মা'আরিফুল হাদীস
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
হাদীস নং: ১১১
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
শেষ বৈঠকের কিছু দু'আ
১১১. হযরত কয়েস ইব্ন আব্বাদ (তাবেঈ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা সাহাবী আম্মার ইবনে ইয়াসীর (রা) অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত সালাত পড়ালেন (অর্থাৎ সালাতের ইমামতি করতে গিয়ে খুবই সংক্ষেপে সালাত সারলেন) লোকজনের মধ্যে তাতে চাপা গুঞ্জরণ দেখা দিল। তিনি বললেন: আমি কি রুকু সাজদা ঠিকমত আদায় করিনি? জবাবে লোকজন বললো, তা করেছেন। (তবে, আমাদের কাছে আপনার আদায়কৃত সালাত অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত ও দায়সারা গোছের মনে হয়েছে।)
তখন তিনি বললেন: এ সালাতে আমি এমন দু'আ করেছি যা নবী করীম ﷺ
সালাতে পড়তেন (আর তা হলো):
اَللّٰهُمَّ بِعِلْمِكَ الْغَيْبَ وَقُدْرَتِكَ عَلَى الْخَلْقِ أَحْيِنِيْ مَا عَلِمْتَ الْحَيَاةُ خَيْرًا لِيْ وَتَوَفَّنِيْ إِذَا عَلِمْتَ الْوَفَاةَ خَيْرًا لِيْ اَللّٰهُمَّ أَسْأَلُكَ خَشْيَتَكَ فِي الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ وَأَسْأَلُكَ كَلِمَةَ الْإِخْلَاصِ فِي الرِّضَا وَالْغَضَبِ وَأَسْأَلُكَ الْقَصْدَ فِي الْفَقْرِ وَالْغِنَى وَأَسْأَلُكَ نَعِيمًا لَا يَنْفَدُ وَأَسْأَلُكَ الرِّضَا بَعْدَ الْقَضَا وَأَسْأَلُكَ قُرَّةَ عَيْنٍ لَا تَنْقَطِعُ وَأَسْأَلُكَ بَرْدَ الْعَيْشِ بَعْدَ الْمَوْتِ وَأَسْأَلُكَ لَذَّةَ النَّظْرِ إِلَى وَجْهِكَ وَالشَّوْقَ إِلَى لِقَائِكَ فِي غَيْرِ ضَرَّاءَ مُضِرَّةٍ وَلَا فِتْنَةٍ مُضِلَّةِ اَللّٰهُمَّ زَيِّنَا بِزِينَةِ الْإِيْمَانِ وَاجْعَلْنَا هُدَاةً مُهْتَدِينَ.
হে আল্লাহ, তুমি আলেমুল গায়ব আর তোমার সমস্ত সৃষ্টির উপর তুমি পূর্ণ শক্তিমান, তোমার সে পূর্ণ জ্ঞান ও পূর্ণ ক্ষমতার দোহাই, তুমি আমাকে এ দুনিয়াতে জীবিত রাখ যতক্ষণ জীবিত থাকা আমার জন্যে কল্যাণকর বলে তুমি জান, আর ঠিক তখনই আমাকে মৃত্যু দান কর, যখন আমার মৃত্যু শ্রেয় বলে তুমি জান। হে আল্লাহ, আমি তোমার কাছে প্রার্থনা করছি তোমার ভয় নির্জনে ও জনসমক্ষে এবং তোমার কাছে প্রার্থনা করছি ইখলাসপূর্ণ কথাবার্তা (যাতে তোমার সন্তুষ্টি আমার একমাত্র কাম্য হবে) সন্তোষের মুহূর্তে ও ক্রোধের মুহূর্তে (অর্থাৎ শান্ত-সমাহিত স্বাভাবিক অবস্থাই হোক, অথবা ক্রুদ্ধ অবস্থাই হোক, কোন অবস্থায়ই যেন আমি সত্য ও ন্যায়ের পথ থেকে বিচ্যুত না হই কারো সন্তুষ্টির জন্যে বা কারো অসন্তুষ্টির ভয়ে) আর আমি তোমার কাছে প্রার্থনা করছি মধ্যম পন্থা অভাবকালে ও প্রাচুর্য ও সচ্ছলতার সময়ে। আর তোমার কাছে প্রার্থনা করছি এমন নিয়ামতরাশি, যা শেষ হয়ে যায় না এবং আমি তোমার কাছে প্রার্থনা করছি ললাট লিখনের উপর সন্তুষ্টি এবং তোমার নিকট প্রার্থনা করছি চোখের এমন শীতলতা, যা কোন দিন শেষ হয়ে যায় না। এবং আমি তোমার কাছে প্রার্থনা করছি মৃত্যু পরবর্তী শান্ত-সমাহিত আয়েশ-আরাম। আর তোমার নিকট প্রার্থনা করছি তোমার দীদার সুখ; এবং তোমার সাথে সাক্ষাতের আগ্রহ কোন অকল্যাণকর পরিস্থিতির উদ্ভব বিহনে এবং কোন বিভ্রান্তিকর বিপর্যয় ছাড়াই।
'হে আল্লাহ! আমাদেরকে ঈমানের ভূষণে ভূষিত করো এবং আমাদেরকে হিদায়াতপ্রাপ্ত এবং অন্যদের হিদায়াতের মাধ্যমে বানিয়ে দাও!' - (সুনানে নাসায়ী)
তখন তিনি বললেন: এ সালাতে আমি এমন দু'আ করেছি যা নবী করীম ﷺ
সালাতে পড়তেন (আর তা হলো):
اَللّٰهُمَّ بِعِلْمِكَ الْغَيْبَ وَقُدْرَتِكَ عَلَى الْخَلْقِ أَحْيِنِيْ مَا عَلِمْتَ الْحَيَاةُ خَيْرًا لِيْ وَتَوَفَّنِيْ إِذَا عَلِمْتَ الْوَفَاةَ خَيْرًا لِيْ اَللّٰهُمَّ أَسْأَلُكَ خَشْيَتَكَ فِي الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ وَأَسْأَلُكَ كَلِمَةَ الْإِخْلَاصِ فِي الرِّضَا وَالْغَضَبِ وَأَسْأَلُكَ الْقَصْدَ فِي الْفَقْرِ وَالْغِنَى وَأَسْأَلُكَ نَعِيمًا لَا يَنْفَدُ وَأَسْأَلُكَ الرِّضَا بَعْدَ الْقَضَا وَأَسْأَلُكَ قُرَّةَ عَيْنٍ لَا تَنْقَطِعُ وَأَسْأَلُكَ بَرْدَ الْعَيْشِ بَعْدَ الْمَوْتِ وَأَسْأَلُكَ لَذَّةَ النَّظْرِ إِلَى وَجْهِكَ وَالشَّوْقَ إِلَى لِقَائِكَ فِي غَيْرِ ضَرَّاءَ مُضِرَّةٍ وَلَا فِتْنَةٍ مُضِلَّةِ اَللّٰهُمَّ زَيِّنَا بِزِينَةِ الْإِيْمَانِ وَاجْعَلْنَا هُدَاةً مُهْتَدِينَ.
হে আল্লাহ, তুমি আলেমুল গায়ব আর তোমার সমস্ত সৃষ্টির উপর তুমি পূর্ণ শক্তিমান, তোমার সে পূর্ণ জ্ঞান ও পূর্ণ ক্ষমতার দোহাই, তুমি আমাকে এ দুনিয়াতে জীবিত রাখ যতক্ষণ জীবিত থাকা আমার জন্যে কল্যাণকর বলে তুমি জান, আর ঠিক তখনই আমাকে মৃত্যু দান কর, যখন আমার মৃত্যু শ্রেয় বলে তুমি জান। হে আল্লাহ, আমি তোমার কাছে প্রার্থনা করছি তোমার ভয় নির্জনে ও জনসমক্ষে এবং তোমার কাছে প্রার্থনা করছি ইখলাসপূর্ণ কথাবার্তা (যাতে তোমার সন্তুষ্টি আমার একমাত্র কাম্য হবে) সন্তোষের মুহূর্তে ও ক্রোধের মুহূর্তে (অর্থাৎ শান্ত-সমাহিত স্বাভাবিক অবস্থাই হোক, অথবা ক্রুদ্ধ অবস্থাই হোক, কোন অবস্থায়ই যেন আমি সত্য ও ন্যায়ের পথ থেকে বিচ্যুত না হই কারো সন্তুষ্টির জন্যে বা কারো অসন্তুষ্টির ভয়ে) আর আমি তোমার কাছে প্রার্থনা করছি মধ্যম পন্থা অভাবকালে ও প্রাচুর্য ও সচ্ছলতার সময়ে। আর তোমার কাছে প্রার্থনা করছি এমন নিয়ামতরাশি, যা শেষ হয়ে যায় না এবং আমি তোমার কাছে প্রার্থনা করছি ললাট লিখনের উপর সন্তুষ্টি এবং তোমার নিকট প্রার্থনা করছি চোখের এমন শীতলতা, যা কোন দিন শেষ হয়ে যায় না। এবং আমি তোমার কাছে প্রার্থনা করছি মৃত্যু পরবর্তী শান্ত-সমাহিত আয়েশ-আরাম। আর তোমার নিকট প্রার্থনা করছি তোমার দীদার সুখ; এবং তোমার সাথে সাক্ষাতের আগ্রহ কোন অকল্যাণকর পরিস্থিতির উদ্ভব বিহনে এবং কোন বিভ্রান্তিকর বিপর্যয় ছাড়াই।
'হে আল্লাহ! আমাদেরকে ঈমানের ভূষণে ভূষিত করো এবং আমাদেরকে হিদায়াতপ্রাপ্ত এবং অন্যদের হিদায়াতের মাধ্যমে বানিয়ে দাও!' - (সুনানে নাসায়ী)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ قَيْسِ بْنِ عُبَادٍ، قَالَ: صَلَّى عَمَّارُ بْنُ يَاسِرٍ بِالْقَوْمِ صَلَاةً أَخَفَّهَا، فَكَأَنَّهُمْ أَنْكَرُوهَا، فَقَالَ: أَلَمْ أُتِمَّ الرُّكُوعَ وَالسُّجُودَ؟ قَالُوا: بَلَى، قَالَ: أَمَا إِنِّي دَعَوْتُ فِيهَا بِدُعَاءٍ كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَدْعُو بِهِ: «اللَّهُمَّ بِعِلْمِكَ الْغَيْبَ، وَقُدْرَتِكَ عَلَى الْخَلْقِ، أَحْيِنِي مَا عَلِمْتَ الْحَيَاةَ خَيْرًا لِي، وَتَوَفَّنِي إِذَا عَلِمْتَ الْوَفَاةَ خَيْرًا لِي، وَأَسْأَلُكَ خَشْيَتَكَ فِي الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ، وَكَلِمَةَ الْإِخْلَاصِ فِي الرِّضَا وَالْغَضَبِ، وَأَسْأَلُكَ نَعِيمًا لَا يَنْفَدُ، وَقُرَّةَ عَيْنٍ لَا تَنْقَطِعُ، وَأَسْأَلُكَ الرِّضَاءَ بِالْقَضَاءِ، وَبَرْدَ الْعَيْشِ بَعْدَ الْمَوْتِ، وَلَذَّةَ النَّظَرِ إِلَى وَجْهِكَ، وَالشَّوْقَ إِلَى لِقَائِكَ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ ضَرَّاءَ مُضِرَّةٍ، وَفِتْنَةٍ مُضِلَّةٍ، اللَّهُمَّ زَيِّنَّا بِزِينَةِ الْإِيمَانِ، وَاجْعَلْنَا هُدَاةً مُهْتَدِينَ» (رواه النسائى)
হাদীসের ব্যাখ্যা:
হযরত আম্মার ইবনে ইয়াসির (রা) বর্ণিত এ হাদীস এবং এর পূর্ববর্তী হাদীসে একথার সুস্পষ্ট উল্লেখ নেই যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ ঠিক কোন অবস্থায় এ দু'আগুলো করতেন। তবে অন্যান্য হাদীসের আলোকে বুঝা যায় যে, তিনি এ দু'আগুলো সালাতের শেষ বৈঠকে সালাম ফিরানোর পূর্বেই করতেন। সালাতে এরূপ দু'আর এটাই হচ্ছে প্রকৃত ক্ষেত্র। এক্ষেত্রে পড়ার জন্যে হযরত আবূ বকর সিদ্দীক (রা)-এর দরখাস্তের প্রেক্ষিতে হুযুর ﷺ তাঁকে যে দু'আটি শিক্ষা দিয়েছিলেন, তা
اَللّٰهُمَّ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي ظُلْمًا كَثِيرًا -
দু'আটি মা'আরিফুল হাদীসের তৃতীয় খণ্ডে উল্লেখিত হয়েছে এবং এরই ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে কার্যকারণ ও দলীল প্রমাণাদি উল্লেখ করে বলা হয়েছে যে, এ সমস্ত দু'আর ক্ষেত্র হচ্ছে তাশাহহুদের পর এবং সালাম ফিরানোর পূর্ববর্তী সময়টাই।
اَللّٰهُمَّ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي ظُلْمًا كَثِيرًا -
দু'আটি মা'আরিফুল হাদীসের তৃতীয় খণ্ডে উল্লেখিত হয়েছে এবং এরই ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে কার্যকারণ ও দলীল প্রমাণাদি উল্লেখ করে বলা হয়েছে যে, এ সমস্ত দু'আর ক্ষেত্র হচ্ছে তাশাহহুদের পর এবং সালাম ফিরানোর পূর্ববর্তী সময়টাই।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)