মা'আরিফুল হাদীস

আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়

হাদীস নং: ৬১
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
সূরা যিলযাল, সূরা কাফিরুন ও সূরা ইখলাছ
৬১. হযরত আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ ﷺ জনৈক ব্যক্তিকে 'কুলহুয়াল্লাহু আহাদ' পাঠ করতে শুনতে পেয়ে বললেনঃ "তার জন্যে অপরিহার্য হয়ে গেছে।” আমি বললাম: কি ওয়াজিব হয়ে গেছে ইয়া রাসূলাল্লাহ? বললেন জন্নাত।
(মুয়াত্তা: ইমাম মালিক, জামে তিরমিযী ও সুনানে নাসায়ী)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِىَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَمِعَ رَجُلاً يَقْرَأُ: قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ اللَّهُ الصَّمَدُ فَقَالَ: وَجَبَتْ. قُلْتُ: مَا وَجَبَتْ؟ قَالَ: الجَنَّةُ. (رواه مالك والترمذى والنسائى)

হাদীসের ব্যাখ্যা:

সাহাবায়ে কিরাম, যাঁদের তা'লীম-তরবিয়ত সরাসরি রাসূলুল্লাহ ﷺ এর হাতেই হয়েছিল আর যারা প্রত্যেকটি আমলে তাঁর অনুসরণ-অনুকরণের ব্যাপারে পরম লালায়িত ছিলেন, তাঁদের কুরআন তিলাওয়াত কালে, বিশেষত সে সব খাস সূরা ও আয়াতের তিলাওয়াত কালে, যেগুলোতে আল্লাহর একত্ব ও তাঁর মহৎ গুণাবলীর অত্যন্ত কার্যকর ও মর্মস্পর্শী বর্ণনা রয়েছে, তখন নিশ্চয়ই দর্শক মাত্রই অনুভব করতেন যে, এটা তাঁদের অন্তরের অবস্থারই অভিব্যক্তি, তাঁদের রসনায় স্বয়ং আল্লাহর কথা বলেছেন! এ হাদীসে যে সাহাবীর 'কুলহুয়াল্লাহু' পাঠের উল্লেখ রয়েছে, তাঁর অবস্থাও নিশ্চয়ই এরূপই ছিল। হুযুর ﷺ সুস্পষ্ট ভাবে অনুভব করছিলেন যে, এ ব্যক্তি তাঁর পূর্ণ ঈমানী অবস্থা ও প্রত্যয়ী মন নিয়ে সেরূপ উৎসাহ-উদ্দীপনা সহকারে 'কুল হুয়াল্লাহু আহাদ' পাঠ করেছে। এহেন ব্যক্তির জন্যে জান্নাত যে অপরিহার্য, তা বলাই বাহুল্য। আল্লাহ তা'আলা সে নিয়ামতের কিছু অংশ আমাদের মত অভাগাদেরকেও দান করুন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান