মা'আরিফুল হাদীস
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
হাদীস নং: ২৭৫
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
বারবার গুনাহ ও বারবার ইস্তিগফারকারী
২৭৫. হযরত আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বর্ণনা করেছেন, আল্লাহর কোন এক বান্দা একটি গুনাহ করে। তারপর সে বলল: "প্রভু, আমি একটি গুনাহ করে ফেলেছি। আমার সে গুনাহটি মাফ করে দাও!”
তখন আল্লাহ তা'আলা বললেন: আমার বান্দা কি জানে যে, তার একজন মালিক আছেন, তিনি তার গুনাহ মাফও করে দিতে পারেন, আবার ইচ্ছে করলে এজন্যে পাকড়াও করতেও পারেন? আমি আমার বান্দার গুনাহ মার্জনা করে দিলাম এবং তাকে মাফ করে দিলাম।
তারপর আল্লাহ যতদিন চাইলেন সে ব্যক্তি গুনাহ থেকে বিরত রইলো। তারপর এক সময় আবার গুনাহ করে বসলো। তারপর আবার বললো: প্রভু, আমি একটি গুনাহ করে ফেলেছি, তুমি তা মার্জনা করে দাও!
তখন আল্লাহ আবার বললেন: আমার বান্দা কি জ্ঞাত আছে যে, তার একজন রব আছেন, তিনি তাকে মার্জনাও করতে পারেন আবার ইচ্ছে করলে এজন্যে পাকড়াও করতে পারেন? আমি আমার বান্দাকে মাফ করে দিলাম।
তারপর আল্লাহ যতদিন চাইলেন, সে বান্দাটি গুনাহ থেকে বিরত রইলো। তারপর একসময় আবার আরেকটি গুনাহ করে বসলো। তারপর আবার বলে উঠলো:
প্রভু, আমি আরেকটি গুনাহ করে বসেছি। আমার সে গুনাহটি তুমি মার্জনা করে দাও! তারপর আল্লাহ আবার বললেন: আমার বান্দা কি জানে যে, তার একজন মনিব আছেন- যিনি তাকে মার্জনাও করতে পারেন, আবার পাকড়াও করতেও পারেন? আমি আমার বান্দার গুনাহ মার্জনা করে দিলাম। এবার সে যা ইচ্ছে তাই করুক!
(সহীহ্ বুখারী ও সহীহ্ মুসলিম)
তখন আল্লাহ তা'আলা বললেন: আমার বান্দা কি জানে যে, তার একজন মালিক আছেন, তিনি তার গুনাহ মাফও করে দিতে পারেন, আবার ইচ্ছে করলে এজন্যে পাকড়াও করতেও পারেন? আমি আমার বান্দার গুনাহ মার্জনা করে দিলাম এবং তাকে মাফ করে দিলাম।
তারপর আল্লাহ যতদিন চাইলেন সে ব্যক্তি গুনাহ থেকে বিরত রইলো। তারপর এক সময় আবার গুনাহ করে বসলো। তারপর আবার বললো: প্রভু, আমি একটি গুনাহ করে ফেলেছি, তুমি তা মার্জনা করে দাও!
তখন আল্লাহ আবার বললেন: আমার বান্দা কি জ্ঞাত আছে যে, তার একজন রব আছেন, তিনি তাকে মার্জনাও করতে পারেন আবার ইচ্ছে করলে এজন্যে পাকড়াও করতে পারেন? আমি আমার বান্দাকে মাফ করে দিলাম।
তারপর আল্লাহ যতদিন চাইলেন, সে বান্দাটি গুনাহ থেকে বিরত রইলো। তারপর একসময় আবার আরেকটি গুনাহ করে বসলো। তারপর আবার বলে উঠলো:
প্রভু, আমি আরেকটি গুনাহ করে বসেছি। আমার সে গুনাহটি তুমি মার্জনা করে দাও! তারপর আল্লাহ আবার বললেন: আমার বান্দা কি জানে যে, তার একজন মনিব আছেন- যিনি তাকে মার্জনাও করতে পারেন, আবার পাকড়াও করতেও পারেন? আমি আমার বান্দার গুনাহ মার্জনা করে দিলাম। এবার সে যা ইচ্ছে তাই করুক!
(সহীহ্ বুখারী ও সহীহ্ মুসলিম)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنَّ عَبْدًا أَذْنَبَ ذَنْبًا فَقَالَ: رَبِّ أَذْنَبْتُ فَاغْفِرْهُ، فَقَالَ رَبُّهُ: أَعَلِمَ عَبْدِي أَنَّ لَهُ رَبًّا يَغْفِرُ الذَّنْبَ وَيَأْخُذُ بِهِ؟ غَفَرْتُ لِعَبْدِي، ثُمَّ مَكَثَ مَا شَاءَ اللَّهُ ثُمَّ أَذْنَبَ ذَنْبًا، َقَالَ: رَبِّ أَذْنَبْتُ ذَنْبًا فَاغْفِرْهُ، فَقَالَ: أَعَلِمَ عَبْدِي أَنَّ لَهُ رَبًّا يَغْفِرُ الذَّنْبَ وَيَأْخُذُ بِهِ؟ غَفَرْتُ لِعَبْدِي، ثُمَّ مَكَثَ مَا شَاءَ اللَّهُ، ثُمَّ أَذْنَبَ ذَنْبًا، قَالَ: قَالَ: أَذْنَبْتُ ذَنْبًا آخَرَ فَاغْفِرْهُ لِي، فَقَالَ: أَعَلِمَ عَبْدِي أَنَّ لَهُ رَبًّا يَغْفِرُ الذَّنْبَ وَيَأْخُذُ بِهِ؟ غَفَرْتُ لِعَبْدِي فَلْيَفْعَلْ مَا شَاءَ " (رواه البخارى ومسلم)
হাদীসের ব্যাখ্যা:
এ হাদীসে রাসূলুল্লাহ ﷺ বার বার গুনাহ এবং বারবার ইস্তিগফারকারী যে বান্দাটির কথা বলেছেন, কোন কোন ভাষ্যকার বলেন, হতে পারে এটা তাঁরই কোন উম্মতের ঘটনা, আবার এটা পূর্ববর্তী নবী-রাসূলগণের কারো উম্মতের ঘটনাও হতে পারে। কিন্তু এ লেখকের ধারণা, অধিকতর যুক্তিসঙ্গত কথা হলো, এটা কোন ব্যক্তি বিশেষের ঘটনার বর্ণনা নয়; বরং এটা একটা চরিত্রের বর্ণনা। আল্লাহ তা'আলার লাখ লাখ কোটি কোটি বান্দার অবস্থা এমন হতে পারে যে, আল্লাহ ও আখিরাতের প্রতি বিশ্বাসী হওয়া সত্ত্বেও তাদের দ্বারা গুনাহ হয়ে যায়, তারপর তারা লজ্জিত-অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহ তা'আলার হুযুরে ক্ষমা প্রার্থনা করে; কিন্তু তারপরও গুনাহর পুনরাবৃত্তি ঘটে এবং তারা প্রত্যেকবারই সাচ্চা দেলে তাওবা করে থাকে। এমন বান্দাদের সাথে আল্লাহ তা'আলার এরূপ বদান্যশীল আচরণ হয়ে থাকে- যা এ হাদীসে বিবৃত হয়েছে।
সর্বশেষ বার ইস্তিগফার এবং ক্ষমার ঘোষণার সাথে সাথে বলা হয়েছে غَفَرْتُ لِعَبْدِي فَلْيَفْعَلْ مَاشَاءَ (আমি আমার বান্দাকে মাফ করে দিলাম, এখন তার যা মনে চায় তাই করুক।) এর অর্থ এই নয় যে, অনুমতি পেয়ে গেল, বরং এ শব্দগুলোর দ্বারা বান্দার মালিকের পক্ষ থেকে শুধু এতটুকু দয়ার ঘোষণাই করা হয়েছে যে, বান্দা এরূপ যতবারই গুনাহ করে করে ইস্তিগফার করতে থাকবে আমিও ততবারই তোকে ক্ষমা করতে থাকবো। সাচ্চা দেলের মু'মিন সুলভ ইস্তিগফারের কারণে গুনাহর বিষে তুই ধ্বংসপ্রাপ্ত হবি না, বরং ইস্তগফার সর্বদা বিষনাশকের কাজ করতে থাকবে।
আল্লাহ তা'আলা তাঁর যে সব বান্দাকে ইবাদত-বন্দেগীর কিছু রুচিশীলতা প্রদান করেছেন, তাঁরাই কেবল উপলব্ধি করতে পারেন যে, এমন বদান্যতাপূর্ণ ঘোষণার কী প্রভাব একজন মু'মিন বান্দার অন্তরের উপর পড়তে পারে এবং এর ফলে তাঁর মনে মালিক ও মওলার কী পরিমাণ আনুগত্য ও বিশ্বস্ততার সঙ্কল্প জাগতে পারে।
এ হাদীসের সহীহ্ মুসলিমের রিওয়ায়াতে পরিষ্কারভাবে বিবৃত হয়েছে যে, হাদীসের এ পূর্ণ বক্তব্য রাসূলুল্লাহ ﷺ আল্লাহ তা'আলার বরাতে বর্ণনা করেছেন। এ রিওয়ায়াত অনুসারে এ হাদীসটি হাদীসে কুদসী শ্রেণীভুক্ত।
সর্বশেষ বার ইস্তিগফার এবং ক্ষমার ঘোষণার সাথে সাথে বলা হয়েছে غَفَرْتُ لِعَبْدِي فَلْيَفْعَلْ مَاشَاءَ (আমি আমার বান্দাকে মাফ করে দিলাম, এখন তার যা মনে চায় তাই করুক।) এর অর্থ এই নয় যে, অনুমতি পেয়ে গেল, বরং এ শব্দগুলোর দ্বারা বান্দার মালিকের পক্ষ থেকে শুধু এতটুকু দয়ার ঘোষণাই করা হয়েছে যে, বান্দা এরূপ যতবারই গুনাহ করে করে ইস্তিগফার করতে থাকবে আমিও ততবারই তোকে ক্ষমা করতে থাকবো। সাচ্চা দেলের মু'মিন সুলভ ইস্তিগফারের কারণে গুনাহর বিষে তুই ধ্বংসপ্রাপ্ত হবি না, বরং ইস্তগফার সর্বদা বিষনাশকের কাজ করতে থাকবে।
আল্লাহ তা'আলা তাঁর যে সব বান্দাকে ইবাদত-বন্দেগীর কিছু রুচিশীলতা প্রদান করেছেন, তাঁরাই কেবল উপলব্ধি করতে পারেন যে, এমন বদান্যতাপূর্ণ ঘোষণার কী প্রভাব একজন মু'মিন বান্দার অন্তরের উপর পড়তে পারে এবং এর ফলে তাঁর মনে মালিক ও মওলার কী পরিমাণ আনুগত্য ও বিশ্বস্ততার সঙ্কল্প জাগতে পারে।
এ হাদীসের সহীহ্ মুসলিমের রিওয়ায়াতে পরিষ্কারভাবে বিবৃত হয়েছে যে, হাদীসের এ পূর্ণ বক্তব্য রাসূলুল্লাহ ﷺ আল্লাহ তা'আলার বরাতে বর্ণনা করেছেন। এ রিওয়ায়াত অনুসারে এ হাদীসটি হাদীসে কুদসী শ্রেণীভুক্ত।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)