মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)
খাদ্য অধ্যায়
হাদীস নং: ১৩২
খাদ্য অধ্যায়
পরিচ্ছেদ: খাওয়ার পর কী বলবে?
১৩২। খালিদ ইবন মা'দান (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা একদা আবদুল আ'লা ইবন হিলাল-এর খাবারে উপস্থিত হলাম। খাওয়া শেষ হলে আবু উমামা (রা) দাঁড়িয়ে বললেন, আমি এই স্থানে দাঁড়িয়েছি। আমি কোন খতীব নই আর বক্তব্য দেওয়ার ইচ্ছাও আমার নেই। তবে (শুধু এ কথা বলতে চাই যে,) আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে খাওয়া শেষে বলতে শুনেছি, (অন্য বর্ণনায় : খাওয়া শেষ করার পর অথবা দস্তরখান উঠানোর পর)
الْحَمْدُ لِلَّهِ كَثِيرًا طَيِّبًا مُبَارَكًا فِيْهِ غَيْرَ مَكْفِي وَلَا مُوَدَّعٍ وَلَا مُسْتَغْنِّى عَنْهُ .
(আল্লাহর জন্য অনেক অনেক পূত-পবিত্র বরকতময় প্রশংসা, যা কোন সময় যথেষ্ট হবার নয়, যা কখনো শেষ হবার নয় এবং যা হতে কোন সময় অমুখাপেক্ষী হওয়া যায় না।)
(অন্য বর্ণনায় অতিরিক্ত হল, رَبَّنَا عَزَّجَلٌ) বর্ণনাকারী বলেন, এরপর তিনি এটা ক্রমাগত কয়েকবার আমাদের সামনে বললেন। এমনকি আমরা তা মুখস্থ করে নিলাম।
(বুখারী, নাসাঈ)
الْحَمْدُ لِلَّهِ كَثِيرًا طَيِّبًا مُبَارَكًا فِيْهِ غَيْرَ مَكْفِي وَلَا مُوَدَّعٍ وَلَا مُسْتَغْنِّى عَنْهُ .
(আল্লাহর জন্য অনেক অনেক পূত-পবিত্র বরকতময় প্রশংসা, যা কোন সময় যথেষ্ট হবার নয়, যা কখনো শেষ হবার নয় এবং যা হতে কোন সময় অমুখাপেক্ষী হওয়া যায় না।)
(অন্য বর্ণনায় অতিরিক্ত হল, رَبَّنَا عَزَّجَلٌ) বর্ণনাকারী বলেন, এরপর তিনি এটা ক্রমাগত কয়েকবার আমাদের সামনে বললেন। এমনকি আমরা তা মুখস্থ করে নিলাম।
(বুখারী, নাসাঈ)
كتاب الأطعمة
باب ما يقول بعد الفراغ من الأكل
عن خالد بن معدان قال حضرنا صنيعا لعبد الأعلى بن هلال فلما فرغنا من الطعام قام أبو أمامة فقال لقد قمت مقامي هذا وما أنا بخطيب وما أريد الخطبة، ولكني سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول عند انقضاء الطعام (وفي رواية إذا فرغ من طعامه أو رفعت مائدته) الحمد لله كثيرا طيبا مباركا فيه غير مكفي ولا مودع ولا مستغنى عنه (زاد في رواية ربنا عز وجل) قال فلم يزل يرددهن علينا حتى حفظناهن
হাদীসের ব্যাখ্যা:
এ হাদীছটিতে দস্তরখান তোলার দু‘আ বর্ণিত হয়েছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দস্তরখান তোলার সময় দু‘আটি পড়তেন। দু'আটি খুবই সারগর্ভ। এতে তাৎপর্যপূর্ণ কয়েকটি শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে। শব্দগুলো দ্বারা একদিকে আল্লাহ তা'আলার প্রশংসা করা হয়েছে, অন্যদিকে বান্দার অক্ষমতা ও মুখাপেক্ষিতার স্বীকারোক্তি করা হয়েছে। নিচে শব্দগুলোর ব্যাখ্যা করা যাচ্ছে।
الْحَمْدُ الله حَمْدًا كَثِيْرًا (সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর। প্রভূত প্রশংসা)। অর্থাৎ মাখলুকের পক্ষ থেকে যত রকম প্রশংসা হয়ে থাকে ও হতে পারে, প্রকৃতপক্ষে তা সব আল্লাহ তা'আলারই প্রশংসা। সে প্রশংসা অতি বিপুল, যেমনটা বিপুল আল্লাহ তা'আলার দান ও অনুগ্রহ।
طَيِّبًا (পবিত্র প্রশংসা)। অর্থাৎ রিয়া ও নামডাক থেকে মুক্ত প্রশংসা। আল্লাহ তা'আলার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়, এমনসব গুণ থেকে মুক্ত প্রশংসা। আল্লাহ তা'আলা পবিত্র। তিনি পবিত্র বিষয়ই কবুল করেন।
مُباركًا فِيهِ (বরকতপূর্ণ প্রশংসা)। অর্থাৎ এমন প্রশংসা, যা স্থায়ী হবে। কখনও বন্ধ হবে না।
غَيْرَ مَكْفِيٍّ (এর প্রতি আমাদের প্রয়োজন নিঃশেষ হয়ে যায়নি)। অর্থাৎ এই খাবার, যা আমরা এখন খেলাম, এর প্রতি আমাদের প্রয়োজন ফুরিয়ে যায়নি। আমরা যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিন খাদ্যেরও প্রয়োজন হবে। অথবা এর অর্থ- এই যে প্রশংসা করা হল, তোমার প্রশংসা হিসেবে এটা যথেষ্ট নয়। তোমার যথাযথ প্রশংসা করার ক্ষমতাও আমাদের নেই। আমরা কেবল আমাদের সাধ্যমতোই প্রশংসা করে থাকি। কিন্তু তোমার যা প্রশংসা প্রাপ্য, তা এর অনেক ঊর্ধ্বে।
وَلَا مُوَدَّعٍ (একে আমরা বিদায় জানাচ্ছি না)। অর্থাৎ এই খাবারকে আমরা শেষ খাবার মনে করি না। তুমি যতদিন হায়াতে রাখ, ততদিন এর প্রয়োজন হবে। এর প্রতি আমাদের চাহিদা থেকে যাবে। এর প্রয়োজন ফুরাবে কেবল মৃত্যুর দ্বারা। অথবা এর অর্থ- এই যে তোমার প্রশংসা করলাম, এটাই আমাদের শেষ প্রশংসা নয়। আমরা তোমার প্রশংসা করতে চাই নিরবচ্ছিন্নভাবে, আমাদের প্রতি তোমার অনুগ্রহ যেমন নিরবচ্ছিন্ন।
وَلَا مُسْتَغْنًى (এর প্রতি আমরা অনপেক্ষ নই)। অর্থাৎ তোমার দেওয়া খাদ্য এমন নয় যে, তার প্রতি আমাদের কোনও মুখাপেক্ষিতা নেই। আমরা তোমার দুর্বল সৃষ্টি। আমরা সর্বদাই তোমার অনুগ্রহের মুখাপেক্ষী। আমাদের ক্ষুধা লাগে। তাই খাওয়ার প্রয়োজন হয়। যতদিন তুমি বাঁচিয়ে রাখ, ততদিন এর প্রতি আমাদের মুখাপেক্ষিতাও অব্যাহত থাকবে। অথবা এর অর্থ- আমরা সর্বদাই তোমার প্রশংসা করার এবং তোমার শোকর আদায়ের মুখাপেক্ষী, যাতে আমাদের প্রতি তোমার দেওয়া নি'আমত ও অনুগ্রহ অব্যাহত থাকে এবং যাতে আমাদের প্রতি তোমার অনুগ্রহ আরও বৃদ্ধি পায়।
হাদীস থেকে শিক্ষণীয়ঃ
ক. খানা খাওয়ার পর প্রাণভরে আল্লাহ তা'আলার শোকর আদায় করা চাই।
খ. খাবার আল্লাহ তা'আলার দান। নিজেকে এর মুখাপেক্ষী মনে করতে হবে।
গ. দস্তরখান তোলার সময় নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণে আমরাও এ দু'আটি পড়ব।
الْحَمْدُ الله حَمْدًا كَثِيْرًا (সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর। প্রভূত প্রশংসা)। অর্থাৎ মাখলুকের পক্ষ থেকে যত রকম প্রশংসা হয়ে থাকে ও হতে পারে, প্রকৃতপক্ষে তা সব আল্লাহ তা'আলারই প্রশংসা। সে প্রশংসা অতি বিপুল, যেমনটা বিপুল আল্লাহ তা'আলার দান ও অনুগ্রহ।
طَيِّبًا (পবিত্র প্রশংসা)। অর্থাৎ রিয়া ও নামডাক থেকে মুক্ত প্রশংসা। আল্লাহ তা'আলার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়, এমনসব গুণ থেকে মুক্ত প্রশংসা। আল্লাহ তা'আলা পবিত্র। তিনি পবিত্র বিষয়ই কবুল করেন।
مُباركًا فِيهِ (বরকতপূর্ণ প্রশংসা)। অর্থাৎ এমন প্রশংসা, যা স্থায়ী হবে। কখনও বন্ধ হবে না।
غَيْرَ مَكْفِيٍّ (এর প্রতি আমাদের প্রয়োজন নিঃশেষ হয়ে যায়নি)। অর্থাৎ এই খাবার, যা আমরা এখন খেলাম, এর প্রতি আমাদের প্রয়োজন ফুরিয়ে যায়নি। আমরা যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিন খাদ্যেরও প্রয়োজন হবে। অথবা এর অর্থ- এই যে প্রশংসা করা হল, তোমার প্রশংসা হিসেবে এটা যথেষ্ট নয়। তোমার যথাযথ প্রশংসা করার ক্ষমতাও আমাদের নেই। আমরা কেবল আমাদের সাধ্যমতোই প্রশংসা করে থাকি। কিন্তু তোমার যা প্রশংসা প্রাপ্য, তা এর অনেক ঊর্ধ্বে।
وَلَا مُوَدَّعٍ (একে আমরা বিদায় জানাচ্ছি না)। অর্থাৎ এই খাবারকে আমরা শেষ খাবার মনে করি না। তুমি যতদিন হায়াতে রাখ, ততদিন এর প্রয়োজন হবে। এর প্রতি আমাদের চাহিদা থেকে যাবে। এর প্রয়োজন ফুরাবে কেবল মৃত্যুর দ্বারা। অথবা এর অর্থ- এই যে তোমার প্রশংসা করলাম, এটাই আমাদের শেষ প্রশংসা নয়। আমরা তোমার প্রশংসা করতে চাই নিরবচ্ছিন্নভাবে, আমাদের প্রতি তোমার অনুগ্রহ যেমন নিরবচ্ছিন্ন।
وَلَا مُسْتَغْنًى (এর প্রতি আমরা অনপেক্ষ নই)। অর্থাৎ তোমার দেওয়া খাদ্য এমন নয় যে, তার প্রতি আমাদের কোনও মুখাপেক্ষিতা নেই। আমরা তোমার দুর্বল সৃষ্টি। আমরা সর্বদাই তোমার অনুগ্রহের মুখাপেক্ষী। আমাদের ক্ষুধা লাগে। তাই খাওয়ার প্রয়োজন হয়। যতদিন তুমি বাঁচিয়ে রাখ, ততদিন এর প্রতি আমাদের মুখাপেক্ষিতাও অব্যাহত থাকবে। অথবা এর অর্থ- আমরা সর্বদাই তোমার প্রশংসা করার এবং তোমার শোকর আদায়ের মুখাপেক্ষী, যাতে আমাদের প্রতি তোমার দেওয়া নি'আমত ও অনুগ্রহ অব্যাহত থাকে এবং যাতে আমাদের প্রতি তোমার অনুগ্রহ আরও বৃদ্ধি পায়।
হাদীস থেকে শিক্ষণীয়ঃ
ক. খানা খাওয়ার পর প্রাণভরে আল্লাহ তা'আলার শোকর আদায় করা চাই।
খ. খাবার আল্লাহ তা'আলার দান। নিজেকে এর মুখাপেক্ষী মনে করতে হবে।
গ. দস্তরখান তোলার সময় নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণে আমরাও এ দু'আটি পড়ব।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ রিয়াযুস সালিহীন (অনুবাদ- মাওলানা আবুল বাশার মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম হাফি.)