মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)
উত্তম চরিত্র ও এ সম্পর্কিত বিষয় অধ্যায়
হাদীস নং: ৬৮
উত্তম চরিত্র ও এ সম্পর্কিত বিষয় অধ্যায়
পরিচ্ছেদ: লজ্জা-র প্রতি উৎসাহ প্রদান এবং এর কল্যাণকারিতা
৬৮. 'আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একদিন বলেন, আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে সত্যিকার লজ্জা অবলম্বন কর। বর্ণনাকারী বলেন, আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)। আল্লাহর সমস্ত প্রশংসা, আল্লাহর জন্য আমরাতো লজ্জাবোধ করি। তিনি বললেন, তোমরা যা ধারণা করেছ, সেটা নয়, (অর্থাৎ সত্যিকার লজ্জা হলো- কথা, কাজ, অন্তকরণ ও সমস্ত অঙ্গ- প্রত্যঙ্গ গুনাহ থেকে হিফাযত করা।) বরং যে ব্যক্তি সত্যিকার ভাবে আল্লাহ থেকে লজ্জা করতে চায়, সে যেন তার মাথা ও অনুভূতির হিফাযত করে। (অর্থাৎ তার কান, চোখ ও যবান বৈধ কাজে ব্যবহার করে) তার পেট ও তার সাথে সম্পৃক্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ হিফাযত করে। (অর্থাৎ অন্তর, লজ্জাস্থান, হাত, পা গুনাহ থেকে হিফাযত করে।) এবং মৃত্যুকে স্মরণ করে। আর যে ব্যক্তি পরকালের সফলতা ও নিয়ামতের প্রত্যাশা করে, সে যেন দুনিয়ার সৌন্দর্য ত্যাগ করে। যে ব্যক্তি এ কাজ করবে, সে সত্যিকারভাবে আল্লাহ তাআ'লাকে লজ্জা করল।
كتاب الأخلاق الحسنة ما جاء فيها
باب الترغيب في الحياء وأنه لا يأتي إلا بخير
عن عبد الله بن مسعود قال قال رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم ذات يوم استحيوا من الله عز وجل حق الحياء قال قلنا يا رسول الله إنا نستحي والحمد لله قال ليس ذلك (5) ولكن من استحى من الله حق الحياء فليحفظ الراس (6) وما حوى والبطن وما وعى (7) وليذكر الموت والبيلي ومن اراد الآخرة (8) ترك زينة الدنيا (9) فمن فعل ذلك فقد استحيا من الله عز وجل حق الحياء
হাদীসের ব্যাখ্যা:
আল্লাহকে কিভাবে হায়া করা উচিত তার এক পরিপূর্ণ নকশা আল্লাহর রাসূল ﷺ আলোচ্য হাদীসে অংকন করেছেন। মাথা ও তার মধ্যে যা রয়েছে তার হিফাযত করার অর্থ হল চিন্তাকে গলদ খাতে প্রবাহিত হতে না দেয়া। সহীহ ও গলদ রাস্তার পার্থক্য অনুধাবন করা, হালাল-হারাম সম্পর্কে কোনরূপ সন্দেহ পোষণ না করা, দীন ইসলামকে একমাত্র দীন হিসেবে চিন্তা করা, যাবতীয় বাতিল মতাদর্শকে চিন্তার বহির্ভূত রাখা এবং মানুষের গড়া তামাম মতাদর্শকে সর্বদা বাতিল মনে করা। এ ছাড়াও কোনরূপ অশ্লীল কাজ করা বা মানুষের অনিষ্ট করার চিন্তা না করা। কোন কোন ক্ষেত্রে মন্দ চিন্তাধারা মানুষের ঈমান বিনষ্ট করে।
পেটের এবং পেটের ভিতরে যা জমা করা হয়, তার অর্থ হল হারাম রোযগার বা হারাম জিনিসের দ্বারা পেট না ভরা। হালাল বস্তু ও হালাল রোযগারের মাধ্যমে উপার্জিত বস্তুর দ্বারা ক্ষুধা-পিপাসা দূর না করলে বান্দার ইবাদত কবুল হয় না।
আল্লাহকে হায়া করার অর্থ হল দুনিয়ার যিন্দেগীর পরিবর্তে আখিরাতের যিন্দেগীকে প্রাধান্য দান করা এবং দুনিয়ার তথাকথিত কোন মূল্যবান জিনিসের লোভে আখিরাতের সামান্যতম লোকসান না করা। আখিরাতের স্থায়ী গৃহ ও তার অমূল্য নিয়ামত লাভ করার জন্য প্রয়োজনবোধে দুনিয়ার আরাম-আয়েশ কুরবান করা। আখিরাতের যিন্দেগীতে শুধু সুখ-শান্তি নয়, বরং দুঃখ-অশান্তিও রয়েছে। বান্দা মৃত্যুর কঠিন দরজা পার হয়ে আখিরাতের যিন্দেগীতে কদম রাখে। মৃত্যু তার যাবতীয় ভয়াবহতা নিয়ে আখিরাতের যাত্রীর সামনে উপস্থিত হয়। বান্দার ঈমান ও আমল মৃত্যুর পর থেকে শুরু করে আখিরাতের প্রত্যেক মনযিলে বান্দাকে সাহায্য করে। বান্দা দুনিয়াতে মন্দ আমল করলে তামাম মন্দ আমল কিম্ভুতকিমাকার মূর্তি নিয়ে তার সামনে হাযির হবে এবং তার মনের যাবতীয় শান্তি অপহরণ করবে। মন্দ মানুষের জন্য আখিরাতের প্রত্যেকটি মনযিল খুবই কঠিন হবে।
যে ব্যক্তি নিজের চিন্তাধারাকে গলদ রাস্তায় প্রবাহিত করে না, গলদ জিনিসের দ্বারা ক্ষুধা নিবারণ করে না, মৃত্যু ও তার পরবর্তী মনযিলসমূহের কথা চিন্তা করে এবং আখিরাতের জন্য দুনিয়াকে কুরবান করে, সে প্রকৃতপক্ষে আল্লাহকে হায়া করার হক আদায় করে।
পেটের এবং পেটের ভিতরে যা জমা করা হয়, তার অর্থ হল হারাম রোযগার বা হারাম জিনিসের দ্বারা পেট না ভরা। হালাল বস্তু ও হালাল রোযগারের মাধ্যমে উপার্জিত বস্তুর দ্বারা ক্ষুধা-পিপাসা দূর না করলে বান্দার ইবাদত কবুল হয় না।
আল্লাহকে হায়া করার অর্থ হল দুনিয়ার যিন্দেগীর পরিবর্তে আখিরাতের যিন্দেগীকে প্রাধান্য দান করা এবং দুনিয়ার তথাকথিত কোন মূল্যবান জিনিসের লোভে আখিরাতের সামান্যতম লোকসান না করা। আখিরাতের স্থায়ী গৃহ ও তার অমূল্য নিয়ামত লাভ করার জন্য প্রয়োজনবোধে দুনিয়ার আরাম-আয়েশ কুরবান করা। আখিরাতের যিন্দেগীতে শুধু সুখ-শান্তি নয়, বরং দুঃখ-অশান্তিও রয়েছে। বান্দা মৃত্যুর কঠিন দরজা পার হয়ে আখিরাতের যিন্দেগীতে কদম রাখে। মৃত্যু তার যাবতীয় ভয়াবহতা নিয়ে আখিরাতের যাত্রীর সামনে উপস্থিত হয়। বান্দার ঈমান ও আমল মৃত্যুর পর থেকে শুরু করে আখিরাতের প্রত্যেক মনযিলে বান্দাকে সাহায্য করে। বান্দা দুনিয়াতে মন্দ আমল করলে তামাম মন্দ আমল কিম্ভুতকিমাকার মূর্তি নিয়ে তার সামনে হাযির হবে এবং তার মনের যাবতীয় শান্তি অপহরণ করবে। মন্দ মানুষের জন্য আখিরাতের প্রত্যেকটি মনযিল খুবই কঠিন হবে।
যে ব্যক্তি নিজের চিন্তাধারাকে গলদ রাস্তায় প্রবাহিত করে না, গলদ জিনিসের দ্বারা ক্ষুধা নিবারণ করে না, মৃত্যু ও তার পরবর্তী মনযিলসমূহের কথা চিন্তা করে এবং আখিরাতের জন্য দুনিয়াকে কুরবান করে, সে প্রকৃতপক্ষে আল্লাহকে হায়া করার হক আদায় করে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)