মা'আরিফুল হাদীস

আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়

হাদীস নং: ৫৭
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
সূরা যিলযাল, সূরা কাফিরুন ও সূরা ইখলাছ
৫৭. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস ও হযরত আনাস ইবনে মালেক রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: সূরা 'ইযা যুলযিলাত' কুরআনের অর্ধেকের সমান, 'কুল হুয়াল্লাহু আহাদ' কুরআনের এক তৃতীয়াংশের সমান, আর 'কুল ইয়া আইয়্যুহাল কাফিরুন' কুরআনের এক চতুর্থাংশের সমান। -তিরমিযী
کتاب الاذکار والدعوات
عَن ابْن عَبَّاس وَأنس بن مَالك رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِذَا زُلْزِلَتْ تَعْدِلُ نِصْفَ القُرْآنِ، وَ قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ تَعْدِلُ ثُلُثَ القُرْآنِ، وَ قُلْ يَا أَيُّهَا الكَافِرُونَ تَعْدِلُ رُبُعَ القُرْآنِ. (رواه الترمذى)

হাদীসের ব্যাখ্যা:

সূরা ইযা যুলযিলাতের মধ্যে কেয়ামতের আলোচনা ও এর চিত্রায়ণ খুবই মর্মস্পর্শী ভাষায় করা হয়েছে। এমনিভাবে এর শেষ আয়াত
فَمَنْ يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ خَيْرًا يَرَهُ وَمَنْ يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ شَرًّا يَرَهُ
এর মধ্যে পুরস্কার ও শাস্তির বর্ণনা সংক্ষিপ্তভাবে হলেও এমন মর্মস্পর্শী ভঙ্গিতে করা হয়েছে যে, যদি এ বিষয়ের উপর একটি পূর্ণাঙ্গ কিতাবও লিখা হয়, তবুও এর চেয়ে বেশী ফলপ্রসূ হবে না। সম্ভবত এ সূরার এই বৈশিষ্ট্যের কারণে এটাকে হাদীসে কুরআনের অর্ধাংশের সমান বলা হয়েছে। অনুরূপভাবে সূরা ইখলাসের মধ্যে অতি সংক্ষেপে আল্লাহর তওহীদ, তাঁর পবিত্রতা ও পরাকাষ্ঠা গুণ যে মুজেযাসুলভ ভঙ্গিমায় বর্ণনা করা হয়েছে, এটাও এ সূরার বৈশিষ্ট্য। আর সম্ভবত এ কারণেই এটাকে কুরআনের এক তৃতীয়াংশের সমান বলা হয়েছে। সূরা কাফিরুনের মধ্যে অত্যন্ত স্পষ্ট ভাবে শিরক ও মুশরিকদের থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়ে যেভাবে খাঁটি তওহীদের শিক্ষা দেওয়া হয়েছে, (যা হচ্ছে দ্বীন ইসলামের ভিত্তিমূল।) এটা হচ্ছে এ সূরার বৈশিষ্ট্য এবং সম্ভবত এ কারণেই এ হাদীসে এটাকে কুরআনের এক চতুর্থাংশের সমান বলা হয়েছে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান