মা'আরিফুল হাদীস

হজ্ব অধ্যায়

হাদীস নং: ১৮২
হজ্ব অধ্যায়
হজ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রুকন হচ্ছে ৯ই যিলহজ্ব আরাফার ময়দানে ওকূফ ও অবস্থান করা। এটা যদি এক মুহূর্তের জন্যও লাভ হয়ে যায়, তাহলে হজ্ব নসীব হয়ে যায়। আর যদি কোন কারণে কোন হাজী এ দিন ও এর পরের রাতের কোন অংশেই আরাফায় পৌঁছতে না পারে, তাহলে তার হজ্ব ফওত হয়ে যায় অর্থাৎ, এ বছর তার হজ্বই ছুটে গেল। হজ্বের অন্যান্য রুকন ও কর্মকান্ড যথা তাওয়াফ, সায়ী, রমী ইত্যাদি যদি ছুটে যায়, তাহলে এগুলোর কোন না কোন কাফফারা ও প্রতিবিধানের ব্যবস্থা থাকে। কিন্তু ওকূফে আরাফা ছুটে গেলে এর কোন কাফফারা ও প্রতিবিধানের ব্যবস্থা নেই।
১৮২. হযরত আব্দুর রহমান ইবনে ইয়া'মার দুআলী রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে বলতে শুনেছি, হজ্ব হচ্ছে ওকূফে আরাফার নাম। (অর্থাৎ, এটা এমন রুকন, যার উপর হজ্ব নির্ভর করে।) যে ব্যক্তি মুযদালিফার রাতেও সুবহে সাদিকের পূর্বে আরাফায় পৌঁছে গেল, সে হজ্ব পেয়ে গেল। (কুরবানীর দিন অর্থাৎ, ১০ই যিলহজ্বের পর) মিনায় অবস্থানের দিন হচ্ছে তিনটি। (অর্থাৎ, ১১, ১২, ও ১৩ই যিলহজ্ব- যে দিনগুলোতে রমী করা হয়।) কেউ যদি দু'দিনে (অর্থাৎ, ১১ ও ১২ই যিলহজ্ব রমী করে) তাড়াতাড়ি মিনা থেকে চলে যায়, তাহলে এতে কোন গুনাহ্ নেই, আর কেউ যদি অতিরিক্ত একদিন থেকে (১৩ তারিখে রমী করে) সেখানে থেকে যায়; তাহলে এতেও কোন গুনাহ নেই। -তিরমিযী, আবু দাউদ, নাসায়ী, ইবনে মাজাহ, দারেমী
کتاب الحج
عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَعْمَُرَ ، قَالَ : سَمِعْتُ النَّبِىَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُوْلُ : الحَجُّ عَرَفَةٌ ، وَمَنْ أَدْرَكَ عَرَفَةَ قَبْلَ طُلُوْعِ الفَجْرِ فَقَدْ أَدْرَكَ الحَجَّ ..... أَيَّامُ مِنًى ثَلاَثَةٌ {فَمَنْ تَعَجَّلَ فِي يَوْمَيْنِ فَلاَ إِثْمَ عَلَيْهِ وَمَنْ تَأَخَّرَ فَلاَ إِثْمَ عَلَيْهِ....}. (رواه الترمذى وابوداؤد والنسائى وابن ماجه والدارمى)

হাদীসের ব্যাখ্যা:

যেহেতু ওকূফে আরাফার উপর হজ্ব নির্ভর করে, তাই এর মধ্যে এতটুকু সুযোগ রাখা হয়েছে যে, কেউ যদি ৯ই যিলহজ্ব দিনের বেলা আরাফায় পৌঁছতে না পারে, (যা হচ্ছে ওকূফের আসল সময়,) সে যদি পরবর্তী রাতের কোন অংশেও সেখানে পৌঁছে যায়, তাহলে তার ওকূফ আদায় হয়ে যাবে এবং সে হজ্ব থেকে বঞ্চিত গণ্য হবে না।

আরাফার দিনের পরের দিনটি অর্থাৎ, ১০ই যিলহজ্ব হচ্ছে কুরবানীর দিন। এ দিন একটি জামরায় রমী, কুরবানী ও মাথা মুড়ানোর পর ইহরামের বাধ্যবাধকতা শেষ হয়ে যায় এবং এ দিনেই মক্কায় গিয়ে তাওয়াফে যিয়ারত করতে হয়। তারপর মিনায় বেশীর চেয়ে বেশী তিন দিন আর কমপক্ষে দু'দিন অবস্থান করে তিনটি জামরাতেই পাথর নিক্ষেপ করা হজ্বের আহকামের অন্তর্ভুক্ত। তাই কোন ব্যক্তি যদি ১১ ও ১২ই যিলহজ্ব জামরায় পাথর নিক্ষেপ করে মিনা থেকে চলে যায়, তাহলে তার উপর কোন গুনাহ্ বর্তাবে না। আর কেউ যদি ১৩ তারিখও অবস্থান করে এবং পাথর নিক্ষেপ করে নেয়, তাহলে এটাও জায়েয।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান
মা'আরিফুল হাদীস - হাদীস নং ১৮২ | মুসলিম বাংলা