মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)

৭. নামাযের অধ্যায়

হাদীস নং: ১৬৪১
নামাযের অধ্যায়
(চার) আযান ইকামত ব্যতিরেকে খুৎবার পূর্বে দু'রাকাত ঈদের সালাত আদায় সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ
(১৬৩৭) 'আবদুল্লাহ ইবনে 'আব্বাস (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি এ মর্মে সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, রাসূল (ﷺ) খুৎবার পূর্বে ঈদের সালাত আদায় করতেন, অতঃপর খুৎবা প্রদান করতেন, তিনি যখন দেখলেন সমবেত মহিলাগণ (দূরত্বের কারণে) তাঁর বক্তৃতা শ্রবণ করতে পারে নি, তখন তিনি তাদের কাছে গমন করলেন, তাঁদেরকে ওয়াজ-নসীহত করলেন এবং দান-সাদকাহ্ করার ব্যাপারে আদেশ করলেন। রাসূল (ﷺ)-এর বর্ণনা শুনে উপস্থিত মহিলাগণ তাঁদের কানের দুল ও হাতের আংটিসহ অন্যান্য গহনাদি দান-সাদকাহর উদ্দেশ্যে প্রদান করতে থাকলেন।
(সহীহ মুসলিম, সুনানে আবু দাউদ, সুনান আল-বাইহাকী।)
كتاب الصلاة
(4) باب صلاة العيد ركعتين قبل الخطبة بغير أذان ولا إقامة - واتخاذ سترة أمام الإمام فى المصلَّى
(1641) عن ابن عبَّاسٍ رضى الله عنهما أشهد (2) على رسول الله صلَّى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلَّم صلَّى (3) قبل الخطبة فى العيد ثمَّ خطب فرأى أنَّه لم يسمع النِّساء (4) فأتاهنَّ فذكَّرهنَّ ووعظهنَّ وأمرهنَّ بالصَّدقة فجعلت المرأة تلقى الخرص (5) والخاتم والشَّيء

হাদীসের ব্যাখ্যা:

এই হাদীসে ঈদের খুতবায় পুরুষের পাশাপাশি নারীদেরও পৃথকভাবে সম্বোধন করার বিষয় উল্লিখিত হয়েছে। হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে আববাস (রা) থেকে বর্ণিত সহীহ্ মুসলিমের এক হাদীস সূত্রে জানা যায় যে, নবী কারীম ﷺ খেয়াল করেছিলেন যে, নারীরা খুতবা শুনতে পায়নি (তাই তিনি পৃথকভাবে তাদের নসীহত করেন)।

জ্ঞাতব্যঃ রাসূলুল্লাহ ﷺ এর যুগে দুই ঈদের সালাতে সাধারণভাবে মহিলারা অংশ নিত। বরং বলা যায়, এ বিষয়ে তাঁর নির্দেশও ছিল। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে এবং মুসলমানদের মধ্যে ফিতনা ফাসাদ দেখা দেওয়ায় ফিকহবিদ বিশেষজ্ঞ আলিমগণ যেমন জুমু'আ ও পাঁচ ওয়াক্তের সালাতে মহিলাদের জামা'আতে অংশগ্রহণ করাকে অসমীচীন মনে করেন, অনুরূপভাবে দুই ঈদের সালাতের ক্ষেত্রেও তাদের ঈদগাহে যাওয়া তারা অসমীচীন মনে করেন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান
মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ - হাদীস নং ১৬৪১ | মুসলিম বাংলা