মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)
৭. নামাযের অধ্যায়
হাদীস নং: ১৬৯৫
নামাযের অধ্যায়
(তিন) পরিচ্ছেদঃ চন্দ্র বা সূর্যগ্রহণের সালাতকে যিনি দু'রাক'আত বিশিষ্ট অন্যান্য সাধারণ সালাতের ন্যায়ই বর্ণনা করেছেন এ সম্পর্কিত
(১৬৯১) আবু বাকরাহ (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল (ﷺ)-এর যুগে সূর্যগ্রহণ লেগেছিল। তিনি তাঁর পরনের কাপড় টানতে টানতে তাড়াহুড়া করে মসজিদে গমন করলেন। লোকজনও (সাহাবীগণ) মসজিদে একত্রিত হলেন। অতঃপর রাসুল (ﷺ) দু'রাক'আত সালাত আদায় করলেন। এ সময় সূর্যগ্রহণ কেটে গেল। এরপর রাসূল (ﷺ) আমাদের দিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে বললেন, নিশ্চয়ই চন্দ্র-সূর্য হচ্ছে আল্লাহর নিদর্শনসমূহ হতে দু'টি নিদর্শন মাত্র। এ চন্দ্র গ্রহণ ও সূর্যগ্রহণের মাধ্যমে মহান আল্লাহ্ তাঁর বান্দাদেরকে ভয় প্রদর্শন করেন, চন্দ্র বা সূর্য গ্রহণ কারো মৃত্যুর কারণে হয় না। বর্ণনাকারী বলেন, (ঐদিন) রাসূল (ﷺ)-এর পুত্র ইব্রাহীম মৃত্যুবরণ করেন। রাসুল (ﷺ) বলেন, তোমরা যখনই চন্দ্র বা সূর্যগ্রহণ লাগতে দেখবে তখনই সালাত আদায় করবে এবং আল্লাহর কাছে দু'আ করতে থাকবে, যতক্ষন পর্যন্ত তা দূরীভূত না হবে।
(সহীহুল বুখারি, সুনান আন-নাসায়ী, ও অন্যান্য গ্রন্থাদি।)
ব্যাখ্যাঃ এ হাদীস দ্বারা সাব্যস্ত হয় যতক্ষণ চন্দ্র বা সূর্যগ্রহণ থাকবে ততক্ষণই সালাতে রত থাকা উচিত। একান্ত কোন কারণে সালাত শেষ করে ফেললেও চন্দ্র বা সূর্যের অন্ধকার দূরীভূত না হওয়া পর্যন্ত দু'আ-দরূদ পড়ে সময়টি অতিবাহিত করা উচিত।
(সহীহুল বুখারি, সুনান আন-নাসায়ী, ও অন্যান্য গ্রন্থাদি।)
ব্যাখ্যাঃ এ হাদীস দ্বারা সাব্যস্ত হয় যতক্ষণ চন্দ্র বা সূর্যগ্রহণ থাকবে ততক্ষণই সালাতে রত থাকা উচিত। একান্ত কোন কারণে সালাত শেষ করে ফেললেও চন্দ্র বা সূর্যের অন্ধকার দূরীভূত না হওয়া পর্যন্ত দু'আ-দরূদ পড়ে সময়টি অতিবাহিত করা উচিত।
كتاب الصلاة
(3) باب من روى أنها ركعتان كالركعات المعتادة
(1695) عن أبى بكرة رضى الله عنه قال كسفت الشَّمس على عهد رسول الله (صلى الله عليه وسلم) فقام يجرُّ ثوبه مستعجلاً (3) حتَّى أتى المسجد وثاب النَّاس فصلَّى ركعتين (1) فجلِّي عنها ثمَّ أقبل علينا فقال إنَّ الشَّمس والقمر آيتان من آيات الله تبارك وتعالى يخوِّف بهما عباده ولا ينكسفان لموت أحدٍ، قال وكان ابنه إبراهيم عليه السَّلام مات، فإذا رأيتم منهما شيئًا فصلُّوا وادعوا حتَّى ينكشف منهما ما بكم (2)
হাদীসের ব্যাখ্যা:
সূর্য ও চন্দ্র গ্রহণ মূলতঃ আল্লাহ্ তা'আলার অসীম কুদরতের নিদর্শনসমূহের অন্যতম। যখন চন্দ্র অথবা সূর্যগ্রহণ হয় তখন অত্যন্ত বিনয় ও নম্রতার সাথে মহা মহিমান্বিত আল্লাহর আসনে মাথা ঝুঁকিয়ে তাঁর দয়া ও করুণা প্রার্থনা করা উচিত। উল্লেখ্য, নবী নন্দন হযরত ইব্রাহীমের বয়স যখন দেড় বছর তখন তিনি ইন্তিকাল১ করেন' এবং ঐদিন সূর্যগ্রহণও লেগেছিল।
জাহিলিয়া যুগের একটি বদ্ধমূল ধারণা ছিল যে, কোন মহান ব্যক্তির তিরোধান জনিত কারণেই মূলতঃ সূর্যগ্রহণ হয়। যেন তার মৃত্যুতে সূর্যকালো চাদর গায়ে শোকের আচ্ছন্ন হয়। হযরত ইব্রাহীমের ইন্তিকালের দিন সূর্যগ্রহণ হওয়ায় মানুষ উক্ত ভুল ধারণার শিকার হতে পারত। বরং কোন কোন বর্ণনায় আছে, কোন কোন মানুষের মুখে একথা উচ্চারিত হয় যে, তাঁর মৃত্যুতেই সূর্যগ্রহণ হয়েছে। তাই সূর্যগ্রহণের সময় রাসূলুল্লাহ ﷺ ভীষণভাবে শংকিত হয়ে পড়েন এবং আল্লাহর উদ্দেশ্যে জামা'আত সহ দুই রাক'আত সালাত আদায় করেন।
এ সালাত ছিল ভিন্ন ধর্মী। তিনি এতে দীর্ঘ কিরা'আত পাঠ করেন এবং কিরা'আতের মধ্যে কখনো কখনো তন্ময় হয়ে ঝুঁকে পড়তেন। আবার সোজা হয়ে কিরা'আত পাঠ করতেন। একইভাবে এ সালাতে তিনি দীর্ঘ রুকু সিজদা করেন এবং অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে সালাতে আল্লাহর দরবারে কাতর প্রার্থনা করেন। তারপর লোকদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন। কারো মৃত্যু জনিত কারণে চন্দ্র-সূর্যের গ্রহণ হওয়ার বদ্ধমূল ধারণা চিরতে বিদূরিত করেন। তিনি বলেন, এ হল, জাহিলিয়া যুগের চিন্তা-চেতনারই ফল যার কোন ভিত্তি নেই। এ হচ্ছে মূলতঃ মহান আল্লাহ্ তা'আলার অসীম কুদ্রতেরই বহিঃপ্রকাশ মাত্র। তাই কখনো সূর্য কিংবা চন্দ্রগ্রহণ হলে বিনয় নম্রতার সাথে আল্লাহ্ অভিমুখী হওয়া, তাঁর ইবাদাত করা এবং দু'আ করা উচিত।
টিকা: ১. নবীনন্দন হযরত ইব্রাহীম (রা) দশম হিজরীতে ইন্তিকাল করেন এ বিষয় বিপুল সংখ্যক হাদীস বিশারদ ঐকমত্য পোষণ করেন। কারো কারো মতে, তিনি রাবীউল আউওয়াল মাসে ইন্তিকাল করেন। বিগত শতাব্দীর খ্যাতিমান মনীষী মরহুম মাহমূদ পাশা এ বিষয়ে ফরাসী ভাষায় একটি নিবন্ধ লিখেছেন যার আরবী তরজমা ১৩০৫ হিজরীতে মিসরে প্রকাশিত হয়েছে। তিনি উক্ত সূর্যগ্রহণের তারিখ দশম হিজরীর ২৯ শে শাওয়াল বলে উল্লেখ করেছেন। সম্ভবত ঐদিন সকাল সাড়ে আটটায় সূর্যগ্রহণের কথা লেখেছিল।
জাহিলিয়া যুগের একটি বদ্ধমূল ধারণা ছিল যে, কোন মহান ব্যক্তির তিরোধান জনিত কারণেই মূলতঃ সূর্যগ্রহণ হয়। যেন তার মৃত্যুতে সূর্যকালো চাদর গায়ে শোকের আচ্ছন্ন হয়। হযরত ইব্রাহীমের ইন্তিকালের দিন সূর্যগ্রহণ হওয়ায় মানুষ উক্ত ভুল ধারণার শিকার হতে পারত। বরং কোন কোন বর্ণনায় আছে, কোন কোন মানুষের মুখে একথা উচ্চারিত হয় যে, তাঁর মৃত্যুতেই সূর্যগ্রহণ হয়েছে। তাই সূর্যগ্রহণের সময় রাসূলুল্লাহ ﷺ ভীষণভাবে শংকিত হয়ে পড়েন এবং আল্লাহর উদ্দেশ্যে জামা'আত সহ দুই রাক'আত সালাত আদায় করেন।
এ সালাত ছিল ভিন্ন ধর্মী। তিনি এতে দীর্ঘ কিরা'আত পাঠ করেন এবং কিরা'আতের মধ্যে কখনো কখনো তন্ময় হয়ে ঝুঁকে পড়তেন। আবার সোজা হয়ে কিরা'আত পাঠ করতেন। একইভাবে এ সালাতে তিনি দীর্ঘ রুকু সিজদা করেন এবং অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে সালাতে আল্লাহর দরবারে কাতর প্রার্থনা করেন। তারপর লোকদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন। কারো মৃত্যু জনিত কারণে চন্দ্র-সূর্যের গ্রহণ হওয়ার বদ্ধমূল ধারণা চিরতে বিদূরিত করেন। তিনি বলেন, এ হল, জাহিলিয়া যুগের চিন্তা-চেতনারই ফল যার কোন ভিত্তি নেই। এ হচ্ছে মূলতঃ মহান আল্লাহ্ তা'আলার অসীম কুদ্রতেরই বহিঃপ্রকাশ মাত্র। তাই কখনো সূর্য কিংবা চন্দ্রগ্রহণ হলে বিনয় নম্রতার সাথে আল্লাহ্ অভিমুখী হওয়া, তাঁর ইবাদাত করা এবং দু'আ করা উচিত।
টিকা: ১. নবীনন্দন হযরত ইব্রাহীম (রা) দশম হিজরীতে ইন্তিকাল করেন এ বিষয় বিপুল সংখ্যক হাদীস বিশারদ ঐকমত্য পোষণ করেন। কারো কারো মতে, তিনি রাবীউল আউওয়াল মাসে ইন্তিকাল করেন। বিগত শতাব্দীর খ্যাতিমান মনীষী মরহুম মাহমূদ পাশা এ বিষয়ে ফরাসী ভাষায় একটি নিবন্ধ লিখেছেন যার আরবী তরজমা ১৩০৫ হিজরীতে মিসরে প্রকাশিত হয়েছে। তিনি উক্ত সূর্যগ্রহণের তারিখ দশম হিজরীর ২৯ শে শাওয়াল বলে উল্লেখ করেছেন। সম্ভবত ঐদিন সকাল সাড়ে আটটায় সূর্যগ্রহণের কথা লেখেছিল।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)