মা'আরিফুল হাদীস
হজ্ব অধ্যায়
হাদীস নং: ১৬৭
হজ্ব অধ্যায়
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বিদায় হজ্ব
১৬৭. হযরত আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত, নবী করীম (ﷺ) (১০ই যিলহজ্ব সকালে মুযদালিফা থেকে) মিনায় আসলেন। এখানে এসে তিনি প্রথমে জামরাতুল আকাবায় কংকর মারলেন। তারপর নিজের তাঁবুতে আসলেন এবং কুরবানীর পশুগুলো যবাহ্ করলেন। তারপর তিনি নাপিতকে ডাকলেন এবং প্রথমে মাথার ডান দিক তার সামনে ধরে দিলেন। নাপিত এ দিকের চুল মুড়িয়ে নিল। তিনি আবূ তালহা আনসারীকে চুলগুলো দিলেন। তারপর মাথার বাম দিক নাপিতের সামনে বাড়িয়ে দিয়ে বললেন, এখন এগুলো মুড়িয়ে নাও। সে এ দিকটাও মুড়িয়ে নিলে তিনি আবু তালহাকে এ চুলগুলো দিয়ে বললেন, এগুলো লোকদের মধ্যে বিতরণ করে দাও। -বুখারী, মুসলিম
کتاب الحج
عَنْ أَنَسٍ « أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَتَى مِنًى ، فَأَتَى الْجَمْرَةَ فَرَمَاهَا ، ثُمَّ أَتَى مَنْزِلَهُ بِمِنًى وَنَحَرَ نُسُكُهُ ، ثُمَّ دَعَا باِلْحَلَّاقِ وَنَاوَلَ الْحَالِقَ شِقَّهُ الْأَيْمَنَ فَحَلَقَهُ ، ثُمَّ دَعَا أَبَا طَلْحَةَ الْأَنْصَارِيَّ فَأَعْطَاهُ إِيَّاهُ ، ثُمَّ نَاوَلَهُ الشِّقَّ الْأَيْسَرَ » ، فَقَالَ : « احْلِقْ فَحَلَقَهُ ، فَأَعْطَاهُ أَبَا طَلْحَةَ » ، فَقَالَ : « اقْسِمْهُ بَيْنَ النَّاسِ » (رواه البخارى ومسلم)
হাদীসের ব্যাখ্যা:
হযরত জাবের রাযি.-এর উপরের দীর্ঘ হাদীসে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর মাথা মুড়ানোর এ ঘটনাটি আলোচনা থেকে ছুটে গিয়েছে। অথচ এটা হজ্বের ধারাবাহিক কার্যসমূহের মধ্যে দশই যিলহজ্বের একটি বিশেষ আমল ও ইবাদত। এ হাদীস থেকে এ কথাও জানা গেল যে, মাথা মুড়ানোর সঠিক পদ্ধতি এটাই যে, প্রথমে ডান দিকের চুল পরিষ্কার করিয়ে নেওয়া হবে, তারপর বাম দিকের।
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এ ক্ষেত্রে নিজের কেশ মুবারক আবূ তালহা আনসারী রাযি.-কে দিয়েছিলেন। আবু তালহা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বিশেষ প্রিয়পাত্র ও তাঁর জন্য প্রাণ উৎসর্গকারীদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন। উহুদের যুদ্ধে হুযূর (ﷺ)কে কাফেরদের আক্রমণ থেকে রক্ষা করার জন্য তিনি শত্রুদের নিক্ষেপিত তীর নিজের শরীর পেতে গ্রহণ করতেন। এতে তার দেহে চালুনির মত অসংখ্য ছিদ্রের সৃষ্টি হয়। এছাড়াও তিনি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর সেবা ও আরামের প্রতি এবং তাঁর কাছে আগত মেহমান-মুসাফিরদের প্রতি বিশেষ লক্ষ্য রাখতেন। মোটকথা, এ ধরনের সেবাকার্যে তাঁর ও তাঁর স্ত্রী উম্মে সুলাইম (হযরত আনাসের মা)-এর একটা বিশেষ অবস্থান ছিল। সম্ভবত এসব বিশেষ খেদমত ও সেবার কারণে হুযুর (ﷺ) নিজের মাথার কেশ মুবারক তাকে দিয়েছিলেন এবং অন্যদের মাঝেও তার মাধ্যমে বিতরণ করেছিলেন। এ হাদীসটি আল্লাহওয়ালা ও পুণ্যবানদের তাবাররুক গ্রহণ করার বৈধতারও স্পষ্ট ভিত্তি ও দলীল।
অনেক স্থানে যে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর "কেশ মুবারক" রয়েছে বলে বলা হয়, এগুলোর মধ্য থেকে যেগুলোর বেলায় নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক তথ্য ও প্রমাণ রয়েছে, প্রবল ধারণা এটাই যে, এগুলো বিদায় হজ্বের সময় বিতরণকৃত ঐসব চুলেরই অংশ হবে। কোন কোন বর্ণনা দ্বারা জানা যায় যে, হযরত আবূ তালহা লোকদেরকে একটি একটি অথবা দু'টি দু'টি করে চুল বিলিয়েছিলেন। এভাবে এ চুলগুলো হাজার হাজার সাহাবায়ে কেরামের কাছে গিয়ে পৌঁছেছিল। আর এ কথাও স্পষ্ট যে, তাদের মধ্য থেকে প্রত্যেকেই এবং তাদের মৃত্যুর পর তাদের পরবর্তী প্রজন্ম এই পবিত্র তাবাররুকের হেফাযত করে থাকবে। এজন্য এগুলোর মধ্য থেকে অনেকগুলোই যদি এ পর্যন্তও কোথাও কোথাও সংরক্ষিত থেকে থাকে, তাহলে এটা কোন বিষ্ময়কর ব্যাপার নয়। কিন্তু নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক প্রমাণ ও সনদ ছাড়া কোন চুলকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর "কেশ মুবারক" সাব্যস্ত করা খুবই মারাত্মক কথা ও বিরাট গুনাহ্। আর সর্বাবস্থায় অর্থাৎ, আসল হোক অথবা কৃত্রিম- এটাকে এবং এর প্রদর্শনীকে ব্যবসার মাধ্যম বানিয়ে নেওয়া- যেমন, অনেক স্থানে হয়ে থাকে- জঘন্য অপরাধ।
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এ ক্ষেত্রে নিজের কেশ মুবারক আবূ তালহা আনসারী রাযি.-কে দিয়েছিলেন। আবু তালহা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বিশেষ প্রিয়পাত্র ও তাঁর জন্য প্রাণ উৎসর্গকারীদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন। উহুদের যুদ্ধে হুযূর (ﷺ)কে কাফেরদের আক্রমণ থেকে রক্ষা করার জন্য তিনি শত্রুদের নিক্ষেপিত তীর নিজের শরীর পেতে গ্রহণ করতেন। এতে তার দেহে চালুনির মত অসংখ্য ছিদ্রের সৃষ্টি হয়। এছাড়াও তিনি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর সেবা ও আরামের প্রতি এবং তাঁর কাছে আগত মেহমান-মুসাফিরদের প্রতি বিশেষ লক্ষ্য রাখতেন। মোটকথা, এ ধরনের সেবাকার্যে তাঁর ও তাঁর স্ত্রী উম্মে সুলাইম (হযরত আনাসের মা)-এর একটা বিশেষ অবস্থান ছিল। সম্ভবত এসব বিশেষ খেদমত ও সেবার কারণে হুযুর (ﷺ) নিজের মাথার কেশ মুবারক তাকে দিয়েছিলেন এবং অন্যদের মাঝেও তার মাধ্যমে বিতরণ করেছিলেন। এ হাদীসটি আল্লাহওয়ালা ও পুণ্যবানদের তাবাররুক গ্রহণ করার বৈধতারও স্পষ্ট ভিত্তি ও দলীল।
অনেক স্থানে যে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর "কেশ মুবারক" রয়েছে বলে বলা হয়, এগুলোর মধ্য থেকে যেগুলোর বেলায় নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক তথ্য ও প্রমাণ রয়েছে, প্রবল ধারণা এটাই যে, এগুলো বিদায় হজ্বের সময় বিতরণকৃত ঐসব চুলেরই অংশ হবে। কোন কোন বর্ণনা দ্বারা জানা যায় যে, হযরত আবূ তালহা লোকদেরকে একটি একটি অথবা দু'টি দু'টি করে চুল বিলিয়েছিলেন। এভাবে এ চুলগুলো হাজার হাজার সাহাবায়ে কেরামের কাছে গিয়ে পৌঁছেছিল। আর এ কথাও স্পষ্ট যে, তাদের মধ্য থেকে প্রত্যেকেই এবং তাদের মৃত্যুর পর তাদের পরবর্তী প্রজন্ম এই পবিত্র তাবাররুকের হেফাযত করে থাকবে। এজন্য এগুলোর মধ্য থেকে অনেকগুলোই যদি এ পর্যন্তও কোথাও কোথাও সংরক্ষিত থেকে থাকে, তাহলে এটা কোন বিষ্ময়কর ব্যাপার নয়। কিন্তু নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক প্রমাণ ও সনদ ছাড়া কোন চুলকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর "কেশ মুবারক" সাব্যস্ত করা খুবই মারাত্মক কথা ও বিরাট গুনাহ্। আর সর্বাবস্থায় অর্থাৎ, আসল হোক অথবা কৃত্রিম- এটাকে এবং এর প্রদর্শনীকে ব্যবসার মাধ্যম বানিয়ে নেওয়া- যেমন, অনেক স্থানে হয়ে থাকে- জঘন্য অপরাধ।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)