মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)
৭. নামাযের অধ্যায়
হাদীস নং: ১৬৬১
নামাযের অধ্যায়
(৭) ঈদের সালাতে খুৎবা ও এর বিধি-বিধান, মহিলাদের উদ্দেশ্যে ওয়াজ-নসিহত এবং তাঁদেরকে দান-সাদকাহতে উৎসাহ প্রদান সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ
(১৬৫৭) আব্দুল্লাহ ইবনে 'আব্বাস (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূল (ﷺ), আবু বকর (রা), উমর (রা), উসমান (রা)-এর সাথে ঈদুল ফিতরের সালাতে উপস্থিত হয়েছি, এদের সবাই খুৎবার পূর্বে ঈদের সালাত আদায় করতেন এবং সালাত শেষে খুৎবা প্রদান করতেন। বর্ণনাকারী বলেন, রাসূল (ﷺ) ঈদের খুৎবাদানের স্থান থেকে অবতরণ করলেন। আমি যেন দেখছি তিনি তাঁর হাত দ্বারা পুরুষদেরকে বসাচ্ছেন এবং তাঁদের কাতার ফাঁক করে এক পর্যায়ে মহিলাদের কাছে উপস্থিত হলেন। এমতাবস্থায় তাঁর সাথে বিলাল (রা) ছিলেন। অতঃপর তিনি কুরআনের এ আয়াত তিলাওয়াত করলেন-
{يَاأَيُّهَا النَّبِيُّ إِذَا جَاءَكَ الْمُؤْمِنَاتُ يُبَايِعْنَكَ عَلَى أَنْ لَا يُشْرِكْنَ بِاللَّهِ شَيْئًا } [الممتحنة: 12]
অর্থাৎ, "হে নবী! মহিলাগণ যখন আপনার কাছে এ মর্মে বাইয়াত করতে আগমন করবে যে, তাঁরা আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করবে না।"
এ আয়াত পাঠান্তে মহিলাদের উদ্দেশ্যে রাসুল (ﷺ) বললেন, তোমরা কি এর উপর আছ? মহিলাদের মধ্যে থেকে একজন মাত্র মহিলা রাসূল (ﷺ)-এর এই প্রশ্নের জওয়াব দিয়ে বলেন, হ্যাঁ। রাবী আল-হাসান ইবনে মুসলিম সাড়াদানকারিণী মহিলার পরিচয় জানতেন না। রাসুল (ﷺ) বললেন, তোমরা দান-সাদকাহ কর, বর্ণনাকারী বলেন, (বিলাল (রা) তাঁর কাপড় বিছিয়ে দিয়ে বললেন,) আমার মা-বাবা তোমাদের জন্য উৎসর্গীকৃত হোক, তোমরা দান-সাদকাহ কর। এতদশ্রবণে মহিলাগণ তাদের আংটি, তোড়া ইত্যাদি অলংকার বিলাল (রা)-এর বিছানো কাপড়ের উপর নিক্ষেপ করতে লাগলেন। রাসুল (ﷺ) বিলাল (রা)-কে দানকৃত দ্রব্যগুলি একত্রিত করার আদেশ দিলে তিনি সেগুলো একত্রিত করে চলে গেলেন।
(সহীহুল বুখারী, সহীহ মুসলিম।)
{يَاأَيُّهَا النَّبِيُّ إِذَا جَاءَكَ الْمُؤْمِنَاتُ يُبَايِعْنَكَ عَلَى أَنْ لَا يُشْرِكْنَ بِاللَّهِ شَيْئًا } [الممتحنة: 12]
অর্থাৎ, "হে নবী! মহিলাগণ যখন আপনার কাছে এ মর্মে বাইয়াত করতে আগমন করবে যে, তাঁরা আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করবে না।"
এ আয়াত পাঠান্তে মহিলাদের উদ্দেশ্যে রাসুল (ﷺ) বললেন, তোমরা কি এর উপর আছ? মহিলাদের মধ্যে থেকে একজন মাত্র মহিলা রাসূল (ﷺ)-এর এই প্রশ্নের জওয়াব দিয়ে বলেন, হ্যাঁ। রাবী আল-হাসান ইবনে মুসলিম সাড়াদানকারিণী মহিলার পরিচয় জানতেন না। রাসুল (ﷺ) বললেন, তোমরা দান-সাদকাহ কর, বর্ণনাকারী বলেন, (বিলাল (রা) তাঁর কাপড় বিছিয়ে দিয়ে বললেন,) আমার মা-বাবা তোমাদের জন্য উৎসর্গীকৃত হোক, তোমরা দান-সাদকাহ কর। এতদশ্রবণে মহিলাগণ তাদের আংটি, তোড়া ইত্যাদি অলংকার বিলাল (রা)-এর বিছানো কাপড়ের উপর নিক্ষেপ করতে লাগলেন। রাসুল (ﷺ) বিলাল (রা)-কে দানকৃত দ্রব্যগুলি একত্রিত করার আদেশ দিলে তিনি সেগুলো একত্রিত করে চলে গেলেন।
(সহীহুল বুখারী, সহীহ মুসলিম।)
كتاب الصلاة
(7) باب خطبة العيدين وأحكامها ووعظ النساء وحثهن على الصدقة
(1661) عن ابن عبَّاس رضى الله عنهما قال شهدت الصَّلاة يوم الفطر مع النَّبيِّ (صلى الله عليه وسلم) وأبى بكرٍ وعمر وعثمان فكلُّهم كان يصلِّيها قبل الخطبة ثمَّ يخطب بعد، قال فنزل (4) بنيُّ الله صلَّى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلَّم كأنّي أنظر إليه حين يجلِّس (1) الرِّجال بيده ثم أقبل يشقُّهم حتَّى جاء النِّساء ومعه بلالٌ فقال (يا أيُّها النَّبيُّ إذا جاءك المؤمنات يبايعنك على أن لا يشركن بالله شيئًا فتلا هذه الآية حتَّى فرغ منها، ثمَّ قال حين فرغ منها أنتنَّ على ذلك؟ فقالت امرأةٌ واحدةٌ لم يجبه غيرها منهنَّ نعم يا نبيَّ الله، لا يدرى حسنٌ (2) من هي: قال فتصدَّقن، قال فبسط بلالٌ ثوبه ثمَّ قال هلمَّ (3) لكنَّ فداكنَّ أبى وأمِّى (4) فجعلن يلقين الفتخ والخواتم (5) فى ثوب بلالٍ، قال ابن بكر (1) الخواتيم (زاد في روايةٍ) ثمَّ أمر بلالاً فجمعه فى ثوبٍ حتَّى أمضاه
হাদীসের ব্যাখ্যা:
এই হাদীসে ঈদের খুতবায় পুরুষের পাশাপাশি নারীদেরও পৃথকভাবে সম্বোধন করার বিষয় উল্লিখিত হয়েছে। হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে আববাস (রা) থেকে বর্ণিত সহীহ্ মুসলিমের এক হাদীস সূত্রে জানা যায় যে, নবী কারীম ﷺ খেয়াল করেছিলেন যে, নারীরা খুতবা শুনতে পায়নি (তাই তিনি পৃথকভাবে তাদের নসীহত করেন)।
জ্ঞাতব্যঃ রাসূলুল্লাহ ﷺ এর যুগে দুই ঈদের সালাতে সাধারণভাবে মহিলারা অংশ নিত। বরং বলা যায়, এ বিষয়ে তাঁর নির্দেশও ছিল। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে এবং মুসলমানদের মধ্যে ফিতনা ফাসাদ দেখা দেওয়ায় ফিকহবিদ বিশেষজ্ঞ আলিমগণ যেমন জুমু'আ ও পাঁচ ওয়াক্তের সালাতে মহিলাদের জামা'আতে অংশগ্রহণ করাকে অসমীচীন মনে করেন, অনুরূপভাবে দুই ঈদের সালাতের ক্ষেত্রেও তাদের ঈদগাহে যাওয়া তারা অসমীচীন মনে করেন।
জ্ঞাতব্যঃ রাসূলুল্লাহ ﷺ এর যুগে দুই ঈদের সালাতে সাধারণভাবে মহিলারা অংশ নিত। বরং বলা যায়, এ বিষয়ে তাঁর নির্দেশও ছিল। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে এবং মুসলমানদের মধ্যে ফিতনা ফাসাদ দেখা দেওয়ায় ফিকহবিদ বিশেষজ্ঞ আলিমগণ যেমন জুমু'আ ও পাঁচ ওয়াক্তের সালাতে মহিলাদের জামা'আতে অংশগ্রহণ করাকে অসমীচীন মনে করেন, অনুরূপভাবে দুই ঈদের সালাতের ক্ষেত্রেও তাদের ঈদগাহে যাওয়া তারা অসমীচীন মনে করেন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)