মা'আরিফুল হাদীস
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
হাদীস নং: ১৪৩
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
নিদ্রা থেকে গাত্রোত্থান কালীন দু'আ
১৪৩. হযরত উবাদা ইব্ন সামিত (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেনঃ যখন রাত্রে কোন ব্যক্তির নিদ্রা ভঙ্গ হয় এবং সে তখন বলেঃ
لَا اِلٰهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرُ الْحَمْدُ لِلَّهِ وَسُبْحَانَ اللهِ وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَاللهُ أَكْبَرُ وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ.
আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোন উপাস্য নেই। তিনি একক, তাঁর কোন শরীক নেই। রাজত্ব তাঁরই, সকল স্তব-স্তুতিও তাঁরই। প্রত্যেক বস্তুর উপরই তিনি পূর্ণ শক্তিমান। সকল প্রশংসা আল্লাহ্। আল্লাহ পবিত্র। কোন উপাস্য নেই একমাত্র আল্লাহ ব্যতীত। আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ। পুণ্য কাজ করার বা পাপ কাজ থেকে বেঁচে থাকার ক্ষমতা একমাত্র তাঁরই হাতে। তারপর বলবে:
اَللّٰهُمَّ اغْفِرْلِي
"হে আল্লাহ আমাকে ক্ষমা কর!" অথবা কোন দু'আ করবে, তার দু'আ কবুল হবে। তারপর সে যদি (সাহস করে উঠে যায় এবং) ওযু করে (এবং সালাত আদায় করে) তাহলে তার সালাতও কবুল করা হবে।
-(সহীহ্ বুখারী)
لَا اِلٰهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرُ الْحَمْدُ لِلَّهِ وَسُبْحَانَ اللهِ وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَاللهُ أَكْبَرُ وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ.
আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোন উপাস্য নেই। তিনি একক, তাঁর কোন শরীক নেই। রাজত্ব তাঁরই, সকল স্তব-স্তুতিও তাঁরই। প্রত্যেক বস্তুর উপরই তিনি পূর্ণ শক্তিমান। সকল প্রশংসা আল্লাহ্। আল্লাহ পবিত্র। কোন উপাস্য নেই একমাত্র আল্লাহ ব্যতীত। আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ। পুণ্য কাজ করার বা পাপ কাজ থেকে বেঁচে থাকার ক্ষমতা একমাত্র তাঁরই হাতে। তারপর বলবে:
اَللّٰهُمَّ اغْفِرْلِي
"হে আল্লাহ আমাকে ক্ষমা কর!" অথবা কোন দু'আ করবে, তার দু'আ কবুল হবে। তারপর সে যদি (সাহস করে উঠে যায় এবং) ওযু করে (এবং সালাত আদায় করে) তাহলে তার সালাতও কবুল করা হবে।
-(সহীহ্ বুখারী)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ عُبَادَةُ بْنُ الصَّامِتِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " مَنْ تَعَارَّ مِنَ اللَّيْلِ، فَقَالَ: لاَ إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ، لَهُ المُلْكُ وَلَهُ الحَمْدُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ، الحَمْدُ لِلَّهِ، وَسُبْحَانَ اللَّهِ، وَلاَ إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَاللَّهُ أَكْبَرُ، وَلاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ، ثُمَّ قَالَ: اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي، أَوْ دَعَا ، اسْتُجِيبَ لَهُ ، فَإِنْ تَوَضَّأَ قُبِلَتْ صَلاَتُهُ" (رواه البخارى)
হাদীসের ব্যাখ্যা:
হাদীসের উক্ত পাঠটি বুখারী শরীফ থেকে নেয়া। এতে কালিমা 'আলহামদুলিল্লাহ' উল্লেখিত হয়েছে সুবহানাল্লাহ এর পূর্বে। কিন্তু ইমাম বুখারী ছাড়া ইমাম আবু দাউদ, ইমাম তিরমিযী প্রমুখ যে সমস্ত ইমাম এ হাদীসখানা রিওয়ায়াত করেছেন তাঁদের রিওয়ায়াতে প্রথমে 'সুবহানাল্লাহ' এবং 'আলহামদুল্লিাহ' পরে রয়েছে যেমনটি কালিমায়ে তামজীদে আছে। এজন্যে হাফিয ইব্ন হাজার প্রমুখ বুখারী শরীফের ভাষ্যকারগণ বলেছেন যে, বুখারীর রিওয়ায়াতে আলহামদুলিল্লাহ পূর্বে বর্ণিত হওয়ার মূলে কোন রাবীর হাত রয়েছে। মোদ্দা কথা, ঐসব ভাষ্যকারের মতেও এ কালিমাগুলির ঐ ক্রম বা তরতীবই সহীহ, যা সুনানে আবূ দাউদ ও তিরমিযীর রিওয়ায়াতে রয়েছে। সে মতে এ তর্জমায় সেই তরতীব অনুযায়ী লিখিত হয়েছে।
এ হাদীসে সুসংবাদ দেয়া হয়েছে যে, যে বান্দা রাতের বেলা চোখ খুললে আল্লাহ তা'আলার তওহীদ, তসবীহ তহমীদ তথা তাঁর একত্ব, মাহাত্ম্য, পবিত্রতা ও প্রশংসামূলক এ কলিমাসমূহ পাঠ করে, তাঁরই দেওয়া শক্তি-সামর্থ্য ব্যতীত পুণ্য কাজ করার বা পাপকর্ম থেকে বেঁচে থাকার শক্তি কারো নেই বলে স্বীকারোক্তি করে এ দু'আটি পাঠ করবে এবং তারপর আল্লাহ তা'আলার নিকট নিজের মাগফিরাতের বা অন্য কোন দু'আ করবে, তা নিশ্চিতভাবেই কবুল হবে। অনুরূপ, ঐ সময় ওযু করে সালাত আদায় করলে তাও কবুল হবে। কোন কোন বুযুর্গ বলেন, যে বান্দার নিকট এ হাদীসটি পৌছলো সে যেন একে রাসূলুল্লাহ্ ﷺ-এর বিশেষ উপহাররূপে গণ্য করে এবং তাঁর প্রদত্ত এ সুসংবাদের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে সে মুতাবিক আমল করে ইস্তেগফার ও দু'আ কবুলের এ সুযোগ গ্রহণ করার জন্যে পূর্ণ যত্নবান হয়। নিঃসন্দেহে হুযুর ﷺ-এর এমন মূল্যবান উপহারের কদর না করা দুর্ভাগ্যেরই লক্ষণ। ইমাম বুখারীর যবানীতে সহীহ্ বুখারীর জনৈক রাবী ইমাম আবূ আবদুল্লাহ ফরবরী (রা) বলেন, একদা রাতের বেলা নিদ্রা যাওয়ার পর হঠাৎ আমার নিদ্রা ভঙ্গ হয়। আল্লাহ তাওফীক দিলেন আর আমি এ কালিমাগুলো পাঠ করলাম। তারপর আবার আমি ঘুমিয়ে পড়ি। স্বপ্নে দেখলাম, কে একজন আমার নিকট এসে এ আয়াত তিলাওয়াত করলেন:
وَهُدُوْا إِلَى الطَّيِّبِ مِنَ الْقَوْلِ وَهُدُوْ إِلَى صِرَاطِ الْحَمِيدِ
তাঁদের অনেক উত্তম কথার তওফীক নসীব হলো এবং তারা আল্লাহর পথে পরিচালিত হলো।"
(ফৎহুলবারী, ৮ম খণ্ড, পৃ. ৬১০)
এ হাদীসে সুসংবাদ দেয়া হয়েছে যে, যে বান্দা রাতের বেলা চোখ খুললে আল্লাহ তা'আলার তওহীদ, তসবীহ তহমীদ তথা তাঁর একত্ব, মাহাত্ম্য, পবিত্রতা ও প্রশংসামূলক এ কলিমাসমূহ পাঠ করে, তাঁরই দেওয়া শক্তি-সামর্থ্য ব্যতীত পুণ্য কাজ করার বা পাপকর্ম থেকে বেঁচে থাকার শক্তি কারো নেই বলে স্বীকারোক্তি করে এ দু'আটি পাঠ করবে এবং তারপর আল্লাহ তা'আলার নিকট নিজের মাগফিরাতের বা অন্য কোন দু'আ করবে, তা নিশ্চিতভাবেই কবুল হবে। অনুরূপ, ঐ সময় ওযু করে সালাত আদায় করলে তাও কবুল হবে। কোন কোন বুযুর্গ বলেন, যে বান্দার নিকট এ হাদীসটি পৌছলো সে যেন একে রাসূলুল্লাহ্ ﷺ-এর বিশেষ উপহাররূপে গণ্য করে এবং তাঁর প্রদত্ত এ সুসংবাদের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে সে মুতাবিক আমল করে ইস্তেগফার ও দু'আ কবুলের এ সুযোগ গ্রহণ করার জন্যে পূর্ণ যত্নবান হয়। নিঃসন্দেহে হুযুর ﷺ-এর এমন মূল্যবান উপহারের কদর না করা দুর্ভাগ্যেরই লক্ষণ। ইমাম বুখারীর যবানীতে সহীহ্ বুখারীর জনৈক রাবী ইমাম আবূ আবদুল্লাহ ফরবরী (রা) বলেন, একদা রাতের বেলা নিদ্রা যাওয়ার পর হঠাৎ আমার নিদ্রা ভঙ্গ হয়। আল্লাহ তাওফীক দিলেন আর আমি এ কালিমাগুলো পাঠ করলাম। তারপর আবার আমি ঘুমিয়ে পড়ি। স্বপ্নে দেখলাম, কে একজন আমার নিকট এসে এ আয়াত তিলাওয়াত করলেন:
وَهُدُوْا إِلَى الطَّيِّبِ مِنَ الْقَوْلِ وَهُدُوْ إِلَى صِرَاطِ الْحَمِيدِ
তাঁদের অনেক উত্তম কথার তওফীক নসীব হলো এবং তারা আল্লাহর পথে পরিচালিত হলো।"
(ফৎহুলবারী, ৮ম খণ্ড, পৃ. ৬১০)
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)