মা'আরিফুল হাদীস

আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়

হাদীস নং: ১২৩
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
সকাল-সন্ধ্যার দু'আসমূহ
১২৩. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত। যখন সন্ধ্যা হতো, তখন রাসূলুল্লাহ ﷺ বলতেন:

أَمْسَيْنَا وَأَمْسَى الْمُلْكُ لِلَّهَ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ اَللّٰهُمَّ إِنِّي أسْأَلُكَ مِنْ خَيْرِ هٰذِهِ اللَّيْلَةِ وَخَيْرِ مَا فِيهَا وَاَعُوْذُ بِكَ مِنْ شَرِّهَا وَشَرِّ مَا فِيهَا.

"এ সন্ধ্যা এমন অবস্থায় হচ্ছে যে, আমরা এবং বিশ্বভুবনের সবকিছু আল্লাহরই, সমস্ত প্রশংসা একমাত্র সেই আল্লাহরই, তিনি ব্যতীত অন্য কোন উপাস্য নেই। তিনি একক, তাঁর কোন শরীক নেই। রাজত্ব ও প্রশংসা একমাত্র তাঁরই। তিনি প্রত্যেকটি বস্তুর উপর শক্তিমান।

হে আল্লাহ! এ আসন্ন রাত এবং এর মধ্যে নিহিত সকল মঙ্গল আমি তোমার কাছে প্রার্থনা করছি এবং এর যাবতীয় অনিষ্ট এবং এর মধ্যে নিহিত যাবতীয় অনিষ্ট থেকে আমি তোমার দরবারে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
হে আল্লাহ্! আমি তোমার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি আলস্য থেকে (যা মঙ্গল থেকে বঞ্চনার কারণ হয়ে থাকে) জরা থেকে, অতি বার্ধক্য থেকে, দুনিয়ার ফিৎনা ও কবরের আযাব থেকে। আবার যখন সকাল হতো তখন তিনি অনুরূপ বলতেন।
-(মুসলিম)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ عَبْدِ اللهِ، قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللهِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، إِذَا أَمْسَى قَالَ: «أَمْسَيْنَا وَأَمْسَى الْمُلْكُ لِلَّهِ، وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ، اللهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ مِنْ خَيْرِ هَذِهِ اللَّيْلَةِ، وَخَيْرِ مَا فِيهَا، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّهَا، وَشَرِّ مَا فِيهَا، اللهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْكَسَلِ، وَالْهَرَمِ، وَسُوءِ الْكِبَرِ، وَفِتْنَةِ الدُّنْيَا وَعَذَابِ الْقَبْرِ»وَإِذَا أَصْبَحَ قَالَ ذَلِكَ أَيْضًا: «أَصْبَحْنَا وَأَصْبَحَ الْمُلْكُ لِلَّهِ الخ» (رواه مسلم)

হাদীসের ব্যাখ্যা:

এ দু'আতে নিজের সত্তা এবং গোটা বিশ্বজাহানের উপর আল্লাহ তা'আলার আধিপত্যের স্বীকারোক্তি এবং তাঁর স্তব-স্তুতির সাথে সাথে তাঁর একত্ববাদের ঘোষণা রয়েছে। এছাড়া আছে রাত বা দিনের মধ্যে নিহিত মঙ্গলের প্রার্থনা এবং যে সব দুর্বলতা কল্যাণ ও সৌভাগ্য থেকে বঞ্চনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়, সেগুলো থেকে আশ্রয় প্রার্থনা। সর্বশেষে দুনিয়ার ফিৎনা ও কবরের আযাব থেকে মুক্তির দরখাস্ত। সুবহানাল্লাহ। কী ব্যাপক অর্থপূর্ণ দু'আ! নিজের বান্দা হওয়ার ও দীনতার কী অকুণ্ঠ স্বীকারোক্তিই না ফুটে উঠেছে এ দু'আটির মধ্যে!
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান