মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)

আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়

হাদীস নং: ১৫৮
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদ। সূরা বাকারা ও এর ফযীলত।
১৫৮। আবু উমামা (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি তোমরা কুরআন পড় (অপর এক বর্ণনামতে শিক্ষা গ্রহণ কর), কেননা কুরআন কিয়ামতের দিন তার ধারকের জন্য সুপারিশকারী হবে। তোমরা কুরআনের দুই জ্যোতিষ্ক, সূরা বাকারা ও সূরা আলে ইমরান তিলাওয়াত করো, কেননা এ দুটো কিয়ামতের দিন তোমাদের জন্য দুটি মেঘ, অথবা, দুটি ছায়া অথবা দুঝাক সারিবদ্ধ পাখীর মত হবে যা তার পাঠকের পক্ষে ঝগড়া করবে। অতঃপর তিনি বলেন, তোমরা সূরা বাকারা তিলাওয়াত কর, কেননা এর অবলম্বন বরকত এবং এর বর্জন পরিতাপ। আর যাদুকর এ সূরা মুখস্থ করতে পারবে না।
(মুসলিম, অন্যান্য গ্রন্থসূত্র অন্যান্য গ্রন্থসূত্র।)
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب سورة البقرة وما جاء في فضلها
عن أبي أمامة قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول اقرءوا (وفي رواية تعلموا) القرآن فإنه شافع لأصحابه يوم القيامة اقرءوا الزهراوين (2) البقرة وآل عمران فإنهما يأتيان يوم القيامة كأنهما غمامتان (3) أو كأنهما غيابتان (4) أو كأنهما فرقان (5) من طير صواف يحاجان عن أهلهما (6) ثم قال اقرءوا البقرة فإن أخذها بركة وتركها حسرة ولا يستطيعها البطلة

হাদীসের ব্যাখ্যা:

এ হাদীসে রাসূলুল্লাহ ﷺ কুরআন পাঠের প্রতি উৎসাহ দিতে গিয়ে বলেছেন যে, কুরআন তার বন্ধুদের জন্য আল্লাহর দরবারে সুপারিশ করবে। এখানে 'কুরআনের বন্ধু' দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে ঐসব লোক যারা কুরআনের প্রতি ঈমান রাখে এবং এর সাথে ভালবাসা ও সম্পৃক্ততাকে আল্লাহ্ তা'আলার সন্তুষ্টি ও রহমতের ওসীলা মনে করে, এর সাথে বিশেষ সম্পর্ক ও মনের টান রাখে। এর পদ্ধতি বিভিন্ন রূপ হতে পারে। যেমন, বেশী করে এর তেলাওয়াত করা, এতে চিন্তা-গবেষণা করা এবং এর বিধি-বিধানের উপর যত্ন সহকারে আমল করা অথবা এর মহান শিক্ষা ও হেদায়তকে ব্যাপকভাবে প্রচার করার চেষ্টা চালানো। এদের সবার জন্য রাসূলুল্লাহ ﷺ এর পক্ষ থেকে সুসংবাদ রয়েছে যে, কুরআন তাদের পক্ষে সুপারিশ করবে। হ্যাঁ, এখলাস তথা আল্লাহর সন্তুষ্টি ও সওয়াবের নিয়্যত থাকা অবশ্যই জরুরী।

এ হাদীসে কুরআন পাকের তেলাওয়াতের সাধারণ হুকুম দেওয়ার পর রাসূলুল্লাহ ﷺ বিশেষভাবে সূরা বাকারা ও সূরা আলে ইমরান পাঠের প্রতি উৎসাহ দিয়েছেন এবং বলেছেন যে, কেয়ামতের দিন যখন সবাই ছায়ার খুব প্রয়োজন অনুভব করবে, তখন এ সূরা দু'টি মেঘমালা অথবা ছায়াদার জিনিসের মত অথবা পাখীদের ঝাঁকের মত এগুলোর পাঠকারীদের উপর ছায়াপাত করে থাকবে এবং তাদের পক্ষে বিতর্ক ও জবাবদিহী করবে। শেষে সূরা বাকারা সম্পর্কে এও বলেছেন যে, এটা শিখায় ও পাঠ করায় বড় বরকত রয়েছে, আর এ থেকে বঞ্চিত থাকার মধ্যে খুবই ক্ষতি রয়েছে। আর অলস লোকেরা এটা করতে পারবে না। এ হাদীসের কোন কোন রাবী বলেছেন যে, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে যাদুকর। তাই হাদীসটির অর্থ এই হবে যে, সূরা বাকারা তেলাওয়াতে অভ্যস্ত ব্যক্তিদের উপর কখনো কোন যাদুকরের যাদু কার্যকর হবে না।

সূরা বাকারার এই বৈশিষ্ট্য ও তাছীরের ইঙ্গিত ঐ হাদীস থেকেও পাওয়া যায়, যেখানে বলা হয়েছে, যে ঘরে সূরা বাকারা পাঠ করা হয়, সেখান থেকে শয়তান পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান
মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ - হাদীস নং ১৫৮ | মুসলিম বাংলা