মা'আরিফুল হাদীস

আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়

হাদীস নং: ২৭৯
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
মুমূর্ষু ব্যক্তিদের জন্য সর্বোৎকৃষ্ট তওবা: ইস্তিগফার
২৭৯. হযরত আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে কোন মৃত নেককার বান্দার মর্যাদা জান্নাতে বৃদ্ধি করে দেয়া হয়। তখন সে জান্নাতী বান্দা জিজ্ঞেস করে, প্রভু! আমার এ মর্যাদা বৃদ্ধি কিসে ঘটলো? উত্তরে আল্লাহ তা'আলা বলেন: তোমার জন্যে তোমার অমুক সন্তানের ইস্তিগফারের বদৌলতে।
(মুসনদে আহমদ)
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ لَيَرْفَعُ الدَّرَجَةَ لِلْعَبْدِ الصَّالِحِ فِي الْجَنَّةِ، فَيَقُولُ: يَا رَبِّ، أَنَّى لِي هَذِهِ؟ فَيَقُولُ: بِاسْتِغْفَارِ وَلَدِكَ لَكَ " (رواه احمد)

হাদীসের ব্যাখ্যা:

এ হাদীসে আওলাদের দু'আর বদৌলতে দরযা বুলন্দি বা মর্যাদা বৃদ্ধির কথাটি রূপকভাবে বলা হয়েছে। নতুবা অন্যান্য আত্মীয় স্বজনের দু'আও এরূপ উপকারী প্রতিপন্ন হয়ে থাকে। জীবদ্দশায় যেভাবে সন্তানের উপর পিতামাতার হক সর্বাধিক এবং তাঁদের খিদমত ও আনুগত্য করা ফরয, তেমনি তাদের মৃত্যুর পরও সন্তানের উপর তাঁদের খাস হক হলো তাঁদের জন্যে রহমত ও মাগফিরাতের দু'আ করা। তাঁদের মৃত্যুর পর তাঁদের খিদমত এবং তাঁদের প্রতি সদ্ব্যবহার করার এটাই হচ্ছে খাস পন্থা।

হযরত আবদুল্লাহ ইব্‌ন আব্বাস (রা) এবং হযরত আবূ হুরায়রা (রা)-এর উক্ত দুটি হাদীসের উদ্দেশ্য কেবল একটি মূলতত্ত্ব সম্পর্কে অবহিত করাই নয়, বরং এক আলঙ্কারিক ভঙ্গিতে আওলাদ এবং অন্যান্য আত্মীয়-স্বজনকে এতে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে, যেন তারা মৃত ব্যক্তিদের জন্যে রহমত ও মাগফিরাতের দু'আ করতে থাকেন। তাদের এ উপঢৌকন কবর এবং জান্নাতে পর্যন্ত মরহুম ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছে যাবে।

এ অধম লেখক বলছে, আল্লাহ তা'আলা কখনো কখনো তাঁর কোন কোন বান্দাকে প্রত্যক্ষ করিয়ে দেন যে, কারো দু'আ দ্বারা কোন বান্দা ঐ জগতে কী লাভকরেছেন এবং তাঁদের অবস্থার কী দারুণ পরিবর্তন ঘটেছে।

আল্লাহ তা'আলা এসব বস্তুর তত্ত্বের বিশ্বাস আমাদের অন্তরে প্রতিষ্ঠিত করে দিন এবং এর দ্বারা ফায়দা উঠাবার তাওফীক দান করুন!
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান