মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)

বিশ্ব-সৃষ্টি প্রসংগ অধ্যায়

হাদীস নং: ৪৩
বিশ্ব-সৃষ্টি প্রসংগ অধ্যায়
পরিচ্ছেদ: মেঘ, বৃষ্টি, শিলা ও শীতকাল প্রসংগ
(৪৩) আয়েশা সিদ্দিকা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি সর্বদা লক্ষ্য করে দেখেছি যে, যখনই রাসূল (ﷺ) আকাশে মেঘ দেখতেন, তাঁর মুখমণ্ডলে উদ্বেগের ছাপ দেখতে পেতাম। অতঃপর যখন বৃষ্টি শুরু হতো, তখন তিনি শান্ত হতেন।
আয়েশা (রা) থেকে অন্য বর্ণনায় আছে, তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) যখন মেঘ দেখতেন, তখন তাঁর মুখমণ্ডল পরিবর্তিত হয়ে যেত। তিনি ঘর থেকে বের হতেন আর প্রবেশ করতেন; সম্মুখে যেতেন আবার পশ্চাতে যেতেন। কিন্তু বৃষ্টি শুরু হলে খুশী হয়ে যেতেন। তাঁকে এর কারণ জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, আল্লাহ্ তা'আলা পবিত্র কুরআনে যেরূপ বলেছেন, সেইরূপ বিপদ থেকে আমি নিরাপদবোধ করতে পারি না। আল্লাহ্ বলেন,
فَلَمَّا رَأَوْهُ عَارِضًا مُّسْتَقْبِلَ أَوْدِيَتِهِمْ قَالُوا هَٰذَا عَارِضٌ مُّمْطِرُنَا ۚ بَلْ هُوَ مَا اسْتَعْجَلْتُم بِهِ ۖ رِيحٌ فِيهَا عَذَابٌ أَلِيمٌ
[ الأحقاف: 24] .
"যখন তাদের উপত্যকার দিকে মেঘ আসতে দেখল তখন তারা বলতে লাগল, ওটা তো মেঘ, আমাদেরকে বৃষ্টি দেবে। হুদ বলল, এটাই তো তা, যা তোমরা ত্বরান্বিত করতে চেয়েছ। এতে আছে এক ঝড়-মর্মন্তুদ শাস্তি বহনকারী। (আহকাফ: ২৪)
كتاب خلق العالم
باب ما جاء فى الغيم والمطر والبرد وزمن الشتاء
عن عائشة (3) رضى الله عنها قالت ما رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم رأى غيما إلا رأيت فى وجهه الهيج (4) فاذا أمطرت سكن (وعنها من طريق ثان) (5) قالت كان رسول الله صلى الله عليه وسلم اذا رأى مخيلة (6) تغير وجهه ودخل وخريج وأقبل وأدبر فاذا أمطرت سرى عنه فذكر ذلك له فقال ما أمنت أن يكون كما قال (فلما رأوه عارضا مستقبل أو ديتهم الى ريح فيها عذاب أليم)

হাদীসের ব্যাখ্যা:

আল্লাহ-ভীতি নবী করীম ﷺ-এর মনে অত্যন্ত প্রবল ছিল। তিনি দিন-রাত আল্লাহর ইবাদতে মশগুল থাকতেন এবং আল্লাহর পয়গাম মানুষের কাছে পৌঁছানোর জন্য যাবতীয় কষ্ট হাসিমুখে বরণ করতেন। মানব জাতির কল্যাণের জন্য তিনি তাদেরকে আল্লাহর পয়গাম কবুল করার আহ্বান জানাতেন। কিন্তু তারা তাঁর বাণীকে স্বাগতম জানানোর পরিবর্তে তাঁকে নানাবিধ কষ্টদান করত। অতীতের জাতিসমূহ তাদের পয়গম্বরগণের সাথে যেরূপ মন্দ আচরণ করত, তাঁর জাতিও তাঁর সঙ্গে সেরূপ আচরণ করেছে। তাঁর পয়গাম প্রত্যাখ্যান করেই তারা ক্ষান্ত হয়নি, তারা তাঁকে বিভিন্নভাবে কষ্ট দেয়ার চেষ্টা করেছে। শেয়াবে আবি তালিবে তাঁকে নযরবন্দী করে রেখেছে। বন্দী জীবনের অবসানের পর তিনি পার্শ্ববর্তী শহর তায়েফে গমন করেও কোন ফল পাননি। আল্লাহর দীন কবুল করার জন্য তিনি যে আহ্বান জানিয়েছেন তার জবাব দেশবাসী নির্মম প্রত্যাখ্যান ও অসহনীয় নির্যাতনের মাধ্যমে দিয়েছে। তাঁকে হত্যা করার জন্য তারা উদ্যত হয়েছে। তাই বাধ্য হয়ে তিনি স্বদেশ ত্যাগ করেছেন। দূরবর্তী মদীনায় গিয়েও তিনি শান্তি পাননি। মক্কার শাসকগণ তাঁর বিরুদ্ধে সুদীর্ঘ তের বছর রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ অভিযান পরিচালনা করেছে। এ সত্ত্বেও নবী করীম ﷺ তাঁর কওমের মানুষকে ভালবাসতেন। তিনি আশঙ্কা করতেন যে, তাঁর জাতি আল্লাহর দীনকে প্রত্যাখ্যান করায় আল্লাহর গযব তাদের উপর নেমে আসতে পারে। তাই আসমান মেঘাচ্ছন্ন হলে তিনি ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে আল্লাহর কাছে মুনাজাত করতেন তাদের মঙ্গলের জন্য। হাদীসে সূরা আল-আহকাফের ২৪ নং আয়াতের যে উল্লেখ রয়েছে, তাতে আদ জাতির ধ্বংসকালীন অবস্থার বর্ণনা দেয়া হয়েছে। আল্লাহর আযাব মেঘের আকৃতি ধারণ করে তাদের উপর নাযিল হয়েছিল। আদ জাতির অবস্থা বর্ণনা করে প্রকারান্তরে নবী ﷺ-এর বিরুদ্ধবাদীদেরকে সতর্ক করা হয়েছে যে, যদি তারা নবী ﷺ-এর বিরোধিতা ত্যাগ না করে, তাহলে তাদের উপরও আল্লাহর আযাব যে কোন সময় নাযিল হতে পারে। পবিত্র কুরআনের একাধিক স্থানে এ ধরনের সতর্কবাণী উচ্চারণ করা হয়েছে। তাই মেঘ দেখলে নবী করীম ﷺ খুব বেশি ভীত-সন্ত্রস্ত হতেন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান