মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)

খাদ্য অধ্যায়

হাদীস নং: ৯৬
খাদ্য অধ্যায়
পরিচ্ছেদ : খাওয়ার সময় বিসমিল্লাহ বলা এবং শুরুতে ও শেষে দু'আ পড়া। উপস্থিত লোকদের মধ্যে শ্রেষ্ঠজন দ্বারা খাবার শুরু করা।
৯৬। জাবির ইবন সুবহ (র) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাকে মুসান্না ইবন আবদির রহমান খুযায়ী (র) হাদীস বর্ণনা করেছেন। আমি 'ওয়াসিত' পর্যন্ত (সফরে) তার সঙ্গ দিয়েছিলাম। তিনি খাওয়ার শুরুভাগে 'বিসমিল্লাহ' বলতেন আর শেষ লুকমা গ্রহণের সময়
بِسْمِ اللهِ فِي أَوَّلِهِ وَأَخِرِهِ
বলতেন। আমি তাকে বললাম, আপনি খাওয়ার শুরুভাগে 'বিসমিল্লাহ' বলেন। (এটা তো ঠিক আছে)। কিন্তু খাওয়ার শেষভাগে কেন আপনি
بِسْمِ اللهِ فِي أَوَّلِهِ وَأَخِرِهِ
বলেন? তিনি বললেন, আমি তোমাকে এ সম্বন্ধে সংবাদ দিচ্ছি। আমার দাদা উমাইয়া ইবন মাখশী (রা) যিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাহাবী ছিলেন, তাকে বলতে শুনেছি যে, একদা জনৈক ব্যক্তি খেতে শুরু করল। নবী (ﷺ) তার প্রতি তাকিয়েছিলেন। সে (খাওয়ার শুরুতে) 'বিসমিল্লাহ' বলেনি। পরবর্তীতে যখন শুধু একলুকমা পরিমাণ খাবার অবশিষ্ট রইল তখন সে
بِسْمِ اللهِ فِي أَوَّلِهِ وَأَخِرِهِ
বলল। সে সময় নবী (ﷺ) বললেন, শয়তান এ যাবত পর্যন্ত তার সঙ্গে খাচ্ছিল। পরে যখন সে বিসমিল্লাহ বলল তখন তার (শয়তানের) পেটে কিছু অবশিষ্ট থাকে নি, সব কিছু সে বমি করে ফেলে দেয়।
(আবু দাউদ, নাসাঈ)
كتاب الأطعمة
باب ما جاء في التسمية على الأكل والدعاء في أوله وآخره وأن أشرف القوم هو الذي يبدأ بالأكل
عن جابر بن صبح قال حدثني المثنى بن عبد الرحمن الخزاعي وصحبته إلى واسط وكان يسمى في أول طعامه، وفي آخر لقمة يقول بسم الله في أوله وآخره، فقلت له أنك تسمي في أول ما تأكل أرأيت قولك في آخر ما تأكل بسم الله أوله وآخره، قال أخبرك عن ذلك، إن جدي أمية بن مخشى وكان من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم سمعته يقول إن رجلا كان يأكل والنبي صلى الله عليه وسلم ينظر فلم يسم حتى كان في آخر طعامه لقمة فقال بسم الله أوله وآخره فقال النبي صلى الله عليه وسلم مازال الشيطان يأكل معه حتى سمى فلم يبق في بطنه شيء إلا قاءه

হাদীসের ব্যাখ্যা:

হাদীছটির বক্তব্যের সারকথা হল, কোনও এক সাহাবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে খাবার খাচ্ছিলেন। তাঁর বিসমিল্লাহ বলতে মনে ছিল না। খাবার প্রায় শেষই হয়ে যাচ্ছিল। মাত্র একটা লোকমা অবশিষ্ট ছিল। এ অবস্থায় তাঁর বিসমিল্লাহ বলার কথা মনে পড়ে যায়। সঙ্গে সঙ্গে তিনি বলে ফেললেন - بِسْمِ الله أَوَّلَهُ وَآخِرَهُ (এর শুরুতে এবং শেষে আল্লাহর নামে)। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হেসে দিলেন। তিনি কেন হাসলেন? হাসির কারণ ছিল এই যে, তিনি বলেন-
مَا زَالَ الشَّيْطَانُ يَأْكُلُ مَعَهُ (শয়তান তার সঙ্গে খেয়ে যাচ্ছিল)। অর্থাৎ সে যেহেতু আল্লাহ তা'আলাকে স্মরণ করেনি, বিসমিল্লাহ না বলেই খাওয়া শুরু করেছে, তাই শয়তান তার খাওয়ায় শরীক হয়ে গেছে। একাধারে সেও খাচ্ছিল, সঙ্গে শয়তানও খাচ্ছিল। এভাবে চলতে থাকে।

فَلَمَّا ذَكَرَ اسْمَ الله اسْتَقَاءَ مَا فِي بَطْنِهِ (যেই না সে আল্লাহর নাম নিল, অমনি সে তার পেটে যা ছিল সব বমি করে দিল)। শয়তান যে বমি করল, এটা আর কেউ দেখতে পায়নি। দেখার কথাও নয়। কেননা শয়তানের কর্মকাণ্ড সাধারণত লোকচক্ষুর আড়ালেই হয়ে থাকে। কিন্তু নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহপ্রদত্ত ক্ষমতাবলে তার কর্মকাণ্ড দেখতে পেতেন। সাহাবী বিসমিল্লাহ বলার সঙ্গে সঙ্গে তার বমি করাটাও তিনি দেখতে পেয়েছিলেন। সে কারণেই তিনি হেসে দিয়েছিলেন।

সাহাবী যখন বিসমিল্লাহ বললেন, তখন শয়তানের বমি করার কারণ কী ছিল? কারণ সম্ভবত এই যে, বিসমিল্লাহ বলার দ্বারা শয়তানের কবল থেকে সাহাবীর জন্য সে খাবারের সুরক্ষা হয়ে গিয়েছিল। ফলে শয়তানের জন্য তা হজম করা অসম্ভব হয়ে যায়। তাই বাধ্য হয়ে সে বমি করে দেয়।

হাদীস থেকে শিক্ষণীয়ঃ

ক. যে খাবারে বিসমিল্লাহ বলা হয় না, তাতে শয়তান শরীক হয়ে যায়।

খ. বিসমিল্লাহ বলা তথা আল্লাহর যিকির করার দ্বারা বান্দার জন্য খাবারের সুরক্ষা হয়। সে খাবারে শয়তান শরীক হতে পারে না।

গ. শুরুতে বিসমিল্লাহ বলা ভুলে গেলে যখনই তা মনে পড়ে, তখন বলে নেওয়া উচিত। তাতে অবশিষ্ট খাবার শয়তানের হাত থেকে বেঁচে যায়। এর আগে যা সে খেয়েছিল তাও তার পক্ষে হজম করা অসম্ভব হয়ে যায়।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ রিয়াযুস সালিহীন (অনুবাদ- মাওলানা আবুল বাশার মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম হাফি.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান