মা'আরিফুল হাদীস
যাকাত অধ্যায়
হাদীস নং: ৫১
যাকাত অধ্যায়
নিজের পরিবার-পরিজনের প্রয়োজন পূরণে নিজের সাধ্য ও সামর্থ্য অনুযায়ী অল্পবিস্তর অর্থ ব্যয় তো সবাই করে থাকে। কিন্তু এ অর্থ ব্যয়ে মানুষের ঐ আত্মিক আনন্দ লাভ হয় না, যা অন্যান্য অভাবী ও গরীব মিসকীনকে দান করলে হয়ে থাকে। কেননা, নিজের পরিবার-পরিজনের জন্য খরচ করাকে মানুষ সওয়াবের কাজ মনে করে না; বরং এটাকে বাধ্যতামূলক অথবা মনের চাহিদা মনে করে।
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলে দিয়েছেন যে, নিজের পরিবার-পরিজন ও আত্মীয়-স্বজনের জন্যও আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় এবং সওয়াবের নিয়্যতে খরচ করা চাই। এ অবস্থায় এ খাতে যা ব্যয় করা হবে, সেটা দানের মতই আখেরাতের ব্যাংকে জমা হবে; বরং অন্যদের উপর খরচ করার চাইতে এতে সওয়াব বেশী হবে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর এ শিক্ষা দ্বারা আমাদের জন্য কল্যাণ ও সৌভাগ্যের একটি বিরাট দরজা খুলে যায়। এখন আমরা যাকিছু আমাদের স্ত্রী-সন্তানদের খাওয়া পরার জন্য বৈধ সীমার মধ্যে খরচ করব, সেটা এক ধরনের দান ও সওয়াবের কাজ হবে। শর্ত কেবল একটাই যে, আমরা সওয়াব লাভের মানসিকতা ও নিয়্যত নিয়ে খরচ করব।
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলে দিয়েছেন যে, নিজের পরিবার-পরিজন ও আত্মীয়-স্বজনের জন্যও আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় এবং সওয়াবের নিয়্যতে খরচ করা চাই। এ অবস্থায় এ খাতে যা ব্যয় করা হবে, সেটা দানের মতই আখেরাতের ব্যাংকে জমা হবে; বরং অন্যদের উপর খরচ করার চাইতে এতে সওয়াব বেশী হবে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর এ শিক্ষা দ্বারা আমাদের জন্য কল্যাণ ও সৌভাগ্যের একটি বিরাট দরজা খুলে যায়। এখন আমরা যাকিছু আমাদের স্ত্রী-সন্তানদের খাওয়া পরার জন্য বৈধ সীমার মধ্যে খরচ করব, সেটা এক ধরনের দান ও সওয়াবের কাজ হবে। শর্ত কেবল একটাই যে, আমরা সওয়াব লাভের মানসিকতা ও নিয়্যত নিয়ে খরচ করব।
৫১. হযরত আবূ মাসউদ আনসারী রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: যখন কোন মুসলমান বান্দা নিজের পরিবার-পরিজনের উপর সওয়াবের নিয়্যতে কিছু খরচ করবে, এটা তার জন্য সদাকা ও দান হিসাবে গণ্য হবে। বুখারী, মুসলিম
کتاب الزکوٰۃ
عَنْ أَبِي مَسْعُودٍ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : « إِذَا أَنْفَقَ المُسْلِمُ نَفَقَةً عَلَى أَهْلِهِ ، وَهُوَ يَحْتَسِبُهَا ، كَانَتْ لَهُ صَدَقَةً »
(رواه البخارى ومسلم)
(رواه البخارى ومسلم)
হাদীসের ব্যাখ্যা:
এ হাদীছে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পরিবারবর্গের পেছনে অর্থব্যয়কে সদাকা সাব্যস্ত করেছেন, যদি তা আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টিলাভের উদ্দেশ্যে করা হয়। يحتسب ক্রিয়াপদটির উৎপত্তি احتساب) (ইহতিসাব) থেকে। ইহতিসাব অর্থ যে আমল করা হয় তাতে আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টিলাভের ইচ্ছা রাখা এবং তার জন্য যে ছাওয়াব নির্দিষ্ট আছে তা পাওয়ার আশা রাখা। এ হাদীছ জানাচ্ছে, ইহতিসাবের সঙ্গে পরিবার-পরিজনের পেছনে ব্যয় করলে সে ব্যয় সদাকারূপে গণ্য হয়। অর্থাৎ তাতে সদাকার ছাওয়াব পাওয়া যায়।
সুবহানাল্লাহ! মহান আল্লাহ কতইনা দয়াময়। পরিবার-পরিজনের পেছনে মানুষ স্বভাবতই ব্যয় করে থাকে। এ ব্যাপারে অবহেলা করে ঘোর নিষ্ঠুর কিংবা চরম উদাসীন প্রকৃতির লোক। এরকম লোক ছাড়া প্রায় সকলেই নিজ মনের আনন্দ ও পরিতৃপ্তির জন্যই বিবি-বাচ্চার জন্য টাকা-পয়সা খরচ করে এবং তাদের জন্যই আয় রোযগার করে। তো যে কাজটি মানুষ স্বভাবতই মনের আগ্রহে করে থাকে, কেবল নিয়তের বদলের কারণে তা সদাকা ও ছাওয়াবের কাজে পরিণত হয়ে যায়।
আবার এভাবেও চিন্তা করা যায় যে, পরিবার-পরিজনের পেছনে ব্যয় করা প্রত্যেকের অবশ্যকর্তব্য। শরীআত এটাকে ওয়াজিব করেছে। তাদের পেছনে ব্যয় করার দ্বারা ওয়াজিব আদায় ও কর্তব্য পালন হয়। তো যে ব্যয়ের দ্বারা কর্তব্য পালন হয় তাতে ছাওয়াবের প্রশ্ন কী? কিন্তু আল্লাহ তাআলা এতেও ছাওয়াব রেখেছেন। এটা কেবলই তাঁর রহমত ও দয়া। এর জন্য তাঁর হাজারও শোকর।
হাদীস থেকে শিক্ষণীয়ঃ
ক. পরিবার-পরিজনের পেছনে টাকা-পয়সা খরচ করা কেবল দুনিয়াবী কাজ নয়; এটা ছাওয়াবের কাজও বটে। তাই এরূপ কাজেও ছাওয়াবের আশা রাখা চাই।
খ. দুনিয়ার স্বভাবগত কাজসমূহও নেক নিয়তের কারণে ছাওয়াবের কাজে পরিণত হয়। তাই মুমিন-মুসলিমের কর্তব্য এ জাতীয় কাজেও নেক নিয়তের চর্চা করা।
সুবহানাল্লাহ! মহান আল্লাহ কতইনা দয়াময়। পরিবার-পরিজনের পেছনে মানুষ স্বভাবতই ব্যয় করে থাকে। এ ব্যাপারে অবহেলা করে ঘোর নিষ্ঠুর কিংবা চরম উদাসীন প্রকৃতির লোক। এরকম লোক ছাড়া প্রায় সকলেই নিজ মনের আনন্দ ও পরিতৃপ্তির জন্যই বিবি-বাচ্চার জন্য টাকা-পয়সা খরচ করে এবং তাদের জন্যই আয় রোযগার করে। তো যে কাজটি মানুষ স্বভাবতই মনের আগ্রহে করে থাকে, কেবল নিয়তের বদলের কারণে তা সদাকা ও ছাওয়াবের কাজে পরিণত হয়ে যায়।
আবার এভাবেও চিন্তা করা যায় যে, পরিবার-পরিজনের পেছনে ব্যয় করা প্রত্যেকের অবশ্যকর্তব্য। শরীআত এটাকে ওয়াজিব করেছে। তাদের পেছনে ব্যয় করার দ্বারা ওয়াজিব আদায় ও কর্তব্য পালন হয়। তো যে ব্যয়ের দ্বারা কর্তব্য পালন হয় তাতে ছাওয়াবের প্রশ্ন কী? কিন্তু আল্লাহ তাআলা এতেও ছাওয়াব রেখেছেন। এটা কেবলই তাঁর রহমত ও দয়া। এর জন্য তাঁর হাজারও শোকর।
হাদীস থেকে শিক্ষণীয়ঃ
ক. পরিবার-পরিজনের পেছনে টাকা-পয়সা খরচ করা কেবল দুনিয়াবী কাজ নয়; এটা ছাওয়াবের কাজও বটে। তাই এরূপ কাজেও ছাওয়াবের আশা রাখা চাই।
খ. দুনিয়ার স্বভাবগত কাজসমূহও নেক নিয়তের কারণে ছাওয়াবের কাজে পরিণত হয়। তাই মুমিন-মুসলিমের কর্তব্য এ জাতীয় কাজেও নেক নিয়তের চর্চা করা।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ রিয়াযুস সালিহীন (অনুবাদ- মাওলানা আবুল বাশার মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম হাফি.)