মা'আরিফুল হাদীস

আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়

হাদীস নং: ২৭৭
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
কতক্ষণ পর্যন্ত তাওবা গ্রহণযোগ্য?
২৭৭. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন : আল্লাহ তা'আলা বান্দার তাওবা ততক্ষণ পর্যন্ত কবুল করেন, যাবৎ না মৃত্যুযাতনা শুরু হয়ে তার গড়গড় শব্দ হতে থাকে। (জামে' তিরমিযী ও সুনানে আবু দাউদ)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ اللَّهَ يَقْبَلُ تَوْبَةَ الْعَبْدِ مَا لَمْ يُغَرْغِرْ» (رواه الترمذى وابن ماجه)

হাদীসের ব্যাখ্যা:

মৃত্যু লগ্নে যখন বান্দার রূহ তার দেহ থেকে বের হতে শুরু করে তখন তার কণ্ঠ নালীতে শব্দ হতে থাকে। আরবীতে একেই বলা হয়ে থাকে গরগরা। এর পর আর জীবনের কোন আশা অবশিষ্ট থাকে না। এটা মৃত্যুর নিশ্চিত ও আখেরী আলামত। এ হাদীসে বলা হয়েছে যে, মৃত্যুর এ আখেরী লক্ষণ পরিস্ফুট হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত যদি বান্দা তাওবা করে নেয় তা হলে আল্লাহ তা'আলা তার তাওবা কবুল করবেন। গরগরার এ অবস্থা শুরু হওয়ার পর দুনিয়া থেকে বান্দার সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে আখিরাত বা পরকালের সাথে তার সংযোগ কায়েম হয়ে যায়। এজন্যে এ সময় যদি কোন কাফির বা মুশরিক ঈমান আনয়ন করে বা কোন গুনাহগার বান্দা গুনাহরাশি থেকে তাওবা করে তাহলে তা আল্লাহ্ দরবারে কবুল হবে না। যতক্ষণ পর্যন্ত জীবনের আশা বাকি থাকে, ততক্ষণ পর্যন্তই তাওবা কবুল হয়। মৃত্যু চোখের সম্মুখে ভেসে উঠলে সে সুযোগ আর অবশিষ্ট থাকে না। কুরআনে পাকেও এসত্যটি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষিত হয়েছে:

وَلَيْسَتِ التَّوْبَةُ لِلَّذِينَ يَعْمَلُونَ السَّيِّئَاتِ حَتَّى إِذَا حَضَرَ أَحَدَهُمُ الْمَوْتُ قَالَ إِنِّي تُبْتُ الْآنَ

"এমন লোকদের তাওবা প্রকৃত পক্ষে তাওবাই নয়, যারা গুনাহ করে যেতে থাকে, শেষ পর্যন্ত যখন তাদের কারো কাছে মৃত্যু উপস্থিত হয়, তখন বলে: এখন আমি তাওবা করছি।"
(আন নিসাঃ ৩য় রুকু)

হাদীসের বক্তব্যের উৎস যে এ আয়াতটিই, তা বলাই বাহুল্য। আর এর পয়গাম হচ্ছে এই যে, তাওবার ব্যাপারে বান্দার টালবাহানা বা দীর্ঘসূত্রিতা অবলম্বন করা উচিত নয়। কে জানে কখন মৃত্যুক্ষণ এসে উপস্থিত হয়ে যায় আর আল্লাহ না করুন তাওবার সময়-সুযোগই হাত ছাড়া হয়ে যায়।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান