মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
হাদীস নং: ২৫৭
আল-কুরআন এর ফযীলত, তাফসীর ও শানে নুযূল অধ্যায়
পরিচ্ছেদ: তায়াম্মুমের আয়াতের বিবরণ।
২৫৭। ইবন নুমায়র (র) তিনি বলেন, হিশাম ইবন উরওয়া তার পিতা সূত্রে, তিনি আয়েশা (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি (রা) আসমা (রা) -এর নিকট থেকে একটি হার ধার নিয়ে তা হারিয়ে ফেললেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তা খুঁজতে কয়েকজন সাহাবী পাঠালেন। তারা সেটি খুঁজে পেল, ততক্ষণে সালাতের ওয়াক্ত হয়ে গেল, কিন্তু তাদের কাছে কোন পানি ছিল না তাই তারা অযু ছাড়াই সালাত আদায় করলো। তারা এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট অনুযোগ করলে তখন আল্লাহ তায়ালা তায়াম্মুমের আয়াত নাজিল করলেন। অতঃপর উসায়দ ইবন হুদায়র (রা) আয়েশা (রা) কে বললেন, আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিন, আল্লাহর কসম! আপনার কোন সমস্যা আসলে তারই প্রেক্ষিতে মহান আল্লাহ আপনার ও সকল মুসলমানের জন্য কল্যাণের ব্যবস্থা করেন। অপর এক বর্ণনামতে, 'আব্দুর রহমান (র) কাসিম (র) সূত্রে, তিনি তার পিতা সূত্রে, তিনি আয়েশা (রা) সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি (রা) বলেছেন, আমরা কোন এক সফরে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে বের হলাম এবং আমরা মক্কা ও মদীনার মধ্যবর্তী বায়দা অথবা(১) যাতুল জায়শ নামক স্থানে পৌঁছলাম, তখন আমার গলার হারটি হারিয়ে গেল, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাৎক্ষণিক যাত্রা বিরতি করলেন এবং সাধারণ মুসলিমগণও তাঁর সাথে দাঁড়িয়ে গেল। তাদের আশে পাশে কোন পানি ছিল না এবং তাদের সঙ্গেও কোন পানি ছিল না। তখন আবু বকর (রা) আমার নিকট আসলেন আর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার মাথা আমার উরুতে চেপে শুয়ে ছিলেন, আবু বকর (রা) বললেন, তুমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও সাধারণ লোকজনকে আটকিয়ে রেখেছো অথচ তাদের আশে পাশে কোন পানি নেই এবং তাদের সঙ্গেও কোন পানি নেই? আয়েশা (রা) বলেন, তখন আবু বকর (রা) আমাকে, গালমন্দ করলেন, যা ইচ্ছা তা বললেন এবং তার হাত দিয়ে আমার কোমরে আঘাত করছিলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার উরুর ওপর থাকায় আমি নড়াচড়াও করতে পারছিলাম না। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ঘুম থেকে উঠলেন আর মানুষের পানিহীন অবস্থায় ভোর হয়ে গেল। তখন মহান আল্লাহ তায়াম্মুমের আয়াত(১) নাজিল করলেন। অতঃপর তারা তায়াম্মুম করে নিল। তখন উসায়দ ইবন হুদায়ের (রা) বললেন, হে আবু বকরের পরিবার। এটাই তোমাদের প্রথম বরকত নয়। আয়েশা (রা) বলেন, অতঃপর আমি যে উটনীতে এসেছিলাম, সেটিকে তুললাম এবং তারই নিচে আমার হারানো হারটি খুঁজে পেলাম।
(বুখারী ও মুসলিম)
টিকা: ১. আয়েশা (রা) জায়গার নামটির ব্যাপারে সংশয়ের মধ্যে ছিলেন।
টিকা: ১. আল-কুরআন, ৫:০৬
(বুখারী ও মুসলিম)
টিকা: ১. আয়েশা (রা) জায়গার নামটির ব্যাপারে সংশয়ের মধ্যে ছিলেন।
টিকা: ১. আল-কুরআন, ৫:০৬
كتاب فضائل القرآن وتفسيره وأسباب نزوله
باب آية التيمم
حدثنا ابن نمير ثنا هشام بن عروة عن أبيه عن عائشة رضي الله عنها أنها استعارت من أسماء (4) قلادة فهلكت فبعث رسول الله صلى الله عليه وسلم رجالا في طلبها فوجدوها (5) فأدركتهم الصلاة وليس معهم ماء فصلوا بغير وضوء فشكوا ذلك للنبي صلى الله عليه وسلم فأنزل الله عز وجل التيمم (6) فقال أسيد بن حضير لعائشة جزاك الله خيرا فوالله ما نزلت بك أمر تكرهينه إلا جعل الله لك وللمسلمين فيه خيرا (7) (ومن طريق ثان) (8) (قر) عن عبد الرحمن عن القاسم عن أبيه عن عائشة رضي الله عنها انها قالت خرجنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم في بعض أسفارنا (9) حتى إذا كنا بالبيداء (10) أو بذات الجيش انقطع عقد لي (11) فأقام رسول الله صلى الله عليه وسلم على التماسه وأقام الناس معه وليسوا على ماء وليس معهم ماء فجاء أبو بكر ورسول الله صلى الله عليه وسلم واضعا رأسه على فخذي (12) فقال حبست رسول الله صلى الله عليه وسلم والناس وليسوا على ماء وليس معهم ماء؟ قالت فعاتبني أبو بكر وقال ما شاء الله ان يقول وجعل يطعن بيده في خاصرتي ولا يمنعني من التحرك إلا مكان رسول الله صلى الله عليه وسلم على فخذي فقام (13) رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى أصبح الناس على غير ماء فأنزل الله عز وجل آية التيمم) (1) فتيمموا فقال أسيد بن الحضير ما هي بأول بركتكم يا آل أبي بكر قالت فبعثنا البعير الذي كنت عليه فوجدنا العقد تحته
হাদীসের ব্যাখ্যা:
হযরত আয়েশা (রা) বর্ণিত হাদীসে যে তায়াম্মুমের আয়াত সম্পর্কে ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে তা সম্ভবত সূরা নিসার নিম্নোক্ত আয়াত:
وَإِنْ كُنْتُمْ مَرْضَى أَوْ عَلَى سَفَرٍ أَوْ جَاءَ أَحَدٌ مِنْكُمْ مِنَ الْغَائِطِ أَوْ لَامَسْتُمُ النِّسَاءَ فَلَمْ تَجِدُوا مَاءً فَتَيَمَّمُوا صَعِيدًا طَيِّبًا فَامْسَحُوا بِوُجُوهِكُمْ وَأَيْدِيكُمْ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَفُوًّا غَفُورًا
"তোমরা যদি পীড়িত হও অথবা সফরে থাক অথবা তোমাদের কেউ শৌচস্থান থেকে আসে অথবা তোমরা নারী-সম্ভোগ কর এবং পানি না পাও তবে পবিত্র মাটির দ্বারা তায়াম্মুম করবে এবং তা মুখ ও হাতে মাসেহ করবে। আল্লাহ্ পাপ মোচনকারী, ক্ষমাশীল।" (৪, সূরা নিসাঃ ৪৩)
সামান্য শাব্দিক পার্থক্যসহ সূরা মায়িদার দ্বিতীয় রুকুতেও অনুরূপ আয়াত রয়েছে। কিছু সংখ্যক বর্ণনাকারীদের বর্ণনা থেকে জানা যায় যে, পূর্বোক্ত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সূরা মায়িদার আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে। কিন্তু অধিকাংশ তাফসীরকারদের মতে সূরা নিসায় বর্ণিত আয়াতই প্রথম অবতীর্ণ হয়েছে। তারপর সূরা মায়িদার আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে। আল্লাহ্ তা'আলা সর্বজ্ঞ।
وَإِنْ كُنْتُمْ مَرْضَى أَوْ عَلَى سَفَرٍ أَوْ جَاءَ أَحَدٌ مِنْكُمْ مِنَ الْغَائِطِ أَوْ لَامَسْتُمُ النِّسَاءَ فَلَمْ تَجِدُوا مَاءً فَتَيَمَّمُوا صَعِيدًا طَيِّبًا فَامْسَحُوا بِوُجُوهِكُمْ وَأَيْدِيكُمْ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَفُوًّا غَفُورًا
"তোমরা যদি পীড়িত হও অথবা সফরে থাক অথবা তোমাদের কেউ শৌচস্থান থেকে আসে অথবা তোমরা নারী-সম্ভোগ কর এবং পানি না পাও তবে পবিত্র মাটির দ্বারা তায়াম্মুম করবে এবং তা মুখ ও হাতে মাসেহ করবে। আল্লাহ্ পাপ মোচনকারী, ক্ষমাশীল।" (৪, সূরা নিসাঃ ৪৩)
সামান্য শাব্দিক পার্থক্যসহ সূরা মায়িদার দ্বিতীয় রুকুতেও অনুরূপ আয়াত রয়েছে। কিছু সংখ্যক বর্ণনাকারীদের বর্ণনা থেকে জানা যায় যে, পূর্বোক্ত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সূরা মায়িদার আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে। কিন্তু অধিকাংশ তাফসীরকারদের মতে সূরা নিসায় বর্ণিত আয়াতই প্রথম অবতীর্ণ হয়েছে। তারপর সূরা মায়িদার আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে। আল্লাহ্ তা'আলা সর্বজ্ঞ।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)