মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
হাদীস নং: ১৪
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদ: রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর জন্ম
(১৪) কায়স ইব্ন মাখরামা ইব্ন আবদিল মুত্তালিব ইব্ন আবদ মানাফ (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি এবং আল্লাহর রাসূল (ﷺ) হস্তি-বর্ষে (আমূল ফীল) জন্মগ্রহণ করেছি। সুতরাং আমরা দু'জন সমবয়সী একই বছরের জাতক। (ইবন ইসহাক। সনদ উত্তম।)
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء في ذكر مولده صلى الله عليه وسلم
عن قيس بن مخرمة بن المطلب (1) بن عبد مناف قال ولدت أنا ورسول الله صلى الله عليه وسلم وعلى آله وصحبه وسلم عام الفيل فنحن لدان (2) ولدنا مولدًا واحدًا
হাদীসের ব্যাখ্যা:
আরবীতে হাতীকে 'ফীল' বলে। হস্তীবাহিনীর বছর দ্বারা উদ্দেশ্য ঐ বছর, যার মধ্যে ইয়ামানের খ্রীষ্টান শাসক 'আবরাহা' কা'বা শরীফকে বিধ্বস্ত ও ধ্বংস করে দেওয়ার উদ্দেশ্যে এমন বাহিনী নিয়ে যার মধ্যে পাহাড়ের মত হাতীও ছিল- মক্কায় সেনা অভিযান পরিচালনা করেছিল। কিন্তু মক্কার সীমানায় তাদের প্রবেশের পূর্বেই আল্লাহ্ তা'আলা ছোট ছোট পাখীর আকৃতিতে নিজের গায়েবী সেনাদল পাঠিয়ে দিলেন। ঐ পাখীগুলো আবরাহা বাহিনীর উপর ছোট ছোট পাথরদানা বর্ষণ করে (যেগুলো গুলির কাজ দিত।) সমস্ত বাহিনীকে মিসমার করে দিল। কুরআন মজীদের 'সূরা ফীলে' এ ঘটনাই বর্ণনা করা হয়েছে। যে বছর এ অসাধারণ ঘটনা ঘটেছিল, এটাকেই হস্তী অভিযানের বছর বলা হয়। রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর জন্ম এ বছরই হয়। এক বর্ণনা দ্বারা জানা যায় যে, এ ঘটনার পঞ্চাশ দিন পর হুযুর (ﷺ)-এর জন্ম হয়।
আল্লামা ইবনুল জাওযীর বর্ণনা অনুযায়ী এ কথার উপর ঐকমত্য রয়েছে যে, হুযুর (ﷺ)-এর জন্ম এ বছরই হয়েছে। একথার উপরও প্রায় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত রয়েছে যে, মাস ছিল রবিউল আওয়াল আর দিন ছিল সোমবার। তবে তারিখের ব্যাপারে বিভিন্ন বর্ণনা রয়েছে। ২রা রবিউল আউয়ালেরও বর্ণনা রয়েছে, ৮ই রবিউল আউয়ালেরও, ১০ই রবিউল আওয়ালেরও এবং ১২ই রবিউল আউয়ালেরও। (আর এটাই বেশী প্রসিদ্ধ।) তাছাড়া ১৭ ও ১৮ই রবিউল আউয়ালের বর্ণনাও রয়েছে। আল্লামা কাস্তালানী লিখেছেন যে, অধিকাংশ মুহাদ্দিসীনের নিকট ৮ই রবিউল আউয়ালের বর্ণনাটি অধিক শক্তিশালী। অতীতের মিসরের একজন জ্যোতির্বিজ্ঞানী মাহমূদ পাশা গণিতের হিসাব থেকে প্রমাণ করেছেন যে, হুযূর (ﷺ)-এর পবিত্র জন্ম হস্তী অভিযানের বছর ৯ই রবিউল আউয়াল হয়েছে।
ঠিক সে সময় যখন হুযুর (ﷺ)-এর এ দুনিয়ায় (মক্কা মুকাররমায়ই) আগমনের সময় কাছাকাছি এসে গিয়েছিল, তখন আবরাহা বাহিনীর কা'বা ধ্বংসের ইচ্ছায় বিরাটকায় সব হাতী নিয়ে কা'বার উপর আক্রমণ করা এবং ছোট ছোট পাখীদের পাথর বর্ষণে তাদের তছনছ হয়ে যাওয়া নিশ্চয়ই আল্লাহর কুদরতের এক বিরাট নিদর্শন ও মু'জেযা ছিল। আমাদের আলেম ও লিখকগণ এটাকে ঐসব মু'জেযার মধ্যে গণ্য করেছেন, যেগুলোর আত্মপ্রকাশ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর এ দুনিয়াতে আগমনের পূর্বে তাঁর আগমনের পূর্বাভাস ও বরকত হিসাবে ঘটেছিল। আর নিঃসন্দেহে এটা তাই ছিল।
আল্লামা ইবনুল জাওযীর বর্ণনা অনুযায়ী এ কথার উপর ঐকমত্য রয়েছে যে, হুযুর (ﷺ)-এর জন্ম এ বছরই হয়েছে। একথার উপরও প্রায় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত রয়েছে যে, মাস ছিল রবিউল আওয়াল আর দিন ছিল সোমবার। তবে তারিখের ব্যাপারে বিভিন্ন বর্ণনা রয়েছে। ২রা রবিউল আউয়ালেরও বর্ণনা রয়েছে, ৮ই রবিউল আউয়ালেরও, ১০ই রবিউল আওয়ালেরও এবং ১২ই রবিউল আউয়ালেরও। (আর এটাই বেশী প্রসিদ্ধ।) তাছাড়া ১৭ ও ১৮ই রবিউল আউয়ালের বর্ণনাও রয়েছে। আল্লামা কাস্তালানী লিখেছেন যে, অধিকাংশ মুহাদ্দিসীনের নিকট ৮ই রবিউল আউয়ালের বর্ণনাটি অধিক শক্তিশালী। অতীতের মিসরের একজন জ্যোতির্বিজ্ঞানী মাহমূদ পাশা গণিতের হিসাব থেকে প্রমাণ করেছেন যে, হুযূর (ﷺ)-এর পবিত্র জন্ম হস্তী অভিযানের বছর ৯ই রবিউল আউয়াল হয়েছে।
ঠিক সে সময় যখন হুযুর (ﷺ)-এর এ দুনিয়ায় (মক্কা মুকাররমায়ই) আগমনের সময় কাছাকাছি এসে গিয়েছিল, তখন আবরাহা বাহিনীর কা'বা ধ্বংসের ইচ্ছায় বিরাটকায় সব হাতী নিয়ে কা'বার উপর আক্রমণ করা এবং ছোট ছোট পাখীদের পাথর বর্ষণে তাদের তছনছ হয়ে যাওয়া নিশ্চয়ই আল্লাহর কুদরতের এক বিরাট নিদর্শন ও মু'জেযা ছিল। আমাদের আলেম ও লিখকগণ এটাকে ঐসব মু'জেযার মধ্যে গণ্য করেছেন, যেগুলোর আত্মপ্রকাশ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর এ দুনিয়াতে আগমনের পূর্বে তাঁর আগমনের পূর্বাভাস ও বরকত হিসাবে ঘটেছিল। আর নিঃসন্দেহে এটা তাই ছিল।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)