মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)
৭. নামাযের অধ্যায়
হাদীস নং: ১৭১৭
নামাযের অধ্যায়
(দুই) সালাতুল ইস্তেস্কার বর্ণনা, এ উদ্দেশ্যে খুতবাদান এবং এ সালাতে স্বশব্দে কিরাআত পাঠের প্রাসঙ্গিক পরিচ্ছেদ
(১৭১৪) আবু হুরায়রা (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর নবী (ﷺ) ইস্তিষ্কার সালাতের উদ্দেশ্যে বের হয়ে আমাদের সাথে নিয়ে আযান ও ইকামত ব্যতিরেকে দু'রাক'আত সালাত আদায় করলেন। অতঃপর আমাদের উদ্দেশ্যে খুতবা দিলেন। আল্লাহর সমীপে দু'আ করলেন, কেবলার দিকে মুখ ফিরিয়ে হাতদ্বয় উপরের দিকে উত্তোলন করলেন এবং চাদরের ডান দিক বাম দিকে নিয়ে আর বাম দিক ডান দিকে নিয়ে উল্টিয়ে পরিধান করলেন।
كتاب الصلاة
(2) باب صفة صلاة الاستسقاء والخطبة لها والجهر بالقراءة فيها
(1717) عن أبي هريرة رضي الله عنخ، قال خرج بنيُّ الله صلى الله عليه وسلم يومًا يستسقي وصلَّى بنا ركعتين بلا أذان ولا إقامة ثمًّ خطبنا ودعا الله وحوَّل وجهه نحو القبلة رافعًا يده، ثمَّ قلب رداءه فجعل الأيمن على الأيسر والأيسر على الأيمن
হাদীসের ব্যাখ্যা:
'সালাতুল ইস্তিসকা' মূলতঃ সাধারণ দুর্ভিক্ষ ও সামষ্টিক বিপদ থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে আদায় করা হয় এবং এত দু'আ করা হয়, উপরে বর্ণিত হাদীস এবং অন্যান্য হাদীসসমূহের আলোকে এই সালাত সম্পর্কিত কতিপয় বিষয় জানা যায়। যথাঃ- ১. সালাতুল ইস্তিসকা উন্মুক্ত মাঠে আদায় করা উচিত, কারণ বৃষ্টি প্রার্থনার ক্ষেত্রে উন্মুক্ত মাঠই যোগ্য স্থান এবং সেখানে মূলতঃ নিজ আকুতি অধিক প্রকাশ পায়।
২. জুমু'আ ও ঈদের সালাত আদায়ের জন্য যেমন গোসল করা হয় ও উত্তম পোশাক পরিধান করা হয় তদ্রূপ এ সালাতের ক্ষেত্রে প্রয়োজন নেই। বরং এর বিপরীত সম্পূর্ণ সাধারণ পোশাক পরে দুঃস্থ ও ফকীরের বেশে আল্লাহর দরবারে হাযির হওয়া উচিত। যাচ্ঞাকারীর জন্য ছেঁড়া কাপড় এবং দুঃস্থ অবস্থা বহাল রাখাই সমীচীন।
৩. নাছোড় বান্দার ন্যায় দু'আ করা উচিত এবং এ উদ্দেশ্যে আকাশের দিকে হাত অধিক উত্তোলন করা চাই।
এ হাদীসে চাদর পরিবর্তন করার বিষয় উল্লিখিত হয়েছে। অর্থাৎ নবী কারীম ﷺ কিবলামুখী হয়ে নিজ চাদর পরিবর্তন করে নেন। এর উদ্দেশ্য ছিল এই যে, হে আল্লাহ্! আমি যেভাবে চাদর উল্টিয়ে নিয়েছি তুমি তেমনি বৃষ্টি বর্ষণ করে অনাবৃষ্টির অবস্থা পরিবর্তন করে দাও। সম্ভবত হাত উঠানোর ন্যায় একাজও আমলের অংশ ছিল।
এ ছাড়া হাদীসটিতে আরও বলা হয়েছে যে, রাসূল্লাল্লাহ্ ﷺ যখন সালাতুল ইস্তিসকা আদায় করেন তখন আকাশে মেঘের সঞ্চার হয় এবং তা থেকে মুষলধারে বৃষ্টি হয়, অন্যান্য সাহাবীর রিওয়ায়াতেও এ বিষয় বর্ণনা পাওয়া যায়।
আল-হামদুলিল্লাহ্! এবিষয়ে উম্মাতেরও সাধারণ অভিজ্ঞতা রয়েছে। অধম তার জীবনে কমপক্ষে তিনবার এই সালাত আদায় করেছে, প্রথম শৈশবে, দ্বিতীয়বার পনের বছর বয়সে লাখনৌতে এবং তৃতীয়বার ১৯৫১ সালে পবিত্র মদীনায়। তিন বারই আল্লাহর মেহেরবাণীতে মুষলধারে বৃষ্টিপাত হয়।
হাদীসে আরও আছে, যখন সালাত ও দু'আর ফলে মুষলধারে বৃষ্টিপাত হলো তখন রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেন: أَشْهَدُ أَنَّ اللهَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ، وَأَنِّي عَبْدُ اللهِ وَرَسُولُهُ আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ্ তা'আলা সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান এবং আমি আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।"
পূর্ণ দাসত্বের দাবি হিসেবে নবী কারীম ﷺ-এর সালাত এবং দু'আর ফলস্বরূপ মু'জিযারূপে বৃষ্টি বর্ষিত হওয়ার সাথে সাথে রাসূলুল্লাহ ﷺ এ ঘোষণা দেওয়া জরুরী মনে করেন যে এসব যা হয়েছে তা মূলতঃ আল্লাহর অসীম ক্ষমতা ও ইচ্ছারই অভিব্যক্তি। তাই তিনিই সার্বিক হামদ ও শুকরের মালিক, আর আমি কেবল আল্লাহর বান্দা এবং তাঁর রাসূল। হে আল্লাহ্! তোমার বান্দা ও রাসূল হযরত মুহাম্মদ ﷺ এর প্রতি রহমত বর্ষণ কর।
২. জুমু'আ ও ঈদের সালাত আদায়ের জন্য যেমন গোসল করা হয় ও উত্তম পোশাক পরিধান করা হয় তদ্রূপ এ সালাতের ক্ষেত্রে প্রয়োজন নেই। বরং এর বিপরীত সম্পূর্ণ সাধারণ পোশাক পরে দুঃস্থ ও ফকীরের বেশে আল্লাহর দরবারে হাযির হওয়া উচিত। যাচ্ঞাকারীর জন্য ছেঁড়া কাপড় এবং দুঃস্থ অবস্থা বহাল রাখাই সমীচীন।
৩. নাছোড় বান্দার ন্যায় দু'আ করা উচিত এবং এ উদ্দেশ্যে আকাশের দিকে হাত অধিক উত্তোলন করা চাই।
এ হাদীসে চাদর পরিবর্তন করার বিষয় উল্লিখিত হয়েছে। অর্থাৎ নবী কারীম ﷺ কিবলামুখী হয়ে নিজ চাদর পরিবর্তন করে নেন। এর উদ্দেশ্য ছিল এই যে, হে আল্লাহ্! আমি যেভাবে চাদর উল্টিয়ে নিয়েছি তুমি তেমনি বৃষ্টি বর্ষণ করে অনাবৃষ্টির অবস্থা পরিবর্তন করে দাও। সম্ভবত হাত উঠানোর ন্যায় একাজও আমলের অংশ ছিল।
এ ছাড়া হাদীসটিতে আরও বলা হয়েছে যে, রাসূল্লাল্লাহ্ ﷺ যখন সালাতুল ইস্তিসকা আদায় করেন তখন আকাশে মেঘের সঞ্চার হয় এবং তা থেকে মুষলধারে বৃষ্টি হয়, অন্যান্য সাহাবীর রিওয়ায়াতেও এ বিষয় বর্ণনা পাওয়া যায়।
আল-হামদুলিল্লাহ্! এবিষয়ে উম্মাতেরও সাধারণ অভিজ্ঞতা রয়েছে। অধম তার জীবনে কমপক্ষে তিনবার এই সালাত আদায় করেছে, প্রথম শৈশবে, দ্বিতীয়বার পনের বছর বয়সে লাখনৌতে এবং তৃতীয়বার ১৯৫১ সালে পবিত্র মদীনায়। তিন বারই আল্লাহর মেহেরবাণীতে মুষলধারে বৃষ্টিপাত হয়।
হাদীসে আরও আছে, যখন সালাত ও দু'আর ফলে মুষলধারে বৃষ্টিপাত হলো তখন রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেন: أَشْهَدُ أَنَّ اللهَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ، وَأَنِّي عَبْدُ اللهِ وَرَسُولُهُ আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ্ তা'আলা সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান এবং আমি আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।"
পূর্ণ দাসত্বের দাবি হিসেবে নবী কারীম ﷺ-এর সালাত এবং দু'আর ফলস্বরূপ মু'জিযারূপে বৃষ্টি বর্ষিত হওয়ার সাথে সাথে রাসূলুল্লাহ ﷺ এ ঘোষণা দেওয়া জরুরী মনে করেন যে এসব যা হয়েছে তা মূলতঃ আল্লাহর অসীম ক্ষমতা ও ইচ্ছারই অভিব্যক্তি। তাই তিনিই সার্বিক হামদ ও শুকরের মালিক, আর আমি কেবল আল্লাহর বান্দা এবং তাঁর রাসূল। হে আল্লাহ্! তোমার বান্দা ও রাসূল হযরত মুহাম্মদ ﷺ এর প্রতি রহমত বর্ষণ কর।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)