মা'আরিফুল হাদীস
হজ্ব অধ্যায়
হাদীস নং: ২২০
হজ্ব অধ্যায়
রওযা শরীফের যিয়ারত
২২০. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: যে ব্যক্তি আমার কবর যিয়ারত করল, তার জন্য আমার শাফাআত ওয়াজিব হয়ে গেল। ইবনে খুযায়মা, দারাকুতনী, বায়হাকী
کتاب الحج
عَنِ ابْنِ عُمَرَ ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : " مَنْ زَارَ قَبْرِي وَجَبَتْ لَهُ شَفَاعَتِي ". (رواه ابن خزيمه فى صحيحه والدار قطنى والبيهقى)
হাদীসের ব্যাখ্যা:
'মা'আরিফুল হাদীস' সিরিজের প্রথম খন্ডে ঐসব হাদীস লিখে আসা হয়েছে, যেগুলোতে বলা হয়েছে যে, যে পর্যন্ত একজন উম্মতের অন্তরে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর ভালবাসা আল্লাহ্ তা'আলা ছাড়া দুনিয়াতে সকল জিনিস থেকে এমনকি নিজের পিতা-মাতা, আত্মীয়-স্বজন এবং স্বয়ং নিজের জীবনের চেয়ে অধিক না হবে, সে পর্যন্ত সে ঈমানের প্রকৃত স্বরূপ ও স্বাদ লাভ করতে পারবে না। রওযা শরীফের যিয়ারত নিঃসন্দেহে এ ভালবাসারই একটি অনিবার্য দাবী। আর এটা যেন এরই এক বাস্তব নমুনা। আরবী কবি বলেনঃ
أمر على الديار ديار ليلى ، أقبل ذا الجدار وذا الجدارا وما حب الديار شغفن قلبى ، ولكن حب من سكن الديارا
অর্থাৎ, আমি যখন লায়লার বাড়ীর পাশ দিয়ে যাই, তখন কখনো এ দেয়ালে চুমু খাই আর কখনো ঐ দেয়ালে। কিন্তু এ ঘরের ভালবাসা আমার অন্তরকে পাগল বানায়নি; বরং এ ঘরে যে বাস করে তার ভালবাসাই আমাকে এমন বানিয়ে দিয়েছে।
তাছাড়া যিয়ারতের সময় যিয়ারতকারীর অন্তরে যে ঈমানী আবেগ সৃষ্টি হয় এবং নবীর সান্নিধ্যে আসার বরকতে ঈমানী প্রতিজ্ঞার নবায়ন, গুনাহর জন্য অনুতাপ, আল্লাহর প্রতি অনুরাগ ও তওবা ইস্তিগফারের যে ঢেউ তার অন্তরে জাগে, এর সাথে নবীর ভালবাসার যে আবেগ দোলায়িত হয় এবং ভালবাসা ও অনুতাপ মিশ্রিত অনুভূতি তার চোখ থেকে যে অশ্রু ঝরিয়ে দেয়, এগুলোর মধ্য থেকে প্রতিটি জিনিসই এমন, যা নবীর শাফাআত; বরং আল্লাহর ক্ষমাকেও অনিবার্য করে দেয়। এজন্য এতে কোন সন্দেহ নেই যে, রওযা শরীফ যিয়ারতকারী প্রতিটি ঈমানদারের ভাগ্যেই নবীর শাফাআত নছীব হবে। হ্যাঁ, দুর্ভাগ্যক্রমে কোন যিয়ারতকারী যদি এমন হয় যে, তার অন্তরে এ ধরনের কোন আবেগ, অনুভূতি ও অবস্থাই সৃষ্টি না হয়, তাহলে মনে করতে হবে যে, তার অন্তর ঈমানের মূল চেতনা থেকে শূন্য। তাই তার যিয়ারত প্রকৃত যিয়ারত নয়; বরং শুধু যিয়ারতের আকৃতি ও রূপ। আর আল্লাহ্ ও রাসূলের নিকট কোন আমলেরই কেবল বাহ্যিকরূপ গ্রহণযোগ্য নয়।
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর রওযা শরীফ যিয়ারতের যেসব উপকারিতা, বরকত ও কল্যাণের কথা উপরে উল্লেখ করা হয়েছে, এগুলো সামনে রেখে যদি ঐসব হাদীসের চিন্তা করা হয়, যেগুলো এ যিয়ারতের প্রতি উৎসাহদানে বর্ণিত হয়েছে, তাহলে যদিও সনদের দিক দিয়ে এগুলোর উপর কথা বলা যেতে পারে; কিন্তু বিষয়গত দিক দিয়ে এগুলো দ্বীনি চিন্তা-চেতনা ও কর্মনীতির সাথে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যশীল মনে হবে এবং সুস্থ মস্তিষ্ক এর উপর সন্তুষ্ট হয়ে যাবে যে, কবর মুবারকের এ যিয়ারত আসলে কবরে শায়িত মহান সত্তা মহানবী (ﷺ)-এর সাথে ঈমানী সম্পর্ক, তাঁর প্রতি ভক্তি ও ভালবাসা এবং দ্বীনি উন্নতির বিশেষ ওসীলা। আমাদের বিশ্বাস, প্রতিটি ভাগ্যবান ঈমানদার বান্দা- যাকে আল্লাহ্ তা'আলা এ যিয়ারতের সৌভাগ্য দান করেছেন- এ কথার সাক্ষ্য দেবে।
রওযা শরীফ যিয়ারতের বিস্তারিত আদাব ও নিয়ম এ অধম তার রচিত "আপ কেয়সে হজ্ব করে" নামক কিতাবে লিখে দিয়েছে। পাঠকদের কাছে অনুরোধ, তারা যেন এটা অবশ্যই দেখে নেন। ইনশাআল্লাহ্ ঈমানী স্বাদ পাবেন।
أمر على الديار ديار ليلى ، أقبل ذا الجدار وذا الجدارا وما حب الديار شغفن قلبى ، ولكن حب من سكن الديارا
অর্থাৎ, আমি যখন লায়লার বাড়ীর পাশ দিয়ে যাই, তখন কখনো এ দেয়ালে চুমু খাই আর কখনো ঐ দেয়ালে। কিন্তু এ ঘরের ভালবাসা আমার অন্তরকে পাগল বানায়নি; বরং এ ঘরে যে বাস করে তার ভালবাসাই আমাকে এমন বানিয়ে দিয়েছে।
তাছাড়া যিয়ারতের সময় যিয়ারতকারীর অন্তরে যে ঈমানী আবেগ সৃষ্টি হয় এবং নবীর সান্নিধ্যে আসার বরকতে ঈমানী প্রতিজ্ঞার নবায়ন, গুনাহর জন্য অনুতাপ, আল্লাহর প্রতি অনুরাগ ও তওবা ইস্তিগফারের যে ঢেউ তার অন্তরে জাগে, এর সাথে নবীর ভালবাসার যে আবেগ দোলায়িত হয় এবং ভালবাসা ও অনুতাপ মিশ্রিত অনুভূতি তার চোখ থেকে যে অশ্রু ঝরিয়ে দেয়, এগুলোর মধ্য থেকে প্রতিটি জিনিসই এমন, যা নবীর শাফাআত; বরং আল্লাহর ক্ষমাকেও অনিবার্য করে দেয়। এজন্য এতে কোন সন্দেহ নেই যে, রওযা শরীফ যিয়ারতকারী প্রতিটি ঈমানদারের ভাগ্যেই নবীর শাফাআত নছীব হবে। হ্যাঁ, দুর্ভাগ্যক্রমে কোন যিয়ারতকারী যদি এমন হয় যে, তার অন্তরে এ ধরনের কোন আবেগ, অনুভূতি ও অবস্থাই সৃষ্টি না হয়, তাহলে মনে করতে হবে যে, তার অন্তর ঈমানের মূল চেতনা থেকে শূন্য। তাই তার যিয়ারত প্রকৃত যিয়ারত নয়; বরং শুধু যিয়ারতের আকৃতি ও রূপ। আর আল্লাহ্ ও রাসূলের নিকট কোন আমলেরই কেবল বাহ্যিকরূপ গ্রহণযোগ্য নয়।
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর রওযা শরীফ যিয়ারতের যেসব উপকারিতা, বরকত ও কল্যাণের কথা উপরে উল্লেখ করা হয়েছে, এগুলো সামনে রেখে যদি ঐসব হাদীসের চিন্তা করা হয়, যেগুলো এ যিয়ারতের প্রতি উৎসাহদানে বর্ণিত হয়েছে, তাহলে যদিও সনদের দিক দিয়ে এগুলোর উপর কথা বলা যেতে পারে; কিন্তু বিষয়গত দিক দিয়ে এগুলো দ্বীনি চিন্তা-চেতনা ও কর্মনীতির সাথে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যশীল মনে হবে এবং সুস্থ মস্তিষ্ক এর উপর সন্তুষ্ট হয়ে যাবে যে, কবর মুবারকের এ যিয়ারত আসলে কবরে শায়িত মহান সত্তা মহানবী (ﷺ)-এর সাথে ঈমানী সম্পর্ক, তাঁর প্রতি ভক্তি ও ভালবাসা এবং দ্বীনি উন্নতির বিশেষ ওসীলা। আমাদের বিশ্বাস, প্রতিটি ভাগ্যবান ঈমানদার বান্দা- যাকে আল্লাহ্ তা'আলা এ যিয়ারতের সৌভাগ্য দান করেছেন- এ কথার সাক্ষ্য দেবে।
রওযা শরীফ যিয়ারতের বিস্তারিত আদাব ও নিয়ম এ অধম তার রচিত "আপ কেয়সে হজ্ব করে" নামক কিতাবে লিখে দিয়েছে। পাঠকদের কাছে অনুরোধ, তারা যেন এটা অবশ্যই দেখে নেন। ইনশাআল্লাহ্ ঈমানী স্বাদ পাবেন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)