোগ হয়েছে লিপিবদ্ধ করেছি। একারণে গ্রন্থের শুরুতে অধ্যায়সমূহের সূচি প্রদান করেছি। এমনিভাবে এ গ্রন্থে এমন বহু হাদীস পূর্বে উল্লিখিত হয়েছে, সেগুলো সহীহ, বুখারী ও মুসলিমের শর্ত অনুযায়ী অথবা কোন একটির শর্ত অনুযায়ী সহীহ্ এবং হাসান। কিন্তু অনেকগুলোতেই আমি তা উল্লেখ করিনি। বরং প্রায় বলেছি: সনদ উৎকৃষ্ট অথবা তার বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য, অথবা সহীহ হাদীসের রাবী ইত্যাদি উল্লেখ না করার কারণ, এ গ্রন্থ রচনা কালে ইল্লতগুলো আমার কাছে উপস্থিত ছিল না। এমনিভাবে বক্তব্য অথবা সনদের বেলায় বহু শায ও গারীব হাদীসও পূর্বে উল্লিখিত হয়েছে। সেগুলোর গারাবাত ও শুযূয বর্ণণার পেছনে আমি পড়িনি।
আল্লাহর কাছে দু'আ করছি, যেন তিনি গ্রন্থটিকে একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করে নেন এবং একে উপাদেয় করে দেন। তিনি তো সর্বব্যাপী মহা ক্ষমতার মালিক।)
(বুখারী ও মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
বুখারী (র) তাঁর গ্রন্থখানি যে হাদীসের মাধ্যমে সমাপ্ত করেছেন, আমি ও এ গ্রন্থখানি সে হাদীসের মাধ্যমে
সমাপ্ত করছি। তা হচ্ছে আবু হুরায়রা (রা)-এর হাদীস,
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, দু'টি বাক্য পরম দয়ালু আল্লাহর কাছে প্রিয়, রসনায় উচ্চারণে সহজ,পাল্লায় ভারী। (সে দু'টি বাক্য হচ্ছে ( سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ، سُبْحَانَ اللَّهِ الْعَظِيمِ "আমরা আল্লাহ্ তা'আলা সপ্রশংসা তাসবীহ পাঠ করছি, আমরা মহান আল্লাহর তাসবীহ পাঠ করছি।"
এ গ্রন্থের যিনি শ্রুতলিখন করেছেন সেই আব্দুল আযীম (র) বলেন, আল্লাহ্ তা'আলা আমাদেরকে হাদীস লিপিবদ্ধ করার যে তাওফীক দিয়েছেন, তা পূর্ণ হয়েছে, আমরা আল্লাহর কাছে মুখের ত্রুটি-বিচ্যুতি, মেধার দুর্বলতা ও ভুল-ভ্রান্তি থেকে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। কেননা শান্তি, স্থিরতা, গভীর দৃষ্টি ও দীর্ঘ চিন্তা ভাবনা সত্ত্বেও যে কোন লেখক এ সবকিছু থেকে কমই মুক্ত হতে পারে। সুতরাং এ গ্রন্থকারের সময়ের স্বল্পতা একের পর এক এক দুঃখ-চিন্তা, মানসিক ব্যস্ততা, প্রবাস জীবন ও গ্রন্থমালার অনুপস্থিতির মাঝে কি অবস্থা হবে? ঘটনাক্রমে এ গ্রন্থের কিছু অধ্যায় এমন স্থানে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে, যেখানে লিপিবদ্ধ না করে অন্যত্র লিপিবদ্ধ করা উচিত ছিল। কিন্তু এরূপ করার কারণ, সেগুলো যথাস্থানে স্মরণে পড়েনি। কিন্তু সেগুলো অন্যত্র স্মরণে পড়ায়, যেখানেই সুযোগ হয়েছে লিপিবদ্ধ করেছি। একারণে গ্রন্থের শুরুতে অধ্যায়সমূহের সূচি প্রদান করেছি। এমনিভাবে এ গ্রন্থে এমন বহু হাদীস পূর্বে উল্লিখিত হয়েছে, সেগুলো সহীহ, বুখারী ও মুসলিমের শর্ত অনুযায়ী অথবা কোন একটির শর্ত অনুযায়ী সহীহ্ এবং হাসান। কিন্তু অনেকগুলোতেই আমি তা উল্লেখ করিনি। বরং প্রায় বলেছি: সনদ উৎকৃষ্ট অথবা তার বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য, অথবা সহীহ হাদীসের রাবী ইত্যাদি উল্লেখ না করার কারণ, এ গ্রন্থ রচনা কালে ইল্লতগুলো আমার কাছে উপস্থিত ছিল না। এমনিভাবে বক্তব্য অথবা সনদের বেলায় বহু শায ও গারীব হাদীসও পূর্বে উল্লিখিত হয়েছে। সেগুলোর গারাবাত ও শুযূয বর্ণণার পেছনে আমি পড়িনি।
আল্লাহর কাছে দু'আ করছি, যেন তিনি গ্রন্থটিকে একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করে নেন এবং একে উপাদেয় করে দেন। তিনি তো সর্বব্যাপী মহা ক্ষমতার মালিক।)
كتاب صفة الجنة والنار
فصل فِي خُلُود أهل الْجنَّة فِيهَا وَأهل النَّار فِيهَا وَمَا جَاءَ فِي ذبح الْمَوْت
5798- وَفِي رِوَايَة أَن النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ يدْخل الله أهل الْجنَّة الْجنَّة وَأهل النَّار النَّار ثمَّ يقوم مُؤذن بَينهم فَيَقُول يَا أهل الْجنَّة لَا موت وَيَا أهل النَّار لَا موت كل خَالِد فِيمَا هُوَ فِيهِ رَوَاهُ البُخَارِيّ وَمُسلم ولنختم الْكتاب بِمَا ختم بِهِ البُخَارِيّ رَحمَه الله كِتَابه وَهُوَ حَدِيث أبي هُرَيْرَة رَضِي الله عَنهُ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم كلمتان حبيبتان إِلَى الرَّحْمَن خفيفتان على اللِّسَان ثقيلتان فِي الْمِيزَان سُبْحَانَ الله وَبِحَمْدِهِ سُبْحَانَ الله الْعَظِيم قَالَ الْحَافِظ زكي الدّين عبد الْعَظِيم مملي هَذَا الْكتاب رَضِي الله عَنهُ وَقد تمّ مَا أرادنا الله بِهِ من هَذَا الْإِمْلَاء الْمُبَارك ونستغفر الله سُبْحَانَهُ مِمَّا زل بِهِ اللِّسَان أَو دَاخله ذُهُول أَو غلب عَلَيْهِ نِسْيَان فَإِن كل مُصَنف مَعَ التؤدة والتأني وإمعان النّظر وَطول الْفِكر قل أَن يَنْفَكّ عَن شَيْء من ذَلِك فَكيف بالمملى مَعَ ضيق وقته وترادف همومه واشتغال باله وغربة وَطنه وغيبة كتبه وَقد اتّفق إملاء عدَّة من الْأَبْوَاب فِي أَمَاكِن كَانَ الْأَلْيَق بهَا أَن تذكر فِي غَيرهَا وَسبب ذَلِك عدم استحضارها فِي تِلْكَ الْأَمَاكِن ونذكرها فِي غَيرهَا فأمليناه حسب مَا اتّفق وَقدمنَا فهرست الْأَبْوَاب أول الْكتاب لأجل ذَلِك وَكَذَلِكَ تقدم فِي هَذَا الْإِمْلَاء أَحَادِيث كَثِيرَة جدا صِحَاح وعَلى شَرط الشَّيْخَيْنِ أَو أَحدهمَا وَلَكِن لم ننبه على كثير من ذَلِك بل قلت غَالِبا إِسْنَاد جيد أَو رُوَاته ثِقَات أَو رُوَاة الصَّحِيح أَو نَحْو ذَلِك وَإِنَّمَا منع من النَّص على ذَلِك تَجْوِيز وجود عِلّة لم تحضرني مَعَ الْإِمْلَاء وَكَذَلِكَ تقدم أَحَادِيث كَثِيرَة غَرِيبَة وشاذة متْنا أَو إِسْنَادًا لم أتعرض لذكر غرابتها وشذوذها وَالله أسأَل أَن يَجعله خَالِصا لوجهه الْكَرِيم وَأَن ينفع بِهِ إِنَّه ذُو الطول الْوَاسِع الْعَظِيم