মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)

দারিদ্রতা ও ঐশ্বর্য সম্পর্কে অধ্যায়

হাদীস নং: ৩০
দারিদ্রতা ও ঐশ্বর্য সম্পর্কে অধ্যায়
পরিচ্ছেদ: সৎ ব্যক্তি, সৎ ধনী হওয়ার প্রতি উৎসাহ প্রদান
৩০. 'আমর ইবনুল 'আস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার নিকট সংবাদ পাঠিয়ে বলেন, তোমার পোশাক ও যুদ্ধের অস্ত্র নিয়ে আমার নিকট আস। এ সংবাদ পেয়ে আমি তাঁর নিকট গেলাম, তখন তিনি অযু করছিলেন। তখন তিনি মাথা উঁচু করে আমার দিকে তাকিয়ে বলেন, আমি ইচ্ছে করেছিলাম যে, তোমাকে সেনাবাহিনীতে পাঠাবো, আর সেজন্য আল্লাহ তোমাকে শান্তি প্রদান ও গনিমত দান করবেন, আমার নেক ইচ্ছে যে, তুমি সম্পদের মালিক হও তিনি বলেন, তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)। আমি তো মালের জন্য ইসলাম গ্রহণ করিনি, বরং আমি ইসলামের জন্য আত্মসমর্পণ করেছি। আমার ইচ্ছে ছিল আপনার সাথে অবস্থান করা। তখন রাসূল (ﷺ) বললেন, হে 'আমর! সৎলোকের জন্য হালাল মাল নিয়ামত।
كتاب الفقر والغنى
باب الترغيب في الغنى الصالح للرجل الصالح
عن عمرو بن العاص قال بعث إلي رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال خذ عليك ثيابك وسلاحك ثم ائتني فاتيته وهو يتوضأ فصعد في النظر (1) ثم طأطأ فقال إني أريد أن أبعثك على جيش فيسلمك الله ويغنمك وارغب لك من المال رغبة صالحة قال قلت يا رسول الله ما أسلمت من أجل المال ولكني اسلمت رغبة في الاسلام وأن أكون مع رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال يا عمرو نعم المال الصالح للمرء الصالح

হাদীসের ব্যাখ্যা:

হযরত আমর ইবনুল আস (রা)-এর এ হাদীস থেকে জানা গেল যে, ধন-সম্পদ যদি বৈধ পন্থায় উপার্জিত হয় তবে তা আল্লাহর নি'আমত ও তাঁর বিশেষ অনুগ্রহ। আর সাধনা ও সংযমের অধ্যায়ের অধীনস্থ অনেক হাদীস থেকে জানা যায় যে, ধন-সম্পদ থেকে রিক্ত হস্তে অর্থাৎ দারিদ্র্যকে শ্রেষ্ঠত্ব দান করা হয়েছে। আর উম্মতের দরিদ্রগণ ধনীদের থেকে শ্রেষ্ট। ঘটনা হচ্ছে, উভয় কথাই স্ব স্ব স্থানে সম্পূর্ণ সঠিক। দারিদ্র্য ও নিঃস্বতার সাথে যদি ধৈর্য, সমর্পণ, সন্তুষ্টি ও নম্রতা হাসিল হয় তবে নিঃসন্দেহে এ দারিদ্র্য ও নিঃস্বতা খুবই উঁচু স্তরের। এতে রয়েছে বিরাট কল্যাণ। রাসুলুল্লাহ ﷺ নিজের জন্য এটাই পসন্দ করেছেন এবং এটার জন্যই তিনি আল্লাহ তা'আলার নিকট দু'আ করতেন।

আর যদি আল্লাহ তা'আলা কোন বান্দাকে বৈধ ও পবিত্র পন্থায় ধন-সম্পদ দান করেন এজন্য সে শুকরিআ আদায় করে এবং সঠিক স্থানে ব্যয় করার তওফীক লাভ করে তবে তাও আল্লাহ তা'আলার বিশেষ অনুগ্রহ এবং মর্যাদা সম্পন্ন নি'আমত। নবীগণের মধ্যে হযরত দাউদ (আ), হযরত সুলায়মান (আ), হযরত আইয়ূব (আ) ও হযরত ইউসুফ (আ) আর তাঁরা ছাড়াও অনেক ব্যক্তিকে আল্লাহ তাআলা এ অনুগ্রহে বৈশিষ্ট্য মন্ডিত করেছেন। আর মর্যাদাবান সাহাবীগণের মধ্যে হযরত উসমান (রা), হযরত আব্দুর রহমান ইবনে আওফ (রা), হযরত যুবাইর ইবনে আওয়াম (রা) প্রমুখও আল্লাহ তা'আলার এ অনুগ্রহে পূর্ণ অংশ প্রাপ্ত হয়েছিলেন। সর্বোপরি এটাও আল্লাহ আ'আলার বিরাট মর্যাদাযোগ্য ও শুকরিয়া যোগ্য নি'আমত। نعم المال الصالح للمرء الصالح.
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান