মা'আরিফুল হাদীস
হজ্ব অধ্যায়
হাদীস নং: ১৫৬
হজ্ব অধ্যায়
ইহরামের পোশাক
১৫৬. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে জিজ্ঞাসা করল, মুহরিম ব্যক্তি কি কি কাপড় পরিধান করতে পারবে? তিনি বললেনঃ (ইহরাম অবস্থায়) তোমরা জামা পরবে না, পাগড়ী পরবে না, শেলওয়ার পরবে না, টুপি পরবে না এবং জুতাও পরবে না। তবে কেউ যদি স্যান্ডেল না পায়, তাহলে সে জুতাই পরে নিবে, কিন্তু এগুলো টাখনুর নীচ দিক থেকে কেটে নিবে। আর তোমরা এমন কাপড়ও পরিধান করবে না, যার মধ্যে জাফরান অথবা ওয়ারস লাগান হয়েছে। বুখারী, মুসলিম
کتاب الحج
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّ رَجُلًا سَأَلَ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : مَا يَلْبَسُ الْمُحْرِمُ مِنَ الثِّيَابِ؟ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : « لَا تَلْبَسُوا الْقُمُصَ ، وَلَا الْعَمَائِمَ ، وَلَا السَّرَاوِيلَاتِ ، وَلَا الْبَرَانِسَ ، وَلَا الْخِفَافَ ، إِلَّا أَحَدٌ لَا يَجِدُ النَّعْلَيْنِ ، فَلْيَلْبَسِ الْخُفَّيْنِ ، وَلْيَقْطَعْهُمَا أَسْفَلَ مِنَ الْكَعْبَيْنِ ، وَلَا تَلْبَسُوا مِنَ الثِّيَابِ شَيْئًا مَسَّهُ الزَّعْفَرَانُ وَلَا الْوَرْسُ » (رواه البخارى ومسلم)
হাদীসের ব্যাখ্যা:
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এ হাদীসে জামা, শেলওয়ার, পাগড়ী ইত্যাদি কেবল কয়েকটি কাপড়ের নাম নিয়েছেন, যেগুলোর সে সময় প্রচলন ছিল। এ বিধানই প্রযোজ্য হবে ঐসব কাপড়ের বেলায়, যেগুলো বিভিন্ন যুগে, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মাঝে ও বিভিন্ন দেশে এসব উদ্দেশ্যের জন্য ব্যবহার করা হয় অথবা ভবিষ্যতে ব্যবহার করা হবে- যেসব উদ্দেশ্যের জন্য জামা, শেলওয়ার ও পাগড়ী ইত্যাদি ব্যবহার করা হত।
জাফরান তো একটি প্রসিদ্ধ জিনিস, ওয়ারসও এক ধরনের সুগন্ধিযুক্ত কমলা রঙের পাতা। এ দু'টি জিনিসই যেহেতু সুগন্ধি হিসাবে ব্যবহৃত হত, এজন্য ইহরাম অবস্থায় এমন কাপড় পরিধান করতেও নিষেধ করা হয়েছে, যাতে জাফরান অথবা ওয়ারসের স্পর্শ লেগেছে।
প্রশ্নকারী ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করেছিল, "মুহরিম ব্যক্তি কেমন কাপড় পরিধান করবে?" হুযূর (ﷺ) উত্তরে বললেন: "অমুক অমুক কাপড় পরতে পারবে না।" এ উত্তরে তিনি যেন একথাও শিখিয়ে দিলেন যে, জিজ্ঞাসা করার বিষয় এটা নয় যে, মুহরিম ব্যক্তি কি ধরনের কাপড় পরবে; বরং এটা জিজ্ঞাসা করা উচিত ছিল যে, তার জন্য কোন ধরনের কাপড় পরা নিষেধ। কেননা, ইহরামের প্রভাব এটাই পড়ে থাকে যে, কোন কোন কাপড় ও কোন কোন জিনিস যেগুলোর ব্যবহার সাধারণ অবস্থায় জায়েয থাকে- ইহরামের কারণে এগুলোর ব্যবহার নিষিদ্ধ হয়ে যায়। এ জন্য এটা জিজ্ঞাসা করা চাই যে, ইহরাম অবস্থায় কোন্ কোন্ কাপড় ও কোন কোন্ জিনিসের ব্যবহার নিষিদ্ধ ও নাজায়েয হয়ে যায়।
জাফরান তো একটি প্রসিদ্ধ জিনিস, ওয়ারসও এক ধরনের সুগন্ধিযুক্ত কমলা রঙের পাতা। এ দু'টি জিনিসই যেহেতু সুগন্ধি হিসাবে ব্যবহৃত হত, এজন্য ইহরাম অবস্থায় এমন কাপড় পরিধান করতেও নিষেধ করা হয়েছে, যাতে জাফরান অথবা ওয়ারসের স্পর্শ লেগেছে।
প্রশ্নকারী ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করেছিল, "মুহরিম ব্যক্তি কেমন কাপড় পরিধান করবে?" হুযূর (ﷺ) উত্তরে বললেন: "অমুক অমুক কাপড় পরতে পারবে না।" এ উত্তরে তিনি যেন একথাও শিখিয়ে দিলেন যে, জিজ্ঞাসা করার বিষয় এটা নয় যে, মুহরিম ব্যক্তি কি ধরনের কাপড় পরবে; বরং এটা জিজ্ঞাসা করা উচিত ছিল যে, তার জন্য কোন ধরনের কাপড় পরা নিষেধ। কেননা, ইহরামের প্রভাব এটাই পড়ে থাকে যে, কোন কোন কাপড় ও কোন কোন জিনিস যেগুলোর ব্যবহার সাধারণ অবস্থায় জায়েয থাকে- ইহরামের কারণে এগুলোর ব্যবহার নিষিদ্ধ হয়ে যায়। এ জন্য এটা জিজ্ঞাসা করা চাই যে, ইহরাম অবস্থায় কোন্ কোন্ কাপড় ও কোন কোন্ জিনিসের ব্যবহার নিষিদ্ধ ও নাজায়েয হয়ে যায়।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)