মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)

৭. নামাযের অধ্যায়

হাদীস নং: ১৬৪৩
নামাযের অধ্যায়
(চার) আযান ইকামত ব্যতিরেকে খুৎবার পূর্বে দু'রাকাত ঈদের সালাত আদায় সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ
(১৬৩৯) 'আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) ঈদুল ফিতর দিবসে উপস্থিত লোকদেরকে নিয়ে আযান ও ইকামত বিহীন ঈদের সালাত আদায় করলেন, অতঃপর খুৎবা দিলেন, খুৎবা শেষে তিনি বিলাল (রা)-এর হাত ধরে মহিলাদের নিকট গমন করলেন এবং তাদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য প্রদান করলেন। রাসুল (ﷺ) মহিলাদের নিকট থেকে চলে যাবার সময় বিলাল (রা)-কে এ মর্মে নির্দেশ দিলেন যে, বিলাল (রা) যেন মহিলাদের কাছে যায় এবং তাদেরকে দান সাদকাহ করার ব্যাপারে নির্দেশ প্রদান করে।
كتاب الصلاة
(4) باب صلاة العيد ركعتين قبل الخطبة بغير أذان ولا إقامة - واتخاذ سترة أمام الإمام فى المصلَّى
(1643) عن ابن عبَّاسٍ رضى الله عنهما قال صلَّى نبيُّ الله (صلى الله عليه وسلم) بالنَّاس يوم فطرٍ ركعتين بغير أذانٍ ولا إقامةٍ ثمَّ خطب بعد الصَّلاة ثمَّ أخذ بيد بلالٍ فانطلق إلى النِّساء فخطبهن ثمَّ أمر بلالاً بعد ما قفىَّ (1) من عندهنَّ أن يأتيهنَّ فيأمرهنَّ أن يتصدَّقن (2)

হাদীসের ব্যাখ্যা:

এই হাদীসে ঈদের খুতবায় পুরুষের পাশাপাশি নারীদেরও পৃথকভাবে সম্বোধন করার বিষয় উল্লিখিত হয়েছে। হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে আববাস (রা) থেকে বর্ণিত সহীহ্ মুসলিমের এক হাদীস সূত্রে জানা যায় যে, নবী কারীম ﷺ খেয়াল করেছিলেন যে, নারীরা খুতবা শুনতে পায়নি (তাই তিনি পৃথকভাবে তাদের নসীহত করেন)।

জ্ঞাতব্যঃ রাসূলুল্লাহ ﷺ এর যুগে দুই ঈদের সালাতে সাধারণভাবে মহিলারা অংশ নিত। বরং বলা যায়, এ বিষয়ে তাঁর নির্দেশও ছিল। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে এবং মুসলমানদের মধ্যে ফিতনা ফাসাদ দেখা দেওয়ায় ফিকহবিদ বিশেষজ্ঞ আলিমগণ যেমন জুমু'আ ও পাঁচ ওয়াক্তের সালাতে মহিলাদের জামা'আতে অংশগ্রহণ করাকে অসমীচীন মনে করেন, অনুরূপভাবে দুই ঈদের সালাতের ক্ষেত্রেও তাদের ঈদগাহে যাওয়া তারা অসমীচীন মনে করেন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান