মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)

প্রশংসা ও ভর্ৎসনা সম্পর্কে অধ্যায়

হাদীস নং: ১১০
প্রশংসা ও ভর্ৎসনা সম্পর্কে অধ্যায়
পরিচ্ছেদ: চেহারায় আঘাত করা এবং একে কুৎসিত বলা ও তাতে দাগ দেয়া নিষেধ
১১০. পুনরায় তিনি বর্ণনা করেন যে, একদা রাসূল (ﷺ) একটি গাধার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, যার মুখে দাগ দেয়া ছিল। ফলে তার নাকের ছিদ্রের রং পরিবর্তন হয়ে গিয়েছিল। তখন রাসূল (ﷺ) বলেন, এ কাজটি কে করেছে? অন্য বর্ণনায় অধিক বলা হয়েছে: যে একে দাগ দিয়েছে, তার উপর আল্লাহর অভিশাপ। তোমাদের কেউ যেন চেহারায় দাগ না দেয় ও প্রহার না করে।
كتاب المدح والذم
باب ما جاء في النهي عن ضرب الوجه وتقبيحه والوسم فيه
وعنه أيضا (3) قال مر النبي صلى الله عليه وسلم بحمار قد وسم في وجهه يدخن (4) منخراه فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم من فعل هذا (زاد في روية لعن الله الذي وسمه) لا يسمن أحد الوجه ولا يضربن أحد الوجه

হাদীসের ব্যাখ্যা:

পৃথিবীর নানা দেশে ঘোড়া-গাধা ইত্যাদি পশুদের পরিচয়ের জন্য এদের শরীরের কোন অংশে গরম লোহার দাগ দিয়ে চিহ্ন তৈরী করা হত। বর্তমানেও কোন কোন অঞ্চলে এর প্রচলন রয়েছে। কিন্তু এ উদ্দেশ্যের জন্য চেহারা দাগানো (যা পশুর সারা দেহের মধ্যে সবচেয়ে সংবেদনশীল ও অনুভূতিপরায়ণ অঙ্গ) খুবই নির্মম ও নৃশংসতার কাজ। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একটি গাধাকে দেখলেন, যার চেহারা দাগানো হয়েছিল। তিনি এতে খুবই ব্যথিত হলেন এবং বললেন: ঐ ব্যক্তির উপর আল্লাহর লা'নত হোক, যে এ কাজ করেছে। এ কথা স্পষ্ট যে, এটা চরম পর্যায়ের অসন্তুষ্টির বাক্য ছিল, যা একটি গাধার সাথে নির্মম আচরণকারীর জন্য তাঁর মুখ থেকে বের হয়েছিল।

আধুনিক বিশ্ব এ ধরনের নির্মমতা প্রতিরোধকে বর্তমানে কেবল মানুষের দায়িত্ব মনে করতে শুরু করেছে। কিন্তু আল্লাহর রাসূল মুহাম্মদ (ﷺ) এখন থেকে চৌদ্দশ বছর পূর্বে এর পথপ্রদর্শন করেছিলেন এবং এর উপর বিশেষ জোর দিয়েছিলেন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান