মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)

৭. নামাযের অধ্যায়

হাদীস নং: ১৬৮১
নামাযের অধ্যায়
চন্দ্র বা সূর্য গ্রহণের সালাত বিষয়ক পরিচ্ছেদসমূহ

(১) পরিচ্ছেদঃ চন্দ্র বা সূর্য গ্রহণের সালাত শরীয়াহ সম্মত (বিধিবদ্ধ) হওয়া এবং এসব সালাতে আহ্বান করার পদ্ধতি
(১৬৭৭) যিয়াদ ইবনে ইলাকাহ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আল-মুগীরাহ ইবনে শু'বা (রা)-কে বলতে শুনেছি যে, তিনি বলেন, রাসুল (ﷺ)-এর যুগে তাঁর পুত্র ইব্রাহীম যেদিন মারা যান সেদিন সূর্যগ্রহণ হয়েছিল। মানুষেরা বলাবলি করতে লাগল সূর্যগ্রহণ লেগেছে (মুহাম্মদ (ﷺ)-এর পুত্র) ইব্রাহীমের মৃত্যুর কারণে। তখন রাসূল (ﷺ) বললেন, নিশ্চয়ই চন্দ্র-সূর্য আল্লাহর নিদর্শনসমূহ হতে দু'টি নিদর্শন মাত্র। কারো জন্ম বা মৃত্যুর কারণে চন্দ্র বা সূর্যগ্রহণ হয় না। যখন তোমরা চন্দ্র বা সূর্যগ্রহণ লাগতে দেখবে, তখন চন্দ্র বা সূর্য এ থেকে মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত আল্লাহর কাছে দু'আ এবং সালাত আদায় করবে।
(সহীহুল বুখারী ও সহীহ মুসলিম, সুনান আল-বাইহাকী।)
كتاب الصلاة
أبواب صلاة الكسوف

(1) باب مشروعية الصلاة لها وكيف ينادى بها
(1681) عن زياد بن علاقة قال سمعت المغيرة بن شعبة رضي الله عنه يقول انكسفت الشَّمس على عهد رسول الله (صلى الله عليه وسلم) يوم مات إبراهيم (1) فقال النَّاس انكسفت لموت إبراهيم، فقال رسول الله (صلى الله عليه وسلم) إنَّ الشَّمس والقمر آيتان من آيات الله (1) لا ينكسفان لموت أحدٍ (2) ولا لحياته (3) فإذا رأيتموه (1) فادعوا الله وصلُّوا (2) حتَّى تنكشف

হাদীসের ব্যাখ্যা:

সূর্য ও চন্দ্র গ্রহণ মূলতঃ আল্লাহ্ তা'আলার অসীম কুদরতের নিদর্শনসমূহের অন্যতম। যখন চন্দ্র অথবা সূর্যগ্রহণ হয় তখন অত্যন্ত বিনয় ও নম্রতার সাথে মহা মহিমান্বিত আল্লাহর আসনে মাথা ঝুঁকিয়ে তাঁর দয়া ও করুণা প্রার্থনা করা উচিত। উল্লেখ্য, নবী নন্দন হযরত ইব্রাহীমের বয়স যখন দেড় বছর তখন তিনি ইন্তিকাল১ করেন' এবং ঐদিন সূর্যগ্রহণও লেগেছিল।

জাহিলিয়া যুগের একটি বদ্ধমূল ধারণা ছিল যে, কোন মহান ব্যক্তির তিরোধান জনিত কারণেই মূলতঃ সূর্যগ্রহণ হয়। যেন তার মৃত্যুতে সূর্যকালো চাদর গায়ে শোকের আচ্ছন্ন হয়। হযরত ইব্রাহীমের ইন্তিকালের দিন সূর্যগ্রহণ হওয়ায় মানুষ উক্ত ভুল ধারণার শিকার হতে পারত। বরং কোন কোন বর্ণনায় আছে, কোন কোন মানুষের মুখে একথা উচ্চারিত হয় যে, তাঁর মৃত্যুতেই সূর্যগ্রহণ হয়েছে। তাই সূর্যগ্রহণের সময় রাসূলুল্লাহ ﷺ ভীষণভাবে শংকিত হয়ে পড়েন এবং আল্লাহর উদ্দেশ্যে জামা'আত সহ দুই রাক'আত সালাত আদায় করেন।

এ সালাত ছিল ভিন্ন ধর্মী। তিনি এতে দীর্ঘ কিরা'আত পাঠ করেন এবং কিরা'আতের মধ্যে কখনো কখনো তন্ময় হয়ে ঝুঁকে পড়তেন। আবার সোজা হয়ে কিরা'আত পাঠ করতেন। একইভাবে এ সালাতে তিনি দীর্ঘ রুকু সিজদা করেন এবং অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে সালাতে আল্লাহর দরবারে কাতর প্রার্থনা করেন। তারপর লোকদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন। কারো মৃত্যু জনিত কারণে চন্দ্র-সূর্যের গ্রহণ হওয়ার বদ্ধমূল ধারণা চিরতে বিদূরিত করেন। তিনি বলেন, এ হল, জাহিলিয়া যুগের চিন্তা-চেতনারই ফল যার কোন ভিত্তি নেই। এ হচ্ছে মূলতঃ মহান আল্লাহ্ তা'আলার অসীম কুদ্রতেরই বহিঃপ্রকাশ মাত্র। তাই কখনো সূর্য কিংবা চন্দ্রগ্রহণ হলে বিনয় নম্রতার সাথে আল্লাহ্ অভিমুখী হওয়া, তাঁর ইবাদাত করা এবং দু'আ করা উচিত।

টিকা: ১. নবীনন্দন হযরত ইব্রাহীম (রা) দশম হিজরীতে ইন্তিকাল করেন এ বিষয় বিপুল সংখ্যক হাদীস বিশারদ ঐকমত্য পোষণ করেন। কারো কারো মতে, তিনি রাবীউল আউওয়াল মাসে ইন্তিকাল করেন। বিগত শতাব্দীর খ্যাতিমান মনীষী মরহুম মাহমূদ পাশা এ বিষয়ে ফরাসী ভাষায় একটি নিবন্ধ লিখেছেন যার আরবী তরজমা ১৩০৫ হিজরীতে মিসরে প্রকাশিত হয়েছে। তিনি উক্ত সূর্যগ্রহণের তারিখ দশম হিজরীর ২৯ শে শাওয়াল বলে উল্লেখ করেছেন। সম্ভবত ঐদিন সকাল সাড়ে আটটায় সূর্যগ্রহণের কথা লেখেছিল।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান