মা'আরিফুল হাদীস

হজ্ব অধ্যায়

হাদীস নং: ১৯০
হজ্ব অধ্যায়
কুরবানীর ফযীলত ও এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাধারণ দিকনির্দেশনা 'কিতাবুস্ সালাতে' ঈদুল আযহার বর্ণনায় করা হয়েছে। আর বিদায় হজ্বে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) যে নিজ হাতে ৬৩টি উট কুরবানী করেছিলেন এবং তাঁরই নির্দেশে হযরত আলী রাযি. ৩৭টি উট কুরবানী করেছিলেন, এর উল্লেখ বিদায় হজ্বের বর্ণনায় এসে গিয়েছে। এখানে কুরবানী সম্পর্কে কেবল দু'তিনটি হাদীস পাঠ করে নিনঃ
১৯০. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে কুরত রাযি. থেকে বর্ণিত, নবী করীম (ﷺ) বলেছেন: আল্লাহর নিকট সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ দিন হচ্ছে কুরবানীর দিন। (অর্থাৎ, আরাফার দিনের মত কুরবানীর দিনটিও খুবই মর্যাদাপূর্ণ।) তারপর হচ্ছে এর পরের দিন। (অর্থাৎ, ১১ই যিলহজ্ব। তাই যতদূর সম্ভব, কুরবানী ১০ তারিখেই করে নেওয়া চাই।) হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে কুরত বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে পাঁচটি অথবা ছয়টি উট কুরবানী করার জন্য আনা হল। এ সময় এগুলোর প্রত্যেকটিই তাঁর কাছে ঘেঁষতে লাগল- যাতে তিনি প্রথমে এটাকেই যবাহ্ করেন। -আবূ দাউদ
کتاب الحج
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ قُرْطٍ ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ : « إِنَّ أَعْظَمَ الْأَيَّامِ عِنْدَ اللَّهِ يَوْمُ النَّحْرِ ، ثُمَّ يَوْمُ الْقَرِّ » . (قَالَ ثَوْرٌ وَهُوَ الْيَوْمُ الثَّانِي) قَالَ : وَقُرِّبَ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَدَنَاتٌ خَمْسٌ أَوْ سِتٌّ فَطَفِقْنَ يَزْدَلِفْنَ إِلَيْهِ بِأَيَّتِهِنَّ يَبْدَأُ. (رواه ابوداؤد)

হাদীসের ব্যাখ্যা:

আল্লাহ্ তা'আলার এ কুদরত ও শক্তি রয়েছে যে, তিনি পশুদের মধ্যে এমনকি মাটি, পাথর ইত্যাদি প্রাণহীন বস্তুর মধ্যেও বাস্তবতার অনুভূতি সৃষ্টি করে দিতে পারেন। এই যে, ৫/৬টি উট, যেগুলো কুরবানীর জন্য রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর খেদমতে নিয়ে আসা হয়েছিল, এগুলোর মধ্যে আল্লাহ তা'আলা ঐ সময় এ অনুভূতি ও জ্ঞান পয়দা করে দিয়েছিলেন যে, আল্লাহর রাহে এবং তাঁর প্রিয়তম রাসূল মুহাম্মদ (ﷺ)-এর হাতে তাদের কুরবানী হওয়া কত বিরাট সৌভাগ্যের ব্যাপার। এ জন্য এগুলোর মধ্য থেকে প্রত্যেকটিই এ আকাঙ্ক্ষা নিয়ে হুযুর (ﷺ)-এর কাছে এসে ঘেঁষতে লাগল যে, প্রথমে যেন আমাকেই যাবাহ করা হয়।
কবির ভাষায়:
ہمہ آہوانِ صحرا سرِ خود نہادہ بر کف بہ اُمید آنکہ روزے بہ شکار خواہی آمد
মরুর হরিণগুলো নিজের মস্তক হাতের মুঠোয় করে এ আশায় দাঁড়িয়ে আছে যে, একদিন আমার প্রিয়তম আমাকে শিকার করতে আসবে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান
মা'আরিফুল হাদীস - হাদীস নং ১৯০ | মুসলিম বাংলা