মা'আরিফুল হাদীস

আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়

হাদীস নং: ৮২
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
দু'আর ব্যাপারে কয়েকটি দিকনির্দেশনা
৮২. হযরত আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। যে ব্যক্তি চায়, যে, বিপদ-আপদে আল্লাহ তার দু'আ কবুল করুন, তার উচিত সচ্ছল সময় বেশি বেশি করে দু'আ করা। -(জামে' তিরমিযী)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَنْ سَرَّهُ أَنْ يَسْتَجِيبَ اللَّهُ لَهُ عِنْدَ الشَّدَائِدِ فَلْيُكْثِرِ الدُّعَاءَ فِي الرَّخَاءِ. (رواه الترمذى)

হাদীসের ব্যাখ্যা:

অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, যারা কেবল দুর্দিনে ও সঙ্কটকালেই আল্লাহর দিকে নিবিষ্ট হয় এবং কেবল ঐ সময় আল্লাহর দরবারে কান্নাকাটি ও ফরিয়াদ করে থাকে তাঁর কাছে হাত কেবল ঐ সময়ই তাদের উঠে। আল্লাহর সাথে তাদের সম্পর্ক খুবই দুর্বল থাকে। আল্লাহর রহমতের প্রতি তাদের তেমন ভরসাও থাকেনা, যাতে দু'আয় প্রাণ সঞ্চার হয়ে থাকে। পক্ষান্তরে, যে বান্দা সর্বাবস্থায় দু'আ ও ফরিয়াদে অভ্যস্ত আল্লাহ তা'আলার সাথে তাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকে। আল্লাহর রহম ও করমের প্রতি তাদের দৃঢ় ভরসাও থাকে। এজন্যে অত্যন্ত স্বাভাবিক ভাবেই তাদের দু'আ হয় প্রাণবন্ত। রাসূলুল্লাহ ﷺ এ হাদীসে এ হিদায়াতই দিয়েছেন যে, বান্দার উচিত স্বাভাবিক অবস্থায় এবং সচ্ছল সময়ে সে যেন আল্লাহর দরবারে বেশি বেশি দু'আর অভ্যাস গড়ে তোলে। তাহলে তার সেই মর্যাদা হাসিল হবে যে, সঙ্কট কালে তার দু'আ ও ফরিয়াদ বিশেষভাবে কবুল হওয়ার মত হবে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান