মা'আরিফুল হাদীস

হজ্ব অধ্যায়

হাদীস নং: ২০২
হজ্ব অধ্যায়
মক্কার হারামের সম্মান ও মর্যাদা
২০২. হযরত আবু শুরাইহ আদাভী রাযি. থেকে বর্ণিত যে, তিনি আমর ইবনে সাঈদকে বলেছিলেন, যখন সে (ইয়াযীদের পক্ষ থেকে মদীনার শাসক ছিল এবং তার নির্দেশে আব্দুল্লাহ ইবনে যুবায়ের রাযি.-এর বিরুদ্ধে) মক্কায় আক্রমণ করার জন্য সৈন্য প্রেরণ করছিল। হে আমীর! আমাকে অনুমতি দিন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর একটি কথা আপনার কাছে বর্ণনা করব, যে কথাটি তিনি মক্কা বিজয়ের পরের দিন বলেছিলেন। আমি নিজ কানে এ কথাটি শুনেছিলাম, আমার অন্তর এটা সংরক্ষণ করেছিল এবং তিনি যখন কথা বলছিলেন, তখন আমার দুচোখ তাঁকে দেখছিল। তিনি প্রথমে আল্লাহর প্রশংসাবাদ করলেন। তারপর বললেন: মক্কাকে আল্লাহ্ তা'আলা সম্মানিত স্থান বানিয়েছেন, মানুষ এটাকে হারাম ও সম্মানিত স্থান বানায়নি। অতএব, যে ব্যক্তি আল্লাহ্ ও আখেরাতের উপর ঈমান রাখে, তার জন্য বৈধ ও হালাল নয় যে, সে এখানে রক্তপাত ঘটাবে অথবা কোন বৃক্ষ নিধন করবে। কেউ যদি আমার লড়াইকে প্রমাণ বানিয়ে এখানে লড়াই করার বৈধতা খুঁজে, তাহলে তোমরা বলে দাও যে, আল্লাহ তাঁর রাসূলকে এর অনুমতি দিয়েছিলেন, তোমাদেরকে অনুমতি দেননি। আর আমাকেও আল্লাহ্ তা'আলা একটি দিনের সামান্য সময়ের জন্য এ অনুমতি দিয়েছিলেন। এ সময় শেষ হয়ে যাওয়ার পর এর হুরমত ও নিষিদ্ধতা ফিরে এসেছে গতকালের মতই। (তাই এখন আর কিয়ামত পর্যন্ত কারো জন্য এর অনুমতি নেই।) তিনি আরো বললেন: উপস্থিত লোকেরা যেন অনুপস্থিতদেরকে একথা পৌছে দেয়। (এজন্যই আমীর সাহেব! আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর নির্দেশ পালনের জন্য তাঁর এ পয়গাম আপনাকে পৌঁছে দিলাম।)
হযরত আবূ শুরাইহকে জিজ্ঞাসা করা হল, আমর ইবনে সাঈদ (আপনার একথা শুনে) কি উত্তর দিল? আবূ শুরাইহ্ বললেন, সে উত্তর দিল যে, হে আবূ শুরাইহ্! আমি এ কথাগুলো তোমার চেয়ে বেশী জানি। মক্কার হারাম কোন অপরাধীকে আশ্রয় দেয় না এবং এমন কাউকেও আশ্রয় দেয় না, যে খুনের অপরাধ নিয়ে অথবা ফাসাদ সৃষ্টি করে পালিয়ে এসেছে। (অর্থাৎ, এমন লোকদের বিরুদ্ধে হারাম শরীফেও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।) -বুখারী, মুসলিম
کتاب الحج
عَنْ أَبِي شُرَيْحٍ ، أَنَّهُ قَالَ لِعَمْرِو بْنِ سَعِيدٍ : - وَهُوَ يَبْعَثُ البُعُوثَ إِلَى مَكَّةَ ائْذَنْ لِي أَيُّهَا الأَمِيرُ ، أُحَدِّثْكَ قَوْلًا قَامَ بِهِ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الغَدَ مِنْ يَوْمِ الفَتْحِ ، سَمِعَتْهُ أُذُنَايَ وَوَعَاهُ قَلْبِي ، وَأَبْصَرَتْهُ عَيْنَايَ حِينَ تَكَلَّمَ بِهِ : حَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ ، ثُمَّ قَالَ : " إِنَّ مَكَّةَ حَرَّمَهَا اللَّهُ ، وَلَمْ يُحَرِّمْهَا النَّاسُ ، فَلاَ يَحِلُّ لِامْرِئٍ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَاليَوْمِ الآخِرِ أَنْ يَسْفِكَ بِهَا دَمًا ، وَلاَ يَعْضِدَ بِهَا شَجَرَةً ، فَإِنْ أَحَدٌ تَرَخَّصَ لِقِتَالِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِيهَا ، فَقُولُوا : إِنَّ اللَّهَ قَدْ أَذِنَ لِرَسُولِهِ وَلَمْ يَأْذَنْ لَكُمْ ، وَإِنَّمَا أَذِنَ لِي فِيهَا سَاعَةً مِنْ نَهَارٍ ، ثُمَّ عَادَتْ حُرْمَتُهَا اليَوْمَ كَحُرْمَتِهَا بِالأَمْسِ ، وَلْيُبَلِّغِ الشَّاهِدُ الغَائِبَ " فَقِيلَ لِأَبِي شُرَيْحٍ مَا قَالَ عَمْرٌو قَالَ : أَنَا أَعْلَمُ مِنْكَ يَا أَبَا شُرَيْحٍ لاَ يُعِيذُ عَاصِيًا وَلاَ فَارًّا بِدَمٍ وَلاَ فَارًّا بِخَرْبَةٍ. (رواه البخارى ومسلم)

হাদীসের ব্যাখ্যা:

ইসলামের প্রথম শতাব্দীতেই রাজনৈতিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষী ও ক্ষমতালোভীরা ইসলামের সাথে যে আচরণ করেছে এবং এর বিধানাবলীকে যেভাবে ভেঙ্গে মুচড়ে দিয়েছে, এটা ইসলামের ইতিহাসের এক বিরাট পীড়াদায়ক অধ্যায়। আবূ শুরাইহ্ আদাভী যিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাহাবী ছিলেন-তিনি উমাইয়া শাসক আমর ইবনে সাঈদের সামনে হক কথা বলে এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বাণী শুনিয়ে দিয়ে নিজের দায়িত্ব পালন করেছেন। বুখারী ও মুসলিমের এ রেওয়ায়াতে এটা উল্লেখ করা হয়নি যে, আমর ইবনে সাঈদ যে কথা বলেছিল, এর প্রতিউত্তরে আবূ শুরাইহ্ রাযি. কিছু বলেছিলেন কিনা। কিন্তু মুসনাদে আহমাদের বর্ণনায় রয়েছে যে, তিনি বলেছিলেন,
قَدْ كُنْتُ شَاهِدًا، وَكُنْتَ غَائِبًا وَقَدْ أَمَرَنَا أَنْ يُبَلِّغَ شَاهِدُنَا غَائِبَنَا، وَقَدْ بَلَّغْتُكَ
রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এ কথা বলেছিলেন, তখন আমি উপস্থিত ছিলাম, আর তুমি উপস্থিত ছিলে না। আর তিনি আমাদেরকে এ নির্দেশও দিয়েছিলেন যে, আমাদের উপস্থিতরা যেন অনুপস্থিতদেরকে এ কথাগুলো পৌঁছে দেয়। তাই আমি তোমাকে এ কথা পৌঁছে দিলাম।

আবূ শুরাইহ আদাভী রাযি.-এর এ উত্তরের মধ্যে এ বিষয়টিও লুকায়িত রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বক্তব্যের উদ্দেশ্য ও অভিপ্রায় বুঝার অধিক হকদার তারাই, যাদের সামনে তিনি একথা বলেছিলেন এবং যারা ঐ সময় তাঁর এ কথা শুনেছিল।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান