মা'আরিফুল হাদীস
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
হাদীস নং: ৮৭
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
নিষিদ্ধ দু'আ
৮৭. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, তোমরা মৃত্যুর দু'আ ও আকাঙ্ক্ষা করবে না। কেউ যদি একান্তই সেরূপ দু'আ করতেই চায় (অর্থাৎ তার জীবন তার জন্য দুর্বিষহ হয়ে উঠে) তাহলে বলবে:
اَللّٰهُمَّ أَحْيِنِيْ مَا كَانَتْ الْحَيٰوةُ خَيْرًا لِي وَتَوَفَّنِي إِذَا كَانَتِ الْوَفَاةُ خَيْرًا لِي
-হে আল্লাহ। যে পর্যন্ত বেঁচে থাকা আমার জন্যে কল্যাণকর, সে পর্যন্ত আমাকে বাঁচিয়ে রাখ; আর যখন মৃত্যুই আমার জন্যে শ্রেয় তখন আমাকে মৃত্যু দান কর। -(সুনানে নাসায়ী)
اَللّٰهُمَّ أَحْيِنِيْ مَا كَانَتْ الْحَيٰوةُ خَيْرًا لِي وَتَوَفَّنِي إِذَا كَانَتِ الْوَفَاةُ خَيْرًا لِي
-হে আল্লাহ। যে পর্যন্ত বেঁচে থাকা আমার জন্যে কল্যাণকর, সে পর্যন্ত আমাকে বাঁচিয়ে রাখ; আর যখন মৃত্যুই আমার জন্যে শ্রেয় তখন আমাকে মৃত্যু দান কর। -(সুনানে নাসায়ী)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ أَنَسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " لَا تَدْعُوا بِالْمَوْتِ وَلَا تَتَمَنَّوْهُ، فَمَنْ كَانَ دَاعِيًا لَا بُدَّ فَلْيَقُلْ: اللَّهُمَّ أَحْيِنِي مَا كَانَتِ الْحَيَاةُ خَيْرًا لِي، وَتَوَفَّنِي إِذَا كَانَتِ الْوَفَاةُ خَيْرًا لِي " (رواه النسائى)
হাদীসের ব্যাখ্যা:
(এ হাদীস সমূহে আসলে সে মৃত্যুর দু'আ বা আকাঙ্ক্ষা থেকেই বারণ করা হয়েছে, যা কোন কষ্ট বা বিপদে পড়ে কেউ কামনা করে থাকে। কোন কোন হাদীসে তার স্পষ্ট উল্লেখও আছে। যেমন সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমে হযরত আনাস (রা) বর্ণিত হাদীসের পাঠেই আছে-
لَا يَتَمَنَّيْنَّ أَحَدُكُمُ الْمَوْتَ لِضُرٍّ نَزَلَ بِهِ (الْحَدِيث)
(তোমাদের কোন ব্যক্তি যেন তার উপর আপতিত কোন কষ্ট বা বিপদের দরুন মৃত্যু কামনা না করে।)
এমন অবস্থায় মৃত্যুর আকাঙ্ক্ষা ও দু'আ নিষিদ্ধ হওয়ার একটি কারণ তো হচ্ছে এই যে, তা সবর বা ধৈর্যের পরিপন্থী। আর অপর ও ততোধিক গুরুত্বপূর্ণ কারণটি হলো, মানুষ যতক্ষণ জীবিত থাকে ততক্ষণ তার জন্যে তওবা-ইস্তিগফারের মাধ্যমে নিজেকে পাক-সাফ করা এবং ইবাদত-বন্দেগী ও নেক আমলের ভাণ্ডার বৃদ্ধি করে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের পথ তার জন্যে খোলা থাকে, তাই মৃত্যুর দু'আ আসলে সে খোলা দরজাটা বন্ধ করারই দু'আ হয়ে দাঁড়ায়। বলাবাহুল্য তাতে বান্দার কেবল ক্ষতিই ক্ষতি। অবশ্য আল্লাহর খাস নৈকট্যধন্য বান্দা যখন তার নির্ধারিত সময় ঘনিয়ে আসে, তখন দীদারে এলাহীর আগ্রহের প্রাবল্যের দরুন কখনো কখনো মৃত্যুর আকাঙ্ক্ষা সূচক বাক্য তার মুখ দিয়ে বের হয়ে আসে। কুরআন হাদীসে হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালামের দু'আ উক্ত হয়েছে এরূপ-
فَاطِرَ السَّمٰوَاتِ وَالْأَرْضِ أَنْتَ وَلِيِّيْ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ تَوَفَّنِيْ مُسْلِمًا وَاَلْحِقْنِي بِالصَّالِحِينَ
হে আসমান যমীনের স্রষ্টা, দুনিয়া ও আখিরাতে তুমিই আমার মাওলা-মুনিব। আমাকে এমন অবস্থায় দুনিয়া থেকে উঠিয়ে নাও যখন আমি তোমার পূর্ণ অনুগত বান্দা এবং আমাকে তোমার নেককার বান্দাদের সাথে মিলিয়ে নাও।
অনুরূপ জীবনের অন্তিম মুহূর্তে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর দু'আ:
اَللّٰهُمَّ الرَّفِيقَ الْأَعْلٰى
(হে আল্লাহ! আমি রফীকে আলা তথা শ্রেষ্ট বন্ধুর সন্নিধান কামনা করছি) এ ধরনের দু'আ।
لَا يَتَمَنَّيْنَّ أَحَدُكُمُ الْمَوْتَ لِضُرٍّ نَزَلَ بِهِ (الْحَدِيث)
(তোমাদের কোন ব্যক্তি যেন তার উপর আপতিত কোন কষ্ট বা বিপদের দরুন মৃত্যু কামনা না করে।)
এমন অবস্থায় মৃত্যুর আকাঙ্ক্ষা ও দু'আ নিষিদ্ধ হওয়ার একটি কারণ তো হচ্ছে এই যে, তা সবর বা ধৈর্যের পরিপন্থী। আর অপর ও ততোধিক গুরুত্বপূর্ণ কারণটি হলো, মানুষ যতক্ষণ জীবিত থাকে ততক্ষণ তার জন্যে তওবা-ইস্তিগফারের মাধ্যমে নিজেকে পাক-সাফ করা এবং ইবাদত-বন্দেগী ও নেক আমলের ভাণ্ডার বৃদ্ধি করে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের পথ তার জন্যে খোলা থাকে, তাই মৃত্যুর দু'আ আসলে সে খোলা দরজাটা বন্ধ করারই দু'আ হয়ে দাঁড়ায়। বলাবাহুল্য তাতে বান্দার কেবল ক্ষতিই ক্ষতি। অবশ্য আল্লাহর খাস নৈকট্যধন্য বান্দা যখন তার নির্ধারিত সময় ঘনিয়ে আসে, তখন দীদারে এলাহীর আগ্রহের প্রাবল্যের দরুন কখনো কখনো মৃত্যুর আকাঙ্ক্ষা সূচক বাক্য তার মুখ দিয়ে বের হয়ে আসে। কুরআন হাদীসে হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালামের দু'আ উক্ত হয়েছে এরূপ-
فَاطِرَ السَّمٰوَاتِ وَالْأَرْضِ أَنْتَ وَلِيِّيْ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ تَوَفَّنِيْ مُسْلِمًا وَاَلْحِقْنِي بِالصَّالِحِينَ
হে আসমান যমীনের স্রষ্টা, দুনিয়া ও আখিরাতে তুমিই আমার মাওলা-মুনিব। আমাকে এমন অবস্থায় দুনিয়া থেকে উঠিয়ে নাও যখন আমি তোমার পূর্ণ অনুগত বান্দা এবং আমাকে তোমার নেককার বান্দাদের সাথে মিলিয়ে নাও।
অনুরূপ জীবনের অন্তিম মুহূর্তে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর দু'আ:
اَللّٰهُمَّ الرَّفِيقَ الْأَعْلٰى
(হে আল্লাহ! আমি রফীকে আলা তথা শ্রেষ্ট বন্ধুর সন্নিধান কামনা করছি) এ ধরনের দু'আ।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)