মা'আরিফুল হাদীস
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
হাদীস নং: ৮৩
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
দু'আয় তাড়াহুড়া করতে বারণ
দু'আ হচ্ছে বান্দার তরফ থেকে সর্বশক্তিমান সকল ইখতিয়ারের মালিক আল্লাহর দরবারে আবেদন-নিবেদন স্বরূপ। তিনি ইচ্ছে করলে দু'আর মুহূর্তেই নগদ নগদ প্রার্থনা পূরণ করে তাকে তার প্রার্থিত বস্তু দিতে পারেন। কিন্তু এটা তাঁর হিকমত সিদ্ধ নয় যে যালুম ও যাহুল তথা এক বেঁহুশ গোঁয়ার বান্দার খাহেশ বা প্রবৃত্তির তিনি এতই পাবন্দী করবেন যে, যখন যা চাইল তখন তাই তাকে দিয়ে দিলেন, বরং অনেক সময় খোদ বান্দার মঙ্গল তা তাৎক্ষণিকভাবে না দেওয়ার মধ্যেই নিহিত থাকে। কিন্তু স্বভাগতভাবে তাড়াহুড়া পছন্দ মানুষ চায় যে, তার প্রার্থনা নগদ নগদ পূরণ করে তাৎক্ষণিকভাবে তার প্রার্থিত বস্তু তাকে দিয়ে দেওয়া হোক। যখন সে দু'আ তাৎক্ষণিক কবুল হওয়ার কোন লক্ষণ দেখতে পায় না, তখন নিরাশ ও হতাশ হয়ে সে দু'আ করাই ক্ষান্ত দেয়। এটা মানুষের এমনি একটা ভুল যে, সে-ও তার দু'আর কবুলিয়তের যোগ্যতা তাতে হারিয়ে বসে। তার এই তাড়াহুড়াই তখন যেন তার বঞ্চনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
দু'আ হচ্ছে বান্দার তরফ থেকে সর্বশক্তিমান সকল ইখতিয়ারের মালিক আল্লাহর দরবারে আবেদন-নিবেদন স্বরূপ। তিনি ইচ্ছে করলে দু'আর মুহূর্তেই নগদ নগদ প্রার্থনা পূরণ করে তাকে তার প্রার্থিত বস্তু দিতে পারেন। কিন্তু এটা তাঁর হিকমত সিদ্ধ নয় যে যালুম ও যাহুল তথা এক বেঁহুশ গোঁয়ার বান্দার খাহেশ বা প্রবৃত্তির তিনি এতই পাবন্দী করবেন যে, যখন যা চাইল তখন তাই তাকে দিয়ে দিলেন, বরং অনেক সময় খোদ বান্দার মঙ্গল তা তাৎক্ষণিকভাবে না দেওয়ার মধ্যেই নিহিত থাকে। কিন্তু স্বভাগতভাবে তাড়াহুড়া পছন্দ মানুষ চায় যে, তার প্রার্থনা নগদ নগদ পূরণ করে তাৎক্ষণিকভাবে তার প্রার্থিত বস্তু তাকে দিয়ে দেওয়া হোক। যখন সে দু'আ তাৎক্ষণিক কবুল হওয়ার কোন লক্ষণ দেখতে পায় না, তখন নিরাশ ও হতাশ হয়ে সে দু'আ করাই ক্ষান্ত দেয়। এটা মানুষের এমনি একটা ভুল যে, সে-ও তার দু'আর কবুলিয়তের যোগ্যতা তাতে হারিয়ে বসে। তার এই তাড়াহুড়াই তখন যেন তার বঞ্চনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
৮৩. হযরত আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেনঃ তোমাদের দু'আ তখন পর্যন্ত গ্রহণযোগ্য থাকে যাবৎ না তোমরা তাড়াহুড়া কর। (তাড়াহুড়া হচ্ছে এটা যে,) বান্দা বলতে শুরু করে দেয়, আমি তো দু'আ করেছি, কিন্তু আমার দু'আ কবুল হয় নি। -(বুখারী ও মুসলিম)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: " يُسْتَجَابُ لِأَحَدِكُمْ مَا لَمْ يَعْجَلْ، فَيَقُولُ: قَدْ دَعَوْتُ فَلَمْ يُسْتَجَبْ لِي " (رواه البخارى ومسلم)
হাদীসের ব্যাখ্যা:
এর মর্ম হচ্ছে এই যে, নিজের তাড়াহুড়া ও অস্থিরতার জন্যে বান্দা তার কুবূলিয়তের যোগ্যতা হারিয়ে বসে। এজন্যে বান্দার উচিত সর্বদা তাঁর দরজার ফকীর হয়ে থাকা এবং সর্বদা দু'আ করতে থাকা। তার এ দৃঢ় প্রত্যয় ও আশা পোষণ করা উচিত যে, ত্বরা হোক আর দেরীতেই হোক, আমার মনিব মাওলা অবশ্যই আমার দু'আ শুনবেন। তাঁর রহমতের দৃষ্টি আমার দিকে নিবিষ্ট হবে। কখনো কখনো কোন বিশুদ্ধচিত্ত যাচ্ঞাকারীর আন্তরিক দু'আও এজন্যে তাৎক্ষণিকভাবে কবুল করা হয় না, যেন সে তার এ নির্মল চিত্তের আন্তরিক দু'আ সে অব্যাহত ভাবে চালিয়ে যায়, যা তার উন্নতি ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের বিশেষ মাধ্যম বা ওসীলা হয়ে যায়। তার ইচ্ছ অনুযায়ী তাৎক্ষণিকভাবে সে দু'আ কবুল করে ফেললে এ বিরাট নিয়ামত থেকে সে বঞ্চিত রয়ে যেতো!
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)